ডাঃ দেবব্রত রায়ের কলমে

একটি বিনোদন মেলা, আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্স এবং কিছু কথা

আবার একটি রোববার সমাগত।
সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস।জোড়া উদযাপনের দিন বটে। গত রোববার ছিল আর একটি ছুটির দিন। তাই স্টেডিয়াম মাঠের এক্সপো মেলায় উপচে পড়ে ছিল বাঁধনছাড়া ভিড়। বিনোদনের উদযাপন। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছল জনস্রোত আটকে দিয়েছিল সামনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত রাস্তা যার পোশাকি নাম ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় সরণি ওরফে হাসপাতাল রোড।
নামেন পরিচীয়তে । আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে হাসপাতালে ঢোকার এবং বেরোবার যে দুটি গেট সে দুটিই এই রাস্তার উপর – অন্য আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই।
এবার একটু ফিরে দেখি গত রোববার ঠিক কী ঘটেছিল এখানে।
  সময় তখন। তখন সন্ধ্যা 7:30 । জমজমাটি স্টেডিয়াম মাঠে বৈশাখী মেলা বা এক্সপো 2022। প্রতিবারই এই সময় যেমন হয় মেলায় ভিড়।ক্রমে ক্রমে মেলার ভিড় মেলা ছাড়িয়ে উপছে পরছে হাসপাতাল রোডে। অনিয়ন্ত্রিত সাইকেল, বাইক, টোটো ,গাড়ি ,অ্যাম্বুলেন্স আটকে গেল মুহূর্তের মধ্যে। বাড়তে বাড়তে মুহূর্তের মধ্যেই তা গ্রাস করে নিল প পাবলিক বাস স্ট্যান্ড থেকে জেলখানা পর্যন্ত রাজপথ।
হাসপাতালের মূল গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে থমকে গেল রোগী ভর্তি অ্যাম্বুলেন্স। কারণ সামনে পথ আটকে টোটোর সারি।
হৈচৈ, চিৎকার-চেঁচামেচি হাঁকডাক সবমিলিয়ে সে এক উৎসব উৎসব ব্যাপার! অনেকদিন পর এমন উপভোগ্য ছুটির মেজাজ পাওয়া গেছে কিনা!! আর সেই মেজাজই থমকে গেল এম্বুলেন্স এর মধ্যে থাকা মানুষটির ভবিষ্যৎ ।সবাই যেন কেমন উন্মাদের মত।  নিয়ন্ত্রণের কোন বালাই নেই ।খানিকক্ষণ পর দেখা গেল ঘর্মক্লান্ত কয়েকজন পুলিশকর্মীকে। মানুষ, যান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে।
বাইক আরোহী- তাঁর বড্ড  তাড়া। তাই ফাঁকফোকর দিয়ে বাইক বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে আরো জট পাকিয়ে ফেললেন।  টোটো চালক তার ব্যবসার কারণে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে রাজি নন। পাশে থাকা সাইকেল স্ট্যান্ড ,বাইক  স্ট্যান্ডের সামনে বাহন নেওয়া আর দেওয়ার বড্ড তাড়া মানুষের।
ঘড়ির কাটায় তখন 8:15 পেড়িয়ে গেছে।
বোধ করি পুলিশ কর্মীরাও অসহায় বোধ করছিলেন।
শরীরী ভাষাতেই তা স্পষ্ট। মানুষ যখন তাদের কথা শুনছেনই না তখন তারা একটু কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন না কেন ?
শরীরী ভাষায় ওঁদের অসহায়তা অত্যন্ত স্পষ্ট। কিন্তু কেন?
আটকে থাকা মানুষজন হাঁসফাঁস করছেন রাগে ফুঁসছেন, অসহায় বোধ করছেন।প্রশাসনের মুন্ডুপাত করছেন।
  কিন্ত অসহায় প্রশাসন ও ।
ততক্ষনে হাসপাতালের ভেতরে এক নম্বর গেট আর দুই নাম্বার গেট এর মাঝের রাস্তাটুকুও ভর্তি হয়ে গেছে যানবাহনে।ফলতঃ হাসপাতালের সমস্ত ঢোকার আর বাইরে বেড়ানোর রাস্তা সম্পূর্ন অবরুদ্ধ।
এদিকে মূল রাস্তায় ঢুকে পড়েছে কলকাতাগামী বড় বাস যা অনায়াসেই বহু আগে থেকেই ঘুরিয়ে দেওয়া যেত এবং পরিস্থিতিতে সেটাই উচিত ছিল। কিন্তু কোথাও নিয়ন্ত্রণে কোন বালাই নেই।
সময় রাত আটটা চল্লিশ ।
এতক্ষণ পর কয়েকজন অফিসার বাহিনী নিয়ে এসে নামেন অকুস্থলে। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেন। সময় লাগলো বটে।তবে এক ঘন্টার জ্যাম এবারে আস্তে আস্তে হালকা হতে থাকলো।
হাসপাতালের সামনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল শুরু হলো।

একটা হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সাক্ষী রইল পথচলতি এবং বাহনে আটকে পড়া মানুষ। অ্যাম্বুলেন্সে আটকে থাকা মানুষটি জীবন্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে পেরেছিলেন কিনা খবর নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতি অনভিপ্রেত হলেও  অসম্ভব ছিল না কিন্ত।
মেলা কর্তৃপক্ষ এবং যান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কি কিছু প্রশ্ন থেকে গেল না ?
আগাম সর্তকতা নেওয়াটা কি উচিত ছিল না? প্রশাসনকে কি আরেকটু দৃঢ়তার  সঙ্গে  দ্রুত  পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারতেন না?
এখন দেখা যাক এই  রোববার কি ঘটে?!

এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনভাবেই কাম্য নয়। 

36