পঞ্চায়েত দফতরের কাজে দুর্নীতি রুখতে এবার নজরদারি করবে নবান্ন

ওয়েবডেস্কঃ একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসতে কিছুটা হলেও চাপ বাড়ছে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ওপর। আর সেই কারণেই তৎপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় শাসকদের নেতা কর্মীদের দুর্নীতি খুঁজতে নবান্ন ত্রিফলা নজরদারী চালাবে। আর এ কাজে নবান্ন ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিওদের কাজে লাগাতে চায় নবান্ন।

সূত্রের খবর নবান্নের তরফে পঞ্চায়েতে দুর্নীতি খুঁজতে তৈরি হচছে পাঁচটি অডিট টিম। প্রতিটি টিমে থাকবে একজন করে অডিটর। সঙ্গে থাকবেন এক জন ইঞ্জিনিয়ার, ১ ডাব্লুবিসিএস 9অফিসার। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ পোর্টাল। যেখানে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি সংক্রান্ত কথা জানাতে পারবেন গ্রামের মানুষ। তবে তাদের নিরাপত্তার জন্য পোর্টালে তাদের নাম গোপন রাখারও ব্যবস্থা হচ্ছে। এছাড়াও তৈরি খোলা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। দুর্নীতি রুখতে এই ত্রিফলা নজরদারির ব্যবস্থা করতে চলছে নবান্ন। সম্প্রতি এই দফতরের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রদীপ মজুমদার।

কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামোন্নয়নের কাজে দুর্নীতির যে অভিযোগ এনেছে, তা নিরসন করতেই এই নতুন পদ্ধতি আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যে পদ্ধতিতে মূলত নিচুতলার কাজের প্রতি নজর রেখে দুর্নীতি রোধ করতে চাইছে রাজ্য সরকার। কোনও রকম সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্লকের বিডিওর কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করা হবে। এক আধিকারিকের কথায়,”সরকার গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে কোনও রকম আপস করতে নারাজ। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে সেই কাজের ভিত্তিতেই ভোটে যেতে চাইছে সরকার। তাই এখন থেকেই কড়া পদক্ষেপ করতে চাইছে।”

পঞ্চায়েত সচিব জানিয়েছেন, মাসে একটি করে জেলা পরিষদের চালু বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের কাজ পরিদর্শন করতে হবে ডিভিশনাল কমিশনারদের। এই কাজ রূপায়ণ নিয়ে কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলে তার সত্যতা খতিয়ে দেখে সমাধান করতে হবে। পরিদর্শনের পরই তা পোর্টালের মাধ্যমে জানাতে হবে। জেলাশাসককে একই ভাবে মাসে একটি করে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে গিয়ে চালু প্রকল্প রূপায়ণের কাজ পরিদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসকদের জন্যও একই রুটিন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমার ডেপুটি কন্ট্রোলারকে একটি পঞ্চায়েত সমিতি ও দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিও ও জয়েন্ট বিডিওদের মাসে তিনটি করে গ্রাম পঞ্চায়েত পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে হবে।

22