কুলিক রোববার স্মৃতি : ৭৪

সাধন দাস

রৌরব ও রাজনৈতিক ছাপ্পা 

চাঁদু ওরফে শুভ(চট্টোপাধ্যায়) সমীরণ(ঘোষ) শান্তিময়(মুখোপাধ্যায়) (আবুল)বাশারদা, বাবুয়া, (অনুপম ভট্টাচার্য) উমা(পদ কর)দা, নাসের(হোসেন) অজয় (বিশ্বাস) আমরা একপাল ঘর জ্বালানি পর ভোলানি উচ্চিংড়ে, রৌরব নামে এক পত্রিকা বের করি।

কলেজে বাবুয়া কংগ্রেসের হোমড়া চোমড়া। নব্যপড়ুয়ারা নাক সিঁটকে সহজেই রায় দিলো ওটা কং আখড়া। 

বাম জমানার দাপট চলছে। রাবীন্দ্রিক চর্চা টপকে, দুচার পিস বামগন্ধী ধারালো লেখা পত্রিকায় উঁকি মারতেই সি পি এমের দুচারজন নেতা, হাফনেতার ঝিটকি নড়ে উঠলো। মুনিষমার্কা ছোকরাগুলোকে যদি হাতানো যায়। শহরে একটা ফোর্স বটে! কাণাঘুষোর চক্রব্রুহে অরুণের (বনগাঁ শাখার সম্পাদক) ফোকলা দিদিমাও চিনে ফেললো আমরা ছিপিআনের পোঁ ধরা।

বাশারদা এসইউসি (আই)। রবীন পাক্কা এসইউসি। পার্টির বই, পত্রপত্রিকা সহজেই আমাদের বোগলে ঢুকে গেলো। স্বপনদা, কুনালদাদের মাদুরে বসে দুচারদিন গ্রুপরিডিং করলাম। কোলকাতার জনসভায়ও গেলাম। ব্রিগেডের লোকজন জেনে গেলো এরা এসইউসির লেজ, ব্রিগেডের বাইরে হয়ে গেলাম এসইউসির ধামাধরা।

জেল থেকে ছাড়া পেলেন গরমাগরম নকশাল নেতা আজিজুল হক। পণ্ডিত, তাত্ত্বিক মানুষ। তাঁর রোমাণ্টিক জীবনে লোভনীয় গল্পের ঝাঁপি। ভিড়ে গেলাম ওর সোদপুরের বাড়িতে। উনি এলেন, হেলুফেলুদের আড্ডায়। ওনাকে নিয়ে শহরে আলোচনা সভা করলাম। ঢিঢি পড়তে বাকি থাকলো না, ছিঃ ছিঃ ছোকরাগুলো  নকশাল পন্থী। 

শহরের হাত পা নাক মুখ একটু একটু করে গিলে ফেলছে রাজনীতি। শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, ডাক্তার শহরে যেনো কেউ নেই। সবারই গায়ে গায়ে ছাপ্পা- কংগ্রেস, সি পি এম, এস ইউ সি, নিদেন পক্ষে নকশাল। মুশকিল হচ্ছে আমাদের নিয়ে। গেলা যাচ্ছে না, ওগড়ানোও দায়।

দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক দূর্গগুলো ধ্বসে পড়ছে। রাজনীতির ঢক্কানিনাদের আড়ালে খবর পাওয়া গেলো, আলবেনিয়া নাকি সমাজতন্ত্রের আগমার্কা দেশ। মার্কসীয় আদর্শে ড্যাং ড্যাং করে চলছে। (খবরটা পুরোনো ছিলো) টগবগে সিদ্ধান্ত হলো আলবেনিয়া সংখ্যা বেরুবে। সাহায্য এলো দিল্লী থেকে। গদার পার্টির দুজনতো, একলাট বই, পত্রপত্রিকা, ডকুমেন্টস নিয়ে হাজির। খবর পাঁচ কান হতে সময় লাগলো না। আমরা হয়ে গেলাম গদারপন্থী।  

সি পি এম বিচ্ছিন্ন, “মস্কো মামলা” খ্যাত আশি বছরের মণি গুহ এলেন স্ট্যালিন সংখ্যার উপদেষ্টা হয়ে। তখন উনি নতুন বিদ্রোহী বামপন্থী দল তৈরি করছেন। তাঁর সাথে আমাদের দহরম মহরম। স্ট্যালিন সংখ্যা বেরুতে না বেরুতে জানতে কারো বাকি থাকলো না আমরা স্ট্যালিনপন্থী।  বিখ্যাত ট্রেড ইউনি‍য়নিষ্ট বি বি সি(বনবিহারী চক্রবর্তী )র শ্যামবাজারের পাঠগুদামে আমাদের গতায়াত বেড়ে গেছে। লেখা চাই। দিশা চাই। প্রশ্ন উঠলো, আমরা কি কোনো ট্রেড ইউনিয়নের ছত্রছায়ায়? 

রৌরবিয়ান এই উদমাগুলো কারা! কোনো ছাপ্পাই লাগানো যাচ্ছে না! কোন মেরুদণ্ডে এদের শিরদাঁড়া তৈরি! তখন আমাদের প্রেম করার বয়স। জীবনকে ভালোবাসতে শিখছি। ডানহাতে না বাম হাতে, আড়ে না কি লম্বায়, কী ভাবে ধরবো জীবনটাকে, কোন আচরণেই বা তাকে জানাবো, “আমি তোমায় ভালবাসি”। তখনও জানি না। আজও খুঁজে বেড়াচ্ছি! 

15