চাকরির নামে তোলাবাজি ছেলের, ‘প্রায়শ্চিত্ত’বাবার

ওয়েবডেস্কঃ

সম্প্রতি এসএসসি নিয়োগ নিয়ে সামনে এসেছে আর্থিক দুর্নীতির নানান কান্ড ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা। এছাড়াও তাদের জেরা করে পাওয়া গেছে একাধিক ফ্ল্যাট বিভিন্ন সম্পত্তি, নথি,বিদেশি মুদ্রা, কেজি কেজি সোনা,প্রায় ৫০ কোটি টাকা সহ আরো বিভিন্ন তথ্য। এছাড়াও এখনো পর্যন্ত চলছে তল্লাশি। এমতাবস্থায় রাজ্যজুড়ে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন তাদের ওপর পড়ছে চাপ।

শুধুমাত্র শিক্ষক নিয়োগই নয় গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি ইত্যাদিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য নানান জায়গা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছিল শাসকদলের কর্মীরা ।এমনই ঘটনার জেরে বর্তমানে ছেলের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছেন বাবা, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। জানা গিয়েছে, মহম্মদপুর এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা নান্টু প্রধান ছিলেন মহম্মদপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। আর প্রধান ছিলেন তাঁর স্ত্রী অপর্ণা। পঞ্চায়েত চলত কর্তা-গিন্নির যৌথ তদারকিতে। নান্টুর বাবা চাঁদহরি প্রধানও একসময় এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকেছেন দীর্ঘদিন। অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে স্থানীয় বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তুলেছেন নান্টু। এরই মধ্যে ২০১৮-র ২৪ ফেব্রুয়ারি খুন হন তিনি। ছেলের মৃত্যুর পর পাওনাদাররা এসে ভিড় করে তাঁর বৃদ্ধ বাবা চাঁদহরির কাছে। চাপ দিতে থাকে টাকা ফেরতের দাবিতে। এরপরেই নিজের জমিজমা বেচে ছেলের নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে শুরু করেন বাবা চাঁদহরি।

বৃদ্ধ চাঁদহরি বাবু বলেন, “ছেলে কী করেছে, তা আমরা জানি না। আমার সঙ্গে ছয়-সাত বছর তেমন বনিবনা ছিল না। ওর বাড়ির চৌকাঠ পার হতাম না। নান্টুর মৃত্যুর পর মাঝেমধ্যে যেতাম। চাকরির ব্যপারে কিছু জানি না। ওর মৃত্যুর পর আমার উপর চাপ আসছিল টাকা পরিশোধ করার জন্য। ওর ঘর থেকে কিছু টাকা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু তা দিয়ে এত টাকা পরিশোধ সম্ভব ছিল না। তাই কিছু জমি বিক্রি করে লোকের টাকা মিটিয়েছি। এখনও কিছুজনের টাকা বাকি রয়েছে। সম্পত্তি বেচে সব লোকের টাকা মেটাব।”

তিনি আরো বলেন, “আমি শুনেছি মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এখনও পর্যন্ত কয়েকজনের টাকা ফেরত দিয়েছি। কেউ ৫০, কেউ এক লাখ, কেউ দু’লাখ দিয়েছিল। বাকিদের টাকা ফেরানোর চেষ্টা করব। কিন্তু টাকা নেওয়ার কোনও তথ্য বা নথি কেউ দিতে পারছেন না। শুধুই চাপ আসছে। এটাও ভাবাচ্ছে।”

26