কুলিক রোববার গল্প : নদীটা আছে, কিন্তু নেই

মোজাফফর হোসেন

আজ খুব থির। নদীকে এত আলাভোলা আগে হতে দেখিনি। বাবা বললেন। আমি কোনো কথা বলি না। এরপর আমরা অনেকক্ষণ কোনো কথা না বলে বসে থাকি। বাবা একসময় হাত তুলে দূরে দেখান। ওই যে নৌকাটা দেখছিস, ওইরকম একটা নৌকা আমাদেরও ছিল। আমরাও ওইভাবে মাছ ধরেছি। তখন পানি আরো বেশি ছিল। আমরা যেখানে বসে আছি, ভরা মৌসুমে এখানেও পানি উঠে আসত। এখন সে তুলনায় পানি কম। 

নদী এত শান্ত মানে লক্ষণ ভালো না। তুফান উঠবে। বাবা বলে যান আপনমনে।

দেখ, জেলে মাছ পাচ্ছে না, পাখিটা ঠিকই মাছ খুঁটে আনবে। 

দেখলি তো, ঠোকরটা মিস গেল না। 

চলো উঠি। আরেকদিন আবার আসব নদী দেখতে। 

এসেছি যখন ওজুটা করে যাই, তোর দাদা তো নদীতেই ওজু করতুক। 

আরেকদিন। তুমি না বললে লক্ষণ ভালো না। ঝড় উঠবে। 

হ্যাঁ, কেমন সেয়ানা ষাঁড়ের মতো ফোঁস ফোঁস করছে দেখেছিস? চল তাহলে। 

আমরা উঠে দাঁড়াই। বাবা হাত তুলে চিৎকার দিয়ে ওঠে: ওহে, বেকুব নাকি তুমি! নৌকা কূলে আনো, ঝড় উঠবে। 

বাবাকে হাতে ধরে তুলে আনি। কটা কিশোর আমাদের পাশ কাটিয়ে নদীর দিকে দৌড়াতে থাকে। বাবা থেমে আবারও চিৎকার দিয়ে ওঠে: ওরে পানির দিকে যাসনে, ডুবে যাবি তো। কাদের ছেলে, এইভাবে ছাড়ে নাকি! 

বাবাকে কিছুটা জোর করে টেনে আনি। পেছনে শুকনো খাঁখাঁ প্রান্তরে সিথিকাটা রাস্তা ধরে ছেলেগুলো দৌড়াতে থাকে ঘুড়ি হাতে।

নদীটা নেই। হাঁটতে হাঁটতে টের পাই বাবাও নেই পাশে। এক টুকরো মেঘ উপর থেকে ছায়া হয়ে চলতে থাকে সঙ্গে সঙ্গে। 

17