ঝিনুক খুঁজতে পাড়ি দিলেন অনন্তলোকে, প্রয়াত সংগীত শিল্পী নির্মলা মিশ্র

ওয়েবডেস্কঃ

‘এমন একটি ঝিনুক খুঁজে পেলাম না, যাতে মুক্ত আছে’এই গানে মাতোয়ারা বহু প্রজন্ম।তাঁর গানের সুরে গোটা বাংলার মন জয় করেছেন নির্মলা মিশ্র। বাংলা সংগীত জগতের দুর্লভ রত্ন ছিলেন তিনি। প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান সংগীত জগৎ।

কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী নির্মলা মিশ্রর জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ বাংলা। শনিবার রাত ১২:০২ নাগাদ ‘তোমার আকাশ দু’টি চোখে’র গায়িকা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া বাংলার সংগীত মহলে।

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন নির্মলা মিশ্র। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতে তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। বার্ধক্যজনিত সমস্যাও ছিল অশীতিপর শিল্পীর। বিগত চার বছরে কমপক্ষে ১০-১৫ বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় কিংবদন্তী শিল্পীকে।চেতলার বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শিলাজিৎ মজুমদার শোকপ্রকাশ করে লেখেন, “খুব কম মিশলেও, মনে হয়েছিল মানুষটার মধ্যে শিল্পীদের মত খ্যাপামি আছে। যখনই দেখা হয়েছে, মনে হয়নি মানুষটা দূরের। দেখা হলেই উনি আশীর্বাদ করেছেন।”

লগায়িকা ইমন চক্রবর্তী কিংবদন্তী সংগীত শিল্পীর গান শেয়ার করে লেখেন, “এই কণ্ঠের কোনও মৃত্যু নেই।”

ক্যাকটাস খ্যাত সিধু নির্মলা মিশ্রর গানের লিরিক্স উদ্ধৃত করে লেখেন, “ঘুমিয়ে ছিলাম মায়ের কোলে, কখন যে মা গেল চলে, সবাই বলে ওই আকাশে, লুকিয়ে আছে খুঁজে নাও… নির্মলা মিশ্রর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষবারের মতো নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।আজ কেওড়া তলা মহাশ্মশানে কিংবদন্তী শিল্পীর শেষকৃত্য হবে।

বাংলার আরও এক জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য এদিন ফেসবুকে লেখেন, “নির্মলা মিশ্র কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন…।

মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের যুগে বাংলা গানের আলাদা ঘরানা তৈরি করেছিলেন নির্মলা মিশ্র। ‘এমন একটা ঝিনুক খুঁজে’, ‘চাঁদকে নিভিয়ে রাখো’, ‘যায় রে এ কী বিরহে’, ‘সুখ যে আমার’, ‘তোমার আকাশ দু’টি চোখে’, ‘আজ কোনও কাজ নেই’, ‘ও আমার মন পাখি’, ‘আমায় বাঁশের বাঁশি দাও বাজাতে’, ‘আকাশে নেই তারার দীপ’, ‘ও তোতা পাখি রে’-র মতো জনপ্রিয় বাংলা গানগুলি গেয়েছিলেন তিনি।

21