কুলিক রোববার: স্মৃতি ৭০

সাধন দাস

শহরে বাশারদা ১   

৫/১১/১৬। শুনলাম বাশারদা ( সাহিত্যিক আবুল বাশার) শহরে এসেছে। মনটা হু হু করে উঠলো। রৌরবে অনেক বছরের, এক বিছানায় অনেকদিনের সঙ্গী। শেষ দেখা হয়েছিলো সোনারপুরে বাশারদার বাড়িতে। সেও অনেক বছর হলো। অফিস থেকে কোলকাতা আলিপুর পাঠিয়েছিলো তিনদিনের ট্রেনিংয়ে।  হোস্টেলও দিয়েছিলো। থাকিনি। একসঙ্গে সময় কাটাবার লোভে ছিলাম বাশারদার বাড়ি। দিনে যে যার কাজে থাকি। রাতে চুটিয়ে আড্ডা। ‘পাথরের ভ্রমর’ গল্পটা তখন শেষ করেছি। কোথাও ছাপা হয়নি। বাশারদাকে পড়ে শোনালাম। রৌরবে এমনই রীতি ছিলো, কেউ কিছু লিখলেই আড্ডায় এনে পড়বে। সবাই মতামত দেবে, আলোচনা, সমালোচনা হবে। লেখক বা কবি নিজেও অংশ নেবে। নিজেদের মধ্যে চেঁচামেচি, ঝগড়া ঝগড়ি পর্যন্ত হতো। মান অভিমান কিছু ছিলো না।  

‘পাথরের ভ্রমর’এ এক ভার্সেটাইল কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র, মারা গিয়েছে। অনুগামী পাঁচ জন নারীর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর পাঁচ বা তারো বেশি গুণ ও সম্মিলিত রূপ। টিভির ওপেন শোয়ে মহীয়সী নারীকে ভেঙে পাঁচ রূপে, গুণে হাজির করতে চেয়েছেন তাঁর প্রেমিক। এই মোটামুটি গল্পের বিষয়। গল্পটা শুনে বাশারদার সেকি হাউমাউ কান্না! 

তখন বাশারদা আনন্দ বাজারে চাকরি করে। আনন্দ বাজার পত্রিকা আমাদের চোখে এসটাব্লিশমেন্ট। ওখানে চাকরি নিলে রৌরবিয়ানদের জাত যায়। বেশিরভাগ বন্ধুই আনন্দবাজারে চাকরি নিতে বাশারদাকে বারন করেছিলো। ওখানে লেখা ছাপাও কারো কারো পছন্দের ছিলো না। আমি বলেছিলাম, বাশারদা, ওখানে লিখতে ইচ্ছে হলে লেখো, চাকরি নিও না। গ্রাম ছেড়ে যেও না। গ্রাম তোমার শিকড়। তোমার রঙ, রূপ, রস, আত্মিক সম্পর্ক এই গ্রামে। বাশারদার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- মনে পড়ে?

বন্ধুরা কাছাকাছি বাস করবো।  আমি আর চাঁদু ( শুভ চট্টোপাধ্যায়, রৌরবের সম্পাদক, গল্পকার) পাশাপাশি জমি কিনেছি। সন্দীপদার ( কবি, সন্দীপ বিশ্বাস) জমি পাশেই। কাছেই গীতাদির ( কবি গীতা কর্মকার)  বাড়ি। জেনে, মুর্শিদাবাদ ছেড়ে যাওয়া, আমাদের পাশে বাড়ি করতে না পারার জন্যে বাশারদার আপশোষ উথলে উঠলো। রৌরবে সবাই যেমন সবার গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতাম তেমন এগিয়ে এসে, আমার কোলের মধ্যে হাত রেখে বলে উঠলো- সাধন, সুতিরমাঠে তোমাদের কাছাকাছি একটা জমি দেখো। এখান থেকে সব বেচে কিনে চলে যাবো। ওখানে না গেলে লিখতে পারবো না। রৌরবের আড্ডায় ফের বসতে হবে। মতামত, আলোচনা, আড্ডা খুব দরকার। লিখতে পারছি না। দেখো , ঠিক তোমার মতো ভাবনাতেই একটা উপন্যাসের প্ল্যান করে রেখেছি। এগুচ্ছে না। 

বাশারদার উপন্যাসটা ছিলো আমার গল্পের বিপরীত ভাবনার। মক্সোটা করে, সবে লিখতে শুরু করেছে। সেখানে পাঁচজন নারী এক নারীতে পরিনত হতে চাইছে।  

15