কুলিক রোববার: মেগা প্রবন্ধ: পর্ব ১১

বাংলা ছোটগল্পে মুসলিম জীবন (পর্ব ১১)

পুরুষোত্তম সিংহ

ইলিয়াস  ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ শে ফেব্রয়ারি ডায়েরিতে লিখলেন –“একটি ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের অনুপস্থিতি বড়ো চোখে পড়ে  যেখানে তাঁদের কৃতিত্ব ও সার্থকতা একেবারে শূন্যতার পর্যায়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্র হলো বাঙালা কথাসাহিত্য।“ ( আখতারুজ্জমান ইলিয়াসের ডায়েরি, সম্পাদনা- শাহাদুজ্জামান, আগামী প্রকাশনী, পৃ. ৪৮ ) এর আগে ইলিয়াস মাত্র নয়টি গল্প লিখেছেন। এ মন্তব্য থেকেই পরিস্কার হয়ে যায় ইলিয়াসের কথাভুবনের প্রধান বিষয় কী হবে !  সে বিষয় যে মুসলিম জনজীবন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে নিজস্ব স্বগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় কথাসাহিত্যে না পেয়ে নিজেই যেন হীন্যমনতায় ভুগছিলেন। এখান থেকেই নিজের পথ খুঁজে নিলেন। এই মুসলিম জনজীবন নিয়ে চর্চার বক্তব্য আরও পরিস্কার করে দিলেন ইলিয়াস ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ গ্রন্থের ১৪৬ পৃষ্ঠায় –“বাংলার মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটেছে দেরিতে। বাঙালি জাতির সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সমাজে উপন্যাসের চর্চা শুরু হয়েছে বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস রচনার অনেক পরে।“ এই অভাববোধই তাঁর অন্তর মননে পীড়া দিয়েছিল। যার ফলে আমরা পেয়েছি ‘খোয়াবামা’ ও ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাস। আমাদের বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য অল্প বয়সের মধ্যেই আমাদের হারাতে হয়েছে ইলিয়াসকে। এই সামান্য জীবনেই তিনি যা লিখে গেছেন ক্ল্যাসিকতার বিচারে তার মূল্য কম নয়। 

বাংলা গল্পে ইলিয়াস মধ্যবিত্তের সিমফোনিকে ভাঙতে চেয়েছেন। ঐতিহ্য সম্পন্ন বাংলা গল্প যে তরল থেকে তরলতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল তা তিনি ভাঙতে চেয়েছিলেন। আসলে কিছু কথাকার স্বাধীনতা উত্তর কালে মধ্যবিত্তের রঙিন জীবনস্বপ্ন নিয়ে শৌখিন সাহিত্য রচনায় মননিবেশ করেছিলেন। কিন্তু এই মধ্যবিত্ত জীবনের আড়ালে যে একটা বৃহৎ জীবন পড়ে আছে ইলিয়াস সে জীবনকে ধরতে চেয়েছিলেন। এ জন্যই তাঁর গল্প উপন্যাসে চরিত্রের সংলাপে আঞ্চলিক ভাষা ও খিস্তি খেউড়ের বন্যা দেখতে পাই। ইলিয়াসের মতে এই খিস্তি খেউড় জনজীবনেরই অঙ্গ। ‘উৎসব’ গল্পটি গড়ে উঠেছে আনোয়ার আলির বাল্য বন্ধু কাইয়ুমের বিবাহকে কেন্দ্র করে। কাইয়ুম হল আনোয়ারের কলেজ জীবনের সহপাঠী, একই রাজনৈতিক মতবাদে তাঁরা বিশ্বাসী ছিলেন। লেখক গল্পের প্রথম থেকেই অবচেতন জগতে নিয়ে গেছেন। আনোয়ারের অবচেতন জগতে এই বিবাহকে কেন্দ্র করে নানা ঘটনা উঁকি দিয়েছে। ইলিয়াস গল্পের মধ্যে শুধু আলগা কাহিনি বা প্রেম রোমান্সে মনোনিবেশ করতে চান না, গল্পের মধ্যেই মুসলিম জনজীবন, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতির অবক্ষয়, নতুন সমাজ, প্রথা , রীতি নিয়ে হাজির হন। এই বিবাহকে কেন্দ্র করে আনোয়ার আজ ভেসে গেছে অতীতের জগতে, সেখানে উঁকি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, রাজনীতি, বাঙালি সংস্কৃতি ও সমাজতন্ত্র সহ জনজীবনের নানা প্রসঙ্গ। তাঁর চেতনায় আজ ঘোরাফেরা করেছে হাফিজের আত্মজীবনী থেকে, পারভেজের স্ত্রীকে দেখা সহ নানা অনুসঙ্গ। ঘরে ফিরে সে স্ত্রী সালেহা বেগেমের সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু মনে ভেসে এসেছে বিবাহ অনুষ্ঠানে দেখা নানা মেয়ের রূপ। এ সময়ই বাইরে কোলাহল, মানুষ কুকুরের যৌনক্রিয়া দেখতে মত্ত। মানুষ যেন এই যৌনক্রিয়া উপভোগে নিজেরই সুপ্ত যৌনচেতনাকে জাগাতে চেয়েছে। ফলে সবাই সবার কাজ ফেলে এই যৌনক্রিয়া দেখতে মত্ত। যৌনতা যে জীবনের পৃথক কিছু নয়, সমগ্র জীবনেরই একটি অঙ্গ, অথচ মানুষ এই যৌনতাকে ঘৃণায় দূরে রাখলেও সবাই যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয়, মানব জীবনের এই ট্যাবুকে লেখক ভাঙতে চেয়েছেন। গভীর রাতে আনোয়ার সেই রতিক্রিয়া দেখে ঘরে ফিরেছে, কুকুরের রতিক্রিয়া দেখে নিজের সমস্ত চাহিদা সম্পূর্ণ করতে পেয়েছে। জীবনের সম্পূর্ণতার সন্ধানে লেখক অগ্রসর হন। আর তার পূর্ণতার জন্য ইলিয়াসকে কিছু সিম্বলিক ঘটনা পরিবেশন করতে হয়, যার মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের গভীর থেকে গভীরতর তলদেশে যাত্রা করেন।

                    দোজখ, বেহেস্তা, জীবন সংগ্রাম, মৃত্যুচেতনা, সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হওয়া, জাদুবাস্তবতা, ধর্মীয় লোকাচার, বিশ্বাস –সংস্কারের দ্বন্দ্ব সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ‘দোজখের ওম’ গল্প। ইলিয়াস শুধু গল্প লেখেন না ,তাঁর কাছে গল্প যেন সমাজতান্ত্রিক বিশ্লেষণের পটভূমিকায় ধরা দেয়। মুসলম সমাজ জীবন সম্পর্কে তাঁর যেন অনেক কিছু বলার আছে, আর সেই সব ধারণাকে একসঙ্গে যুক্ত করে দেন গল্পে। দর্জি কামালউদ্দিন আজ ভীষণ অসুস্থ। তাঁর চেতনায় বারবার ফিরে এসেছে মৃত স্ত্রী। গল্পকে বাস্তব থেকে জাদুবাস্তবে, পরাবাস্তবে নিয়ে গিয়ে তিনি এমন এক আখ্যান গড়ে তোলেন যার দোসর মেলা ভার। আসলে ইলিয়াসের মানস পরিক্রমা গড়ে উঠেছিল পাশ্চাত্য সাহিত্য পাঠে। এ পৃথিবীতে কামালউদ্দিনের আর বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই। কিন্তু ইচ্ছা হলেই তো আর এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া যায় না। কেন এই দোজখ ভোগ তার কারণ অনুসন্ধানে আজ অগ্রসর হয়েছে কামালউদ্দিন। এই আত্মানুসন্ধানেই উঠে এসেছে গোটা গল্প। সে ছিল দর্জি। দর্জি হিসাবে তাঁর নাম ছিল, সংসারের অভাব মেটাতে সে কখনও সামান্য চুরি করেছে কিন্তু সে চুরি ধরা পড়েনি। তাঁর দুই সন্তান আকবর ও আমজাদ। কন্যা খাদেজা স্বামী হারিয়ে পিতৃগৃহে ফিরে এসেছে। খাদেজার পুত্র আবুবক্করই আজ কামালউদ্দিনকে দেখাশোনা করে। সে বারবার আল্লার কাছে মৃত্যু কামনা করে। কিন্তু মৃত্যুর বদলে তাঁর চেতনায় ফিরে আসে ইহলোকের নানা ঘটনা। অবচেতনায় স্ত্রী আসে কিন্তু পিতা আসে না। এজন্য অবশ্য তাঁর খেদ রয়েছে।

                    কামালউদ্দিন আজ পাপ পূণ্যের হিসাব করতে বসেছে। জীবনের খাতায় জগদীশ বাবুর বাড়ির বাজার থেকে সামান্য মাছ চুরি ছাড়া তাঁর পাপের খাতা শূন্য। তবুও কেন তাঁর মৃত্যু ঘটছে না এই ভাবনায় সে ভাবিত। সে প্রত্যহ নামাজ পড়ে। কেউই চায় না সে বিদায় নিক, কেবল খাদেজার কন্যা রুমা ছাড়া। কেননা কামালউদ্দিনের মৃত্যু ঘটলে সে এ ঘর দখল করবে। বড় পুত্র আকবর অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল বলে সে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। সেই আকবর আজ মারা গেছে। সে হয়ত তাঁর মাতার কাছে চলে গেছে। ছোটপুত্র এ বাড়িতে হয়ত আর বড়পুত্রের ছেলেমেয়েদের থাকতে দেবে না এই সন্দেহ ছিল কামালউদ্দিনের। সে সংশয় আরও স্পষ্ট হয়ে যায় আকবরের কন্যা পারভিনের কথায়। আজ তাঁর মনে হয়েছে জীবনে মৃত্যুর চেয়ে বেঁচে থাকাই যেন বড়। যে কামালউদ্দিন সারাজীবন দায়িত্ব পালন করে এসেছে আজও তাঁকে বেঁচে থাকতে হবে শুধু বিবেক বোধের জন্যই। সে জানে যতক্ষণ বেঁচে থাকবে ততক্ষণই হয়ত আকবরের পুত্র কন্যারা এ বাড়িতে থাকতে পারবে, মৃত্যু হলেই বিদায় নিতে হবে। তাই মৃত্যুর চেয়ে বেঁচে থাকাই শ্রেয়।

