আপনার খাবারে অতিরিক্ত চিনি কি ঘনিয়ে তুলছে নতুন বিপদ ?
বিপদসংকেত পুরুষদের জন্য ….

৩১/৭/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ : শুধু ফিগার সচেতন মহিলারাই নন, এবার খাদ্যারসিক পুরুষেরাও মাথায় রাখুন, খাদ্যাভ্যাসে চিনির পরিমাণ বেশি হলে ঘটতে পারে চরম বিপত্তি । ‘PLOS Biology’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তথ্য বলছে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চিনির পরিমাণ বেশি হলে পুরুষের শুক্রাণুর মান কমতে থাকে। তাছাড়াও শুক্রাণুর কাজ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা গিয়েছে এই গবেষণার মাধ্যমে যা ভবিষ্যতে এর গুণগত মান পরীক্ষা করার নতুন পথ দেখাবে বলে বিশ্বাস গবেষকদের গবেষণার প্রধান, সুইডেনের ‘লিংকোপিং ইউনিভার্সিটি’র আনিতা ওস্ট জানিয়েছেন, “খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর মৃত্যুর হারকে প্রভাবিত করে। আর খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে শুক্রাণুর ঠিক কোন অংশে পরিবর্তন আসছে সেটাও আমরা শনাক্ত করতে পারি। গবেষণায় আমরা দ্রুতগামী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি যা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান হয়।” গবেষকরা বলেন, “শুক্রাণুর মান নষ্ট হতে পারে পরিবেশগত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন প্রভাবকের কারণে। এদের মধ্যে ‘ওবেসিটি’, ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’ অন্যতম।”

গবেষকরা মূলত আগ্রহী ‘এপিজেনেটিক ফেনোমেনা’ নিয়ে, যেখানে শারীরিক গঠন ও জিনগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। এমনকি এই পরিস্থিতিতে জিনের উপাদান ও ‘ডিএনএ সিকুয়েন্স’য়ের পরিবর্তন না আসলেও তাদের বহিঃপ্রকাশ পরিবর্তীত হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ‘এপিজেনেটিক’ পরিবর্তন বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুক্রাণু কিংবা ডিম্বানুর মাধ্যমে সন্তানের মাঝে চলে যেতে পারে। এর জন্য দায়ী মূলত RNA এর ক্ষুদ্রাংশ, TSRNA, যা বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণির মধ্যে বিদ্যমান।
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে মানুষের শুক্রাণুর আরএনএ ফ্রাগমেন্টসয়ে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কি-না সেটা দেখাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য। এজন্য গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেন ১৫ জন স্বাস্থ্যবান, অধূমপায়ী পুরুষকে, যাদের প্রত্যেককে দুই সপ্তাহের খাবার একবারে দিয়ে দেন গবেষকরা। যাই হোক, এখুনি সাবধান হয়ে যান অত্যধিক মিষ্টিপ্রেমী পুরুষেরা।

Leave a Reply