বুধবার, ফেব্রুয়ারী 8, 2023
বাড়িRaiganjরায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে মহঃ সেলিমের ভোট প্রচার ঘিরে বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলের...

রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে মহঃ সেলিমের ভোট প্রচার ঘিরে বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলের উৎসাহ উদ্দীপনা তুঙ্গে

১৪//১৯,ওয়েবডেস্কঃভোটের দিন ঘোষণা হতে না হতেই বিপুল জনস্রোতে ভোট প্রচার শুরু করেছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ মহঃ সেলিম। দিন পেরলেও ভাটা পরেনি তার নির্বাচনী প্রচারে।

প্রায় প্রতিদিনই সকাল হতে না হতেই রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে চলে যাচ্ছেন তিনি। মেঠো পথ ধরে ঘুরছেন গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি। কখনও পাশে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের মহিলাদের সুখ দুঃখের ভাগীদার হচ্ছেন, কখনও গৃহস্থ বাড়ির মেঠো দাওয়ায় বসে শুনছেন তাঁদের ভালো মন্দের গল্প। তাঁরই ফাঁকে চলছে রাজনীতির কথা আর ভোট প্রার্থনা।

সময়ের বড় অভাব তাই প্রচারের ফাঁকে একটু বেলা গড়াতেই বসে খবরের কাগজে মুড়ি বাতাসা নিয়ে ভাগ করে খাচ্ছেন সবার সঙ্গে। এই মুড়ি বাতাসার আড্ডাতেই চলছে গত পাঁচ বছরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের জন্য কী কী করেছেন তার হিসেব নিকেষ।

কেষ্ট বাবুর গুড় বাতাসার পাল্টা তার মুড়ি বাতাসা? প্রসঙ্গ তুলতেই সেলিমের ঝটিতি জবাব, “ঘরের মানুষই হোক, আর অতিথি, ভালবেসে তাঁদের মুড়ি বাতাসা খাওয়ানোই এখানকার রেওয়াজ। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই এমন আপ্যায়ন। না গ্রহণ করে যাই কী করে?”

বিজেপি এখনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। অবশ্য ইতিমধ্যেই তৃণমূলের প্রার্থীদের নাম জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আঁট ঘাট বেধে এখনো সেই অর্থে প্রচার শুরু করতে পারেনি তারা। তাই অন্তত প্রচারের দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছেন রায়গঞ্জের বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০টির বেশি পাড়া বৈঠক ও টোলা বৈঠক সেরে ফেলেছেন তিনি।

কখনও পাড়ার মোড়ে বা কখনও গৃহস্থের দাওয়ায় কখনও মাইক হাতে কখনও বৈঠকি মেজাজে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন পার্লামেন্টে ঝড় তোলা রাজ্যের ‘সেরা’ সাংসদ। বড় জনসভা নয়, আপাতত এই ছোট ছোট পাড়া বৈঠকেই প্রচার ভাল এগোচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এ ভাবেই বেশি মানুষের খুব কাছাকাছি পৌঁছনো যাচ্ছে।” পাড়া ঘুরতে ঘুরতেই সেলিম বললেন, “যাঁরা বিজেপি আর তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের শপথ নিয়েছেন তাঁরাই আমাদের পাশে।”

এবারের লড়াইয়ে সেলিমের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের কানহাইয়ালাল আগরওয়াল। যদিও জনপ্রিয়তার নিরিখে সেলিম সাহেব তার থেকে দশ যোজন এগিয়ে এমনটাই মনে করছে রায়গঞ্জের মানুষ। ইসলামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল কংগ্রেসের টিকিটে ইসলামপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যোগ দেন তৃণমূলে। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হলেও এখনও পুরোদস্তুর প্রচার শুরু করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে বিজেপির কে প্রার্থী হবেন জানা যায়নি তাও। এই অবসরে ফাঁকা ময়দানে প্রচারে এগিয়ে থাকতে সেলিমের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

আজ সকালে রায়গঞ্জের বাহীন গ্রাম পঞ্চায়েতের সোহারই মোড় এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেন এই বাম প্রার্থী। বাড়ি বাড়ি ঘুরে গ্রামের সবার খোঁজ খবর করেন সঙ্গে চলে ভোট প্রার্থনা। এরপর একএক করে নারায়নপুর চাপদুয়ার হয়ে পোঁছান বিষ্ণুপুর। প্রচারের ফাঁকে অসুস্থ এক প্রবীণ পার্টি নেতার বাড়ি গিয়ে তার খোঁজ নিতেও ভোলেননি এই পোড়খাওয়া সাংসস। প্রচারের মাঝে এক গ্রামের বাসিন্দা সহেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গেলে প্রার্থীকে ধান দুব্বো দিয়ে বরণ করে নিলেন সহেন্দ্রবাবুর স্ত্রী বাসন্তী। এ গ্রামেও ছিল মুড়ি বাতাসার আয়োজন। তার এই বিপুল জনপ্রিয়তা যে বাকিদের চোখে তীরের মত বিঁধছে তা বলাইবাহুল্য।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments