বুধবার, ফেব্রুয়ারী 8, 2023
বাড়িদেশদেশের প্রথম জাতি ধর্ম বর্ণ হীন মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন স্নেহা

দেশের প্রথম জাতি ধর্ম বর্ণ হীন মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন স্নেহা

২৬/২/১৯,ওয়েবডেস্কঃপ্রথা আর স্রোতের অনুকূলে জীবনটা ভাসিয়ে দিতে চাননি কখনোই।জাতি-ধর্ম-বর্ণেও কোনওদিনই বিশ্বাস ছিল না। ভয় পাননি সমাজের রক্তচক্ষু কেও।আর এখন তাই জাতধর্মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে বৃহত্তর সমাজ গঠনই মূল লক্ষ্য স্নেহা পার্থিবরাজার। দেশের প্রথম জাতি-ধর্মহীন নাগরিকের স্বীকৃতি পাওয়া একজন স্বতন্ত্র পরিপূর্ণ মানুষ। তবে লড়াইটা এখনই শেষ করতে চাইছেন না স্নেহা।বরং আরো বৃহত্তর ক্ষেত্রে এই লড়াইয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ স্নেহা। স্নেহার নিজের কথায়,‘‘আমার বাবা, মা, স্বামী, মেয়ে, আমার গোটা পরিবার জাত-ধর্মের ঠুনকো বিশ্বাসে বিশ্বাসী নয়। সরকারি শংসাপত্র শুধু একটা আইনি নথি মাত্র, আসলে আমরা সকলেই সামাজিক বৈষম্যের উর্ধ্বে’’।

তামিলনাড়ুর তিরুপাত্তুরের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের স্নেহা পেশায় আইনজীবী। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন জাত-ধর্মের ভেদাভেদহীন সমাজের। ধর্মে বিশ্বাস করতেন না বলে আত্মীয় মহলে অনেকেই ‘নাস্তিক’ বলে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করতো। তবে সে সবে কখনওই বিশেষ আমল দেননি স্নেহা। লড়াইটা শুরু হয় ন’বছর আগে। ২০১০ সালে নিজেকে ‘জাত-ধর্মহীন নাগরিক’ ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। প্রথমে সেই আবেদন খারিজও হয়ে যায়। চলতি বছরে তিরুপাত্তুরের তহশিলদার টি এস সাথিয়ামুর্তি স্নেহার হাতে তুলে দিলেন সরকারি শংসাপত্র। সেখানে লেখা থাকে, স্নেহা কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনিই ভারতের প্রথম নাগরিক যিনি এই সরকারি স্বীকৃতি পেলেন।

ন’বছরের লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না স্নেহার। বাধা-বিপত্তির পাহাড় ঠেলে এগিয়ে গেছেন স্নেহা ও তাঁর স্বামী কে. পার্থিবরাজা। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালে আবেদন খারিজ করে দেন সরকারি আধিকারিকরা। ফের ২০১৭ সালে নিজের মতামত জানিয়ে আবেদন করেন স্নেহা। সরকারি সূত্রে খবর, স্নেহার স্কুল, কলেজের সমস্ত নথিতে কাস্ট ও রিলিজিয়নের কলম সবসময় ফাঁকা থেকেছে। যে কোনও আইনি কাগজে নিজের ধর্ম বা জাতের উল্লেখ কখনও করেননি স্নেহা। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে তাঁর আবেদন মানতে রাজি হয় প্রশাসন।
লড়াইয়ের প্রথম ধাপ পেরিয়ে উচ্ছ্বসিত গলায় স্নেহা জানালেন ‘‘বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম নাম মিলিয়ে আমার তিন মেয়ের নাম রেখেছি— আধিরাই নাসরিন, আধিলা আইরিন, আরিফা জেসি”। জানালেন, নিজেদের এই পরম্পরা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিজেদের তিন মেয়ের স্কুলের ফর্মে কোনও রকমের জাতি বা ধর্মেরও উল্লেখ করেননি তাঁরা। তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও সকলে জাতপাতের বিরোধী। ছেলেবেলা থেকেই মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে বড় হয়েছি, জানালেন স্নেহা। তাঁর কথায়, ‘‘আমার দুই বোনের নামও মুসলিম ও খ্রিষ্টান নামের সংমিশ্রণ, মুমতাজ সুরিয়া এবং জেনিফার।’’

তাঁরা আরো জানান আগামী দিনে তাঁদের স্বপ্নের সমাজ বদল করা কতটা সম্ভব হবে যদিও জানা নেই ওদের, তবে লড়াইটা এখানেই থামাতেও চান না স্নেহা ও তাঁর স্বামী।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments