সাহিত্য প্রসঙ্গ: পর্ব ৪

ভাস্কর চৌধুরী

হুমায়ুন আহমেদের “আমার আছে জল “-লিখার নেপথ্য কাহিনী

” এইসব দিনরাত্রি ” লিখার পর হুমায়ুন আহমেদের সাথে আমার যাতায়াত বেড়ে গেলো। খুব ভালো জমাট সংসার। তার ভেতরে শখের ভিসিআর। মা ভাই সবাই সংসারে আছেন। নয়া পল্টন লাইনে বাসা। সামনে একটু ফাঁকা জায়গা।
‎ একদিন ক্যাসেট কেনার নাম করে আমরা বের হলাম। সুরকল্লোল এর দোকানে। ওরা ক্যাসেট ও লং প্লে দুটোই বিক্রি করে। পছন্দের গান রেকর্ড করে দেয়। আগেও একা গেছি। ছুটির দিনে প্রায় ঔপন্যাসিক আমলা হাসনাত আব্দুল হাই এর সাথে দেখা হয়। তিনি খুব