কুলিক রোববার গল্প : গোদার

উপল মুখোপাধ্যায়                                           

                                                         —কালো চশমা পরা একজনের ছবি দেখা যাচ্ছে পুরনো যুগের একটা জিনিস দেখছিল যা পর পর কতগুলো ছবির মতো। এই ছবিগুলো সাজানো হলে পরপরপরপর কিছু মনে হতেই থাকে যাকে দৃশ্য বলে। যে জিনিসটা দিয়ে পরপর সেগুলো তোলা হয় তাকে বলে ক্যামেরা আর ক্যামেরার পেছনে যা থাকে তাকে বলে ফিল্ম। এসব আগের কথা তখন হাতে তুলে তুলে ফিল্ম দেখা হত। আগে থেকে পরে, মাঝে মাঝে আর তারপর একটা শেষ হবার মতো হত। হতেই হত না হলে পরের দল কী করে দেখবে। গণতান্ত্রিক হতেই হত। একই জিনিস বারবার করে যেতেই হত কারণ সবার দেখার আধিকার থাকবে তাকে বলে সিনেমা। প্রশ্নটা হল তখন কি কালো চশমা পরে কেউ ফিল্মের রিল দেখেছে ? পরপরপরপর সব ছবিগুলো তাহলে তো কালো রঙে চুবিয়ে যেতে দেখা যাবে। কাল বলে যে সুস্পষ্টতা তা আর আগেরটা পরে হয়ে গিয়ে, পরেরটা মাঝে যেতে যেতে শেষ হতে পারে। তখন দর্শককে বসিয়ে রাখতে হবে। শো আর শেষ হবে কি ? কী করেই বা গণতান্ত্রিক থাকা যাবে। সবার জন্য একরকমের  একটা কিছুকে অস্বীকার করে বলে গোদারকে কালো চশমা পরে ফিল্মের রিল দেখতে দেখা যাচ্ছে। ওই রিল আর ফিল্মকে অস্বীকার করতে সবার কালো চশমা পরার চল হয়েছে। আর পানাহি জেলে বসে একটা কিছু করে যা সিনেমা নয়। আব্বাসকেও কালো চশমা পরে প্রায়ই দেখা যায়।  সে জল গড়িয়ে আসাকে গাড়ির কাচে ফুটে ওঠা আবছায়া ল্যান্ডস্কেপ করেছে। আর গোদার শেষ পর্যন্ত পরপরপরপর প্রকৃতির ছবি তুলবে। বুঝবে নদীর সঙ্গে কী কথা কুকুরের হতে পারে। তখন ভাষার আর দরকার করবে না। সংগমের মুহূর্তে কুকুরটি একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকবে। তখন আর গোদারকে ক্লোজআপে কালো চশমা পরে দেখা যাবে না। অনেক দূর থেকে গোদার জঙ্গল দেখছিল ঘরের মধ্যে থেকে। জঙ্গলের মধ্যে থেকে ঘর নয়। সে কালো চশমা না পরে ভিডিও তৈরি করে যা হাঁ করে দেখার থেকে ধাঁ করে করার কথা বলেই চলেছে।

15