ইরফান হাবিব গুন্ডা, ইতিহাসবিদের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ রাজ্যপাল আরিফের

ওয়েবডেস্কঃ ইতিহাসবিদ অধ্যাপককে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করলেন কেরালার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান ৷ মঙ্গলবার কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস’-এ তিনি ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের বিরুদ্ধে তাঁকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তোলেন ৷ এই অনুষ্ঠানে ইরফান হাবিবও উপস্থিত ছিলেন।

রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলেন, “শারীরিক হেনস্থাকে প্রশ্রয় দেওয়াটা কি একজন শিক্ষাবিদের কাজ ? এটা গুন্ডারা করে, রাস্তার গুন্ডা ৷” তিনি ইরফান হাবিবের নামোল্লেখ করে বলেন, “ইরফান হাবিব একজন গুন্ডা। আমি যখন বক্তৃতা দিতে যাচ্ছি, তখন তিনি শারীরিকভাবে আমাকে হেনস্থা করে আমার কন্ঠরোধ করতে চেয়েছিলেন। আপনারা দেখেছেন কিভাবে আমার সহায়ককে হেনস্থা করা হয়েছিল। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। হাবিব সরাসরি আমার দিকে তেড়ে এসেছিলেন।”

যদিও এই বিষয়টিকে একদমই গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রফেসর হাবিব। উল্টে তাঁর ঠান্ডা মন্তব্য, স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে যা খুশি বলতে পারেন উনি। প্রবীণ ইতিহাসবিদ জানিয়েছেন, “স্বাধীন দেশের নাগরিক উনি। যা খুশি বলার স্বাধীনতা আছে ওনার। সেই হিসেবে উনি আমাকে এটা (গুন্ডা) বলেছেন। উনি ঠিক বলেছেন না ভুল, তা বিচার করার দায়িত্ব জনগণের। উনি আদালত নন। আমি কোনও রাজ্যপাল বা অন্যান্য কোনও বিতর্কিত বিষয়ে মোটেও আগ্রহী নই।”

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮০ তম ‘ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস’ বসেছিল কেরলের কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরফান হাবিব, রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান সহ অন্যান্যরা। সেই সময়ই আরিফ অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যাতে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে না পারেন তার জন্য তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন ইরফান হাবিব। মঙ্গলবার দিল্লিতে এই প্রসঙ্গে ফের প্রশ্ন করা হয়েছিল আরিফকে, যার উত্তরে তিনি হাবিবকে গুন্ডা বলে অভিহিত করেছেন। যদিও এ বিষয়ে হাবিব বলেন, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন উপস্থিত ছিলেন। যা ঘটেছে সকলে দেখেছেন। পরের দিন সংবাদপত্রগুলোতে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। উনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। উপাচার্য তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। জনগণ বিচার করুক ওঁর বিতর্কিত মন্তব্যের।

19