            লেখক কামালউদ্দিন চরিত্র বিশ্লেষণে জোড় দিয়েছেন। চরিত্রের রন্ধে রন্ধে প্রবেশ করে জীবনে গভীর প্রদেশে প্রবেশ করেছেন। জগতের ওপর কামালউদ্দিনের কোন ক্ষোভ নেই, সে বিদায় নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আজরাইল ডাক না দিলে তো যাওয়া যাবে না, অন্যদিকে ইবলিসের একমাত্র কাজ হল মানুষকে এই দোজখে পুড়িয়ে মারা। কিন্তু সে চেতনা ধীরে ধীরে লোপ পায়। মৃত্যু যখন নিজের হাতে নেই, তাই তা নিয়ে সে ভাবতে রাজি নয় –“দুত্তোরি, এই দোজখের আগুন নতুন নতুন শিখায় জ্বলে উঠছে ! কামালউদ্দিন বিরক্ত হয়, দূর, তার কী ? আল্লা তার কথা শুনলে এই দোজখে তার আর কদ্দিনই বা মেয়াদ ? তার কী ?  – তার গোটা মাথা ঝিমঝিম করে, মাথাটিকে ভালো করে ঝাড়বার জন্য উঠানের দিকে তাকায়.. “ (রচনাসমগ্র-১, মাওলা বাদার্স পৃ. ৩১৬ ) আজ সে পুত্র আকবরের ওপর ক্রোধ প্রকাশ করে দুইভাবে। এক তার আগেই সে মাতার কাছে চলে গেছে, দুই কেন সে পুত্র কন্যাদের এভাবে অবহেলায় ফেলে গেল। স্ত্রীর কোলে সবসময় একটি ছোট পুত্র থাকত, আজ সেখানে কী আকবরই জায়গা দখল করল ! জীবন –মৃত্যুর দোলায় লেখক কামালউদ্দিনকে দুলিয়েছেন। গল্প শুরু হয়েছিল কামালউদ্দিনের মৃত্যুচেতনাকে সামনে রেখে, আর পরিণতি ঘটছে তাঁর জীবনচেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে। মৃত্যুর চেয়ে হয়ত জীবনই বড়। আর সেই আশাবাদ সঞ্চার করে দিয়ে লেখক বিদায় নেন – 

“লাঠি এবং নাতনীর ওপর ভাঙচোরা শরীরের ভার রেখে ডান দিকের গতর ছ্যাঁচড়াতে সে রওয়ানা হলো নিজের ঘরের দিকে। ঠোঁট, জিভ ও গলার সচল, অচল ও নিমচল টুকরোগুলো জোড়াতালি দিয়ে কামালউদ্দিন একটি লালা –বলকানো হঙ্কার ছাড়ে, ‘তর চাচাএ কইস,দাদাব অহন তরি বাঁইচা আছে।“ (তদেব, পৃ. ৩১৮ )

 ইলিয়াস গল্পকে চেতনার অন্তঃপ্রদেশে নিয়ে যান। কাহিনি অপেক্ষা চরিত্রের অন্তঃরহস্য উন্মোচনেই বেশি নজর দেন। সেই চরিত্রের গঠনগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশেই কাহিনি বা অনুষাঙ্গিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। ‘প্রতিশোধ’ গল্পে ওসমান শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধ নিতে পারেনি। কিন্তু বারবার প্রতিশোধের পরিবেশ লেখক সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর জগতে পৌঁছে মনে হয়েছে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে অন্যের মৃত্যু ঘটনাও সমান যন্ত্রণার, ফলে পিছিয়ে এসেছে ওসমান। এই মৃত্যুবোধই ওসমানকে আর খুনের জগতে নিয়ে যায়নি। কিন্তু প্রশ্ন হল ওসমান কেন আবুল হাশেমকে খুন করতে উদ্যোত হল ? এর দুটি কারণ অনুমান করা যেতে পারে । আবুল হাশেম ওসমানের প্রেমিকা নার্গিসকে বিবাহ করেছে, দ্বিতীয় সে ওসমানের বোন রোকেয়ার খুনি। কিন্তু প্রকৃত খুনি কি না আমরা জানি না। গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা যায় রোকেয়া, যেহেতু গাড়ির চালক ছিল আবুল হাশেম তাই সবাই অনুমান করে নিয়েছে সেই স্ত্রীর খুনি। গল্পের প্রেক্ষাপট এমন –পিতার অসুস্থতা উপলক্ষে বাড়ি ফিরেছে ওসমান। পিতা আবদুল গনি অসুস্থ। কিন্তু বাড়ি ফিরেই আবুল হাশেমকে দেখে প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে ওঠে। সে ভেবেছিল দাদা আনিসকে এ ব্যাপারে জানাবে কিন্তু জানানো হয়নি। আনিস ছিল তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে আবুল হাশেম ছিল বামপ্রন্থী সাংবাদিক। পরে সাংবাদিকতা ছেড়ে সে ব্যবসায় অংশ নিয়েছে। তবে সে সংস্কৃতি ও সমাজতন্ত্রের চর্চা করে। আবুল হাশেমকে রোকেয়া বাড়ির অমতেই বিবাহ করেছিল। কিন্তু কন্যার দুঃখ দেখে পিতা নিজের বাড়িই দিয়েছিলেন। আজ শ্বশুরের অসুস্থতা দেখতে সে এসেছে। আনিসের রাগ থাকলেও আজ তা আর নেই। কেননা আজ সে কনট্রাকটারির ব্যবসা করতে চায়। সে কাজে আবুল হাশেমের সাহায্য প্রয়োজন। আর এ সাহায্যের জন্যই পিতা সব অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছে। তাই ওসমান ভেবেছে প্রতিশোধ তাঁকে নিজেই নিতে হবে। লোহার রড নিয়ে ছাদে গেছে বটে। কিন্তু লেখক অদ্ভুত ভাবে ওসমানকে এক অলৌকিক জগতে নিয়ে যায়, যেখানে ওসমান নিজের মৃত্যু নিজেই প্রত্যক্ষ করে। আর এই প্রত্যক্ষই তাঁকে অপরকে আঘাতের চেয়ে জীবনবীণায় নিয়ে আসে। মৃত্যুই বোধহয় মৃত্যুর অনুধাবক। আর সে অনুধাবনের জন্য লেখক কৌশলে এই বৃত্তান্ত গড়ে তোলেন। ওসমানের মনে হয়েছে এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা প্রয়োজন। সেই জীবনকে ভালোবাসতে গিয়ে সে প্রতিশোধের কথা ভুলে গেছে-

“ ওসমান এই দৃশ্য কখনো চোখে দ্যাখেনি, সিনেমাতেও না। তবু বেশ বোঝা যায়, তীক্ষ্ন ধারায়  প্রবাহিত হয় রক্ত ; মাথার ওপর ঘোলাটে শাদা পাখা লাল হয়ে গেলো। পাখার ঘুরন্ত ব্লেডের কল্যাণে রক্তাক্ত হলো চারিদিকের দেওয়াল, গড়িয়ে নিচে পড়ে গেলো ওসমানের লাশ। বুকের হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে যায় এই দৃশ্য দেখে, সে ওপরে তাকালো।

…..    ……        …….        …….

বিচলিত  হয়ে ওসমান একটু ঝুঁকে নিচে দেখলো। খুব ব্যস্ত হাতে তাড়াতাড়ি করে সে ছুঁড়ে ফেললো লোহার রডটা। তারপর দ্রুত পদক্ষেপে নেমে এলো একেবারে নিচতলায়। না, না এসব ব্যাপারে সাবধান হওয়া ভালো। কখনো কখনো লোভ সামলানো বড়ো কঠিন। কখন কি বাসনা হয় কে বলতে পারে।“ (তদেব, পৃ. ৪৬ )

 আসলে এ পৃথিবীতে খুনির বেঁচে থাকার অধিকার কাছে। আবুল হাশেম প্রকৃত খুনি কি না আমরা জানি না। তাই এক অপরাধহীন ব্যক্তিকে লেখক পৃথিবী থেকে বিদায় জানাতে চাননি। সে বিবাহ করে অপরাধ যদি করে তবে সেটাও জীবনের জয়। আসলে একটি নারীকে অন্য প্রেমিকের হাত থেকে নিয়ে বিবাহ করা তো যুদ্ধে জয়ই। এমন নানা অনুষঙ্গের কোলাজে লেখক গল্প গড়ে তোলেন। যেখানে চরিত্রের অন্তঃদর্শনে তিনি হাজির হন। পাঠককেও স্বাভাবিক প্রত্যক্ষে দেখিয়ে দেন চরিত্রের প্রকৃত স্বরূপ কোথায়।

Leave a Reply