শনিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2023
বাড়িঅন্য খবররাজীব কুমারকে এখনি গ্রেফতার নয়, সিবিআই এর সামনে হাজিরার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।খুশি...

রাজীব কুমারকে এখনি গ্রেফতার নয়, সিবিআই এর সামনে হাজিরার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।খুশি মমতা।

৫/২/১৯,ওয়েবডেস্কঃসিবিআই তথা কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের পুলিশ কমিশনার তথা রাজ্য সরকারের টানটান দ্বৈরথে সাময়িক বিরতি সম্ভবত আসতে চলেছে এবার।সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হলেও তা নিরপেক্ষ জায়গায় করার নির্দেশ এবং গ্রেপ্তারীর পদ্ধতি কার্যকর না করতে পারার রায়ে স্বভাবতই স্বস্তিতে রাজ্য প্রশাসন।আজ সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেয়, সিবিআইয়ের তদন্তে সবরকম সাহায্য করতে হবে রাজীব কুমারকে। তবে তাঁকে এখনই গ্রেফতার করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সে রকম কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

এ দিন সকালে শুনানি শুরু হতেই প্রথমে সিবিআইয়ের তরফে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই চিটফান্ডের তদন্ত ভার নিয়েছিল সিবিআই। তার আগে চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম তথা এসআইটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। এসআইটি-র নেতৃত্বে ছিলেন রাজীব কুমার। তদন্তের সময়ে তাঁরা প্রচুর নথিপত্র, ইলেকট্রনিক তথ্য প্রমাণ, কল রেকর্ড ইত্যাদি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বারবার সেগুলি চাওয়া সত্ত্বেও তা তুলে দেওয়া হয়নি সিবিআইয়ের হাতে।এমনকি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বার বার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তিনি সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ আসে সিবিআই এর তরফে।
এর পরই রাজ্য সরকারের তরফে কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে যে ভাবে সিবিআই হানা দিয়েছে তার আসল উদ্দেশ্য হল তাঁকে অপদস্থ করা। যদিও সিবিআই এর তরফে তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআরও করা হয়নি।
অভিষেক আরও বলেন, সিবিআই যদি তদন্তের ব্যাপারে সত্যিই সিরিয়াস হতো, তা হলে রাজীব কুমারকে কিছুদিন পর পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো যেতো। কিন্তু একবার নোটিস পাঠানোর পর পরের নোটিস পাঠানোর মধ্যে এক বছর পার!এমনকি রবিবার সিক্রেট অপারেশন চালানোর মতো কোন তাড়াও আগে দেখা যায়নি সিবিআই এর তরফে। অথচ কলকাতার পুলিশ কমিশনার সিবিআইকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় তিনি সিবিআইয়ের অফিসারদের সঙ্গে বসতে রাজি আছেন।

অভিষেকের এই বক্তব্য শুনেই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ রাজ্যের পুলিশ কমিশনার কে সিবিআই এর জিজ্ঞাসা বাদে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন শিলংয়ের মতো নিরপেক্ষ স্থানে। যদিও তাঁকে গ্রেপ্তারীর ওপরও নিষেধাক্কা আরোপ করেন তিনি এর পাশাপাশি।

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত করছে। তাই যে ভাবে সিবিআইকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তদন্তে অসহযোগিতা করা হয়েছে, সেটা আদালতকে অবমাননা করারই সামিল বলেই এরপর সিবিআই এর তরফে আদালত কে জানানো হলে প্রধান বিচারপতি কলকাতা পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল, মুখ্যসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের সে নোটিসের জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে অবশ্য এঁদের আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments