করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলেও রাজ্যে বিএড পরীক্ষা অনলাইনে হবে!ঘোষনায় অবাক পরীক্ষার্থীরা।

ওয়েবডেস্কঃ


কোভিড পরিস্থিতি এখন আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক।সারা দেশ শিক্ষা ব্যবস্থায় অনলাইন থেকে অফলাইনে ফিরলেও বিএড পরীক্ষা অন লাইনে হবে এমনই ঘোষনা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং এডুকেশন প্ল্যানিং এন্ড এডমিনিষ্ট্রেশন (বিএড বিশ্ববিদ্যালয়)।এই ঘোষনায় অবাক পড়ুয়ারাও।সারা রাজ্যের কোথাও অন লাইনে পরীক্ষার জন্য কোন আন্দোলন একজন পড়ুয়াও করে নি।তবে কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হল?
তবে কি অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে বেশি নম্বর পাইয়ে দিয়ে ভবিষৎ ছাত্র ছাত্রীদের এই সব কলেজে টানার ছক কষা হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।


রাজ্যে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬০০ র বেশি কলেজ রয়েছে।এরমধ্যে বেশির ভাগ কলেজই বেসরকারি মালিকানাধীন।
শিক্ষামহল থেকেই অভিযোগ উঠছে অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে বেশি নম্বর পাইয়ে দিতেই পরীক্ষা পদ্ধতিতে অনলাইনে আঁকড়ে ধরা হচ্ছে।
বিএড পড়ুয়া শুভঙ্কর দাস,অতসী পালের মত মেধাবী পড়ুয়ারা বলছেন অনলাইন পরীক্ষা মানেই ঘরে বসে বই খুলে পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দেওয়া।এতে যারা লেখাপড়াটাকে যারা সিরিয়াসলি নেয় তাদের যোগ্যতার প্রতি সরকার অমানবিকতারই পরিচয় দিচ্ছে।


পড়ুয়া অতসী পালের বক্তব্য,বিভিন্ন স্কুল, কলেজে ক্লাস থেকে পরীক্ষা সবই হচ্ছে অফলাইনে।তবে বিএডয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?তাঁর আরো বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর অভিসন্ধি আছে কর্তৃপক্ষের।বিষয়টি খতিয়ে দেখে অফলাইন পরীক্ষা নিতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা উচিত।
আরেক পড়ুয়া শুভঙ্কর দাসের বক্তব্য,বেশি নম্বর পেতে বেসরকারি কলেজে বিএড করতে ঝুঁকবে পড়ুয়ারা।
বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাধিক বেসরকারি বিএড কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন,বিএড বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি,আলোচনার মাধ্যমেই অনলাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গুলিকে প্রশ্নপত্র পাঠাবে।আমরা গোপনীয়তা বজায় রেখে সেই প্রশ্ন পড়ুয়াদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে তুলে দেব।
এই ব্যবস্থায় পরীক্ষা যে প্রহসনে পরিনত হবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বেসরকারি বিএড কলেজ কর্তৃপক্ষ নীরব থেকেছে।
বিএডএর ক্ষেত্রে অনলাইন পরীক্ষার যে গাইড লাইন তৈরি হয়েছে সেটিও যথেষ্ট সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।


তথ্য বলছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারনত তাদের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র আপলোড করে দিত।সেখান থেকে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর লিখে কলেজে গিয়ে কিংবা নির্দিষ্ট ইমেলে উত্তরপত্র জমা দিতে হত।কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই অনলাইন পরীক্ষার প্রশ্ন কলেজগুলিতে পাঠাতো না।
বিএড এর অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সে নিয়মও মানা হচ্ছে না।বিএড কলেজে কখন প্রশ্নপত্র পৌঁছোবে সেটা স্পষ্ট করে বলা নেই।বেসরকারি কলেজগুলি নিজেদের কলেজের সুনাম বাড়াতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোচবিহারের এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক জানিয়েছেন,এর আগে যখন অনলাইন পরীক্ষা হয়েছে তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্ন পাঠালে আমরা সেই প্রশ্ন পড়ুয়াদের হোয়াটসএপ গ্রুপে পাঠিয়ে দিতে দেখেছি।পড়ুয়ারা উত্তরপত্র লিখে কলেজকে হোয়াটসএপ বা ইমেলে পাঠিয়ে দিত! এবারও যদি অনলাইনে পরীক্ষা হলে হয়তো সেভাবেই হবে।


বিএড কলেজগুলির অনলাইন পরীক্ষার প্রশ্ন বা উত্তরপত্র পাঠানোর এই পদ্ধতি আদৌ কি বৈধ?
এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অনলাইন পরীক্ষা নেবার ঘোষনার পর।
কোচবিহার জেলার একাধিক বেসরকারি বিএড কলেজ সূত্রে জানা গেছে,আগামী ২২ শে আগষ্ট থেকে বিএড এর ২য় ও ৪র্থ সেমিস্টারের (রেগুলার ও সাপ্লিমেন্টারি-২)এবং প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টারের(সাপ্লিমেন্টারি-১)এর পরীক্ষা শুরু হবে।পরীক্ষা চলবে ৩০ শে আগষ্ট অব্দি।
পরীক্ষার জন্য দুটি বিজ্ঞপ্তি পেয়েছে বিভিন্ন কলেজ।তাতে অনলাইন পরীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়েই ফের স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের ভূত এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তে।

21