ধর্ষকরাও সংস্কারী!‘ওরা ব্রাহ্মণ, মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ’, বিলকিসের ধর্ষকদের দরাজ সার্টিফিকেট বিজেপি বিধায়কের

ওয়েবডেস্কঃ

২০০২ সালে বিলকিস বানো-র গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বানোর বয়স ছিল ২১ বছর।এর পাশাপাশি তিনি সেই সময় পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ২০০২ সালের ৩ মার্চ। ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারী মুম্বইয়ের একটি বিশেষ সিবিআই আদালত বিলকিস বানোর পরিবারের সাত সদস্যকে গণধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগে ১১ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। অভিযুক্তরা জীবনের ১৫ বছরেরও বেশি সময় জেলে ছিলেন। এর পরে তাদের মধ্যে একজন তার নিজের মুক্তির আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারকে তার সাজা মুকুবের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এর পরেই গুজরাট সরকার এই বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে।

সম্প্রতি, সাজা মকুবের আইন প্রয়োগ করে সকলকে মুক্তি দিয়েছে গুজরাত সরকার। শুধু তাই নয়, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ১১ জনের কপালে তিলক কেটে, মিষ্টিমুখ করিয়ে, মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোর দৃশ্যও সামনে এসেছে। সেই নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ওই ১১ জনের হয়ে সওয়াল করতে দেখা গেল গুজরাতের বিজেপি বিধায়ক সি.কে রাউলজিকে ।

এবিষয়ে গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘অপরাধ ঘটিয়েছে কিনা জানি না আমি। তবে জেলে ওদের আচরণ ভাল ছিল। ওরা সব ব্রাহ্মণ সন্তান। মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ।’’

ইতিমধ্যেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের প্রায় ‘বীরে’র মর্যাদা দিয়েছে। নিজেদের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছে।

এদিকে ধর্ষকদের মুক্তির নির্দেশ প্রত্যাহারের আরজি জানিয়ে জমা পড়েছে ৬ হাজারেরও বেশি আবেদন। মধ্যবিত্ত নাগরিক থেকে প্রান্তিক শ্রেণির প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, লেখক, ইতিহাসবিদ, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক, প্রাক্তন আমলা অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন।

22