NBSTC কোচবিহার ডিপোর আয় নিম্নগামী।হেল দোল নেই নিগমের। দাবি আদায়ে ধারাবাহিক অ্যান্দোলনের পথে CITU নিয়ন্ত্রিত এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন।


ওয়েবডেস্কঃ

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের কোচবিহার ডিপোর আয়ের পারদ ক্রমশ নিম্নগামী।
প্রশ্ন উঠছে নিগমের চেয়ারম্যান,ম্যানেজিং ডিরেক্টররা কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন!নাকি, আয় বাড়ানোর সব পথই বন্ধ হয়ে গেছে।
নিগমের কোচবিহার ডিপোতে আয় ক্রমাগত নিম্নমুখী হচ্ছে এটা প্রকাশ্যে এসেছে।
যে পরিমান বাস রাস্তায় বের হচ্ছে সেই পরিমান আয় নেই।কেন কমছে আয়? সেটা নাকি জানাই নেই নিগমের আধিকারিকদের।
ক্রমাগত আয় কমায় নাকি উদ্বিগ্ন স্বয়ং চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়! তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্য,”কোচবিহার ডিপোর আয় আরো ভালো হওয়া উচিত।সেটা কেন হচ্ছে না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


নিগমের বিভিন্ন ডিপোর আয় কমার জন্য নিগমের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন নিগমের সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রিত শ্রমিক ইউনিয়ন।
নিগমের সূত্রের খবর কোচবিহার ডিভিশনের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ৫ টি ডিপো।এগুলি হল,মাথাভাঙা,দিনহাটা,,তুফানগঞ্জ
আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার ডিপো।এরমধ্যে কোচবিহার ডিপোর আয় নাকি নিম্নগামী।বাকি ডিপোগুলিও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।সংকট তীব্র হতেই নিগমের চেয়ারম্যান বলছেন,জুলাই মাসে কোচবিহার ডিপো থেকে ১ কোটি ৫৯ লক্ষ আয় হয়েছিল।সেটা নাকি ১ কোটি ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ হওয়া উচিত ছিল।অর্থাৎ টার্গেট থেকে ১০-২০ লক্ষ টাকা কম আয় হয়েছে।


নিগমের তথ্য বলছে,কোচবিহার ডিপোর ১৪০ টি বাসের মধ্যে ১২৪ টি বাস চলাচল করেছে ২৬ টি রুটে।গড়ে একটি বাস প্রতিদিন ১৫৪ কিমি চলেছে।আয়ের নিরিখে দেখলে প্রতি কিমিতে আয় হয়েছে ২৮ টাকা।এই আয় অন্তত কিমি পিছু ৩০/৩২ টাকা হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন নিগম কর্তারা।
মাথাভাঙা ডিপোতে ৩৪ টি বাস রয়েছে।এরমধ্যে ৩১ টি বাস পথে নামে।এই ডিপোর বাস গড়ে ২৪১ কিমি চলে।১০ টি রুট থেকে তাদের আয় ৫৭ লক্ষ টাকা।একই ভাবে তুফানগঞ্জের ডিপোতে ২৯ টি বাসের মধ্যে ২৭ টি বাস জুলাই মাসে পথে নেমেছে।এই ডিপোর বাসগুলি গড়ে ১৯২ কিমি চলেছে।৯ টি রুটে বাস চালিয়ে আয় হয়েছে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা।আলিপুরদুয়ারের ডিপোতে বাসের সংখ্যা ৬১ টি।এরমধ্যে ৪৭ টি বাস জুলাই মাসে পথে নেমেছে। চালু রুট রয়েছে ২৭ টি। এখানে বাসগুলি গড়ে ২৩৪ কিমি চলেছে।আয় হয়েছে ৯০ লক্ষ টাকা।


কোচবিহার ডিপোতে বাসের সংখ্যা এই ডিভিশনের মধ্যে সব চাইতে বেশি।এই ডিপো থেকেই দূরপাল্লার বাস সব চাইতে বেশি চলে।শিলিগুড়ি,কলকাতার বাস চলে এই ডিপো থেকে।তবুও আয় বাড়ার কোন লক্ষন নেই।
শ্রমিকদের বক্তব্য,তেলের দামের সঙ্গে ভাড়ার কোন সঙ্গতি না থাকায় আয়ের থেকে ব্যয় বেশি হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যের পরিবহন দপ্তর বেতনের ভরতুকি কমাচ্ছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি বাস,বেশি কিমি চালিয়ে আয় বাড়াতে চাইছে নিগম কর্তৃপক্ষ।সেক্ষেত্রে কোচবিহার ডিভিশনের সব চাইতে বড় ডিপোর আয় নিম্নমুখী হওয়ায় দুঃশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে নিগম কর্তৃপক্ষের।
নিগমের সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রিত শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক গৌতম কুন্ডু বলেন,নিগমের বিভিন্ন ডিপোতে আয় কমার জন্য দায়ী নিগম কর্তৃপক্ষই।ডিজেলের দাম উর্দ্ধমুখী।অথচ ভাড়া বাড়ানো হয় নি।৫ বছর আগেও যে রুট লাভজনক ছিল,এখন কর্মীরা ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ১০/১১ ঘন্টা কাজ করেও আয় বাড়াতে পারছে না।নিগমকে স্বাভাবিক ছন্দে চালাতে ব্যর্থ বর্তমান সরকার।


তিনি অভিযোগ করেন বামফ্রন্ট আমলে স্থায়ী শ্রমিক দিয়ে নিগম চলতো।এক সময়ে ৪ হাজারের কাছাকাছি ছিল স্থায়ী শ্রমিক।এখন সেই সংখ্যা ৫০০ র নিচে নেমে এসেছে। নাম মাত্র বেতনে কনট্রাকচুয়াল কর্মী দিয়ে নিগম চালিয়েও আয় বাড়াতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নিগমের চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে এসে গৌতম কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন,নিগমের স্থায়ী শ্রমিকদের ভিআরএস দিয়ে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে নিগম চালিয়েও মাসের প্রথম দিনে বেতন দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মাসের প্রথম দিনে বেতনের গ্যারান্টি করার দাবি করা হয়েছে।মৃত কর্মীদের পোষ্য সহ সমস্ত কন্ট্রাকচুয়াল কর্মীদের স্থায়ীকরনের দাবিও রাখা হয়েছে নিগমের কাছে।নিগমের আয় বাড়াতে ব্যর্থ ম্যানেজমেন্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেই বদলি করছে।যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।ট্রাফিক অফিস ও ওয়ার্কশপে প্রয়োজনীয় কর্মী নেই।বারবার বলা সত্বেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।কনট্রাকচুয়াল কর্মীরা কর্মরত অবস্থায় তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ও পরিবারের একজনের কাজের ব্যবস্থা করার দাবি করা হয়েছে।দাবি আদায়ে ধারাবাহিক অ্যান্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রিত এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন।
এদিন ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে স্মারকলিপি দেন গৌতম কুন্ডু,জগৎজ্যোতি দত্ত,রনজিৎ ধর,মৃনাল দেব প্রমুখ নেতৃত্ব।
জয়ন্ত সাহা,মাথাভাঙা,২
৩/৯/২২

18