রবিবার, ফেব্রুয়ারী 5, 2023
বাড়িকুলিক রোববারআজ কুলিক রোববারে লাবণি চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তগদ্য 'ছোটবেলা'

আজ কুলিক রোববারে লাবণি চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তগদ্য ‘ছোটবেলা’

মার্চ ৩, ২০১৯, কুলিক রোববার :

ছোটবেলা

লাবণি চট্টোপাধ্যায়

আমাদের সবারই একটা ক’রে ছোটোবেলা থাকে । একই রকমের ছোটবেলা । হ্যাঁ একই রকমের । আসলে ছোটোবেলায় আমরা সব্বাই একরকমের থাকি । বড়ো হয়ে আমরা পাল্টে যাই , বড়ো হয়ে আমরা আলাদা আলাদা । রাজার দুলালের গলায় দোলে গজমোতির মালা আর হতদরিদ্র তার ছেলেকে সাজায় সস্তা পুঁতির মালা দিয়ে .. । কিন্তু মোতির মূল্য বা পুঁতির মূল্যহীনতা বোঝার ক্ষমতা না থাকে রাজার ছেলের , না থাকে গরীবের শিশুর । ধূলোমাটি , কাঁকর মুঠো ক’রে মুখে পোরে দুটি শিশুই __একজন সুযোগ পেলেই , আর একজনকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয় না । একজনের সোনার খেলনা , আর একজনের মাটির ।..কিন্তু দুজনের কাছে খেলাটাই আসল , খেলনা টা নয় ।
আমাদের সকলেরই একটা ক’রে স্কুলবাড়িও থাকে । ছোটোবেলাকার স্কুল । একটা সোনাঝুড়ি গাছে ছাওয়া রাস্তা পার হয়ে সেখানে যেতে হয় । রাস্তার শেষে একটা সোনালি স্বপ্ন মাখানো গন্তব্য । একটা স্কুলবাড়ি ..তার জানলায় জানলায় কচিকাঁচা মুখের সারি । পাশেই একটা খেলার মাঠ । কচি মুখগুলো মাঠের সঙ্গী , ক্লাসেরও সঙ্গী । অনেক বছরের অদেখার পরে হঠাৎ দেখায় কলকাকলি তে ব’লে ওঠা ….” কিরে তুই তো ছোটবেলায় ওরকম ছিলি বা এরকম ছিলি , এখন কিরকম ?? ” কেউ শান্ত , কেউ দুষ্টু ..কেউ মিষ্টি মিষ্টি , কেউ কড়া কড়া । যে যেমনই হোক , ছোটবেলার সব সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যর সঙ্গে বড়োবেলায় মিলিয়ে নিতে পারে কে ?? এক বাবা মা ছাড়া ?? এক ছোটবেলার বন্ধুরা ছাড়া ??
আমাদের সকলেরই একটা ছোটবেলা থাকে ,, একটা ছোটবেলার স্কুলও থাকে । নদীর মতো , কাশফুলের দোলার মতো , দক্ষিণা বাতাসের মতো । তাকে সাজিয়ে রাখি আমরা ___কুসুম রতনে সাজাবো যতনে । সাজিয়ে রাখতে চাই ব’লেই সমস্বরে ব’লে ওঠাও থাকে ” আমরা কতো ভালো ছিলাম আমাদের ছোটবেলায় , এখনকার ছোটোরা তো সব আলাদা । ” এই বলাটা স্হান কাল নির্বিশেষে চলতেই থাকে ……আমার বাবা মা রা বলেছেন , আমরা বলছি , আবার কান পাতলে শুনতে পাই আমার ছাত্রীরাও বলছে । হয়তো আমরা বড়ো হয়ে গেলে এরকম বলি , অথবা আসলে আমরা বড়ো হতে চাই না ব’লেই এরকম ছেলেমানুষি অবুঝপনা করি । না , এই বলার মধ্যে কোনো প্রজন্মগত ব্যবধানের বিরোধও নেই …..আছে শুধু একটা সোনাঝুরি গাছে ছাওয়া পথ , আর পথের শেষে এক সোনালী গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাকুলতা ।
আমরা ছোটবেলায় কেউ কড়া শাসনে বড়ো হয়েছি ,কেউ মিষ্টি বাঁধনে ………..কেউ প্রাচুর্যে আবার কেউ অনটনে । কিন্তু প্রাচুর্য বা অনটন হল সেই সোনার খেলনা আর মাটির খেলনার মতো __ সেই গজমোতির মালা আর সস্তা পুঁতির হারের মতন । তাতে তখন খেলায় বাধা পড়েনি , কারণ তখন খেলাই ছিলো মুখ্য । খেলনা নয় ।
এখনও নয় । এখনও খেলনার আড়ালে খুঁজে চলি খেলা । তাই ফোনের মধ্যে আমার ভুলে যাওয়া গল্প তাদের কাছে শুনতে পেয়ে আনমনে হঠাৎ ব’লে ফেলি ” চল যাবি ?? যাবি সেখানে ?? ”
ব’লতে পারিনা যেটা …..” পৌঁছতে কি পারবো সেখানে ?? কোনোও দিন ?? ……”

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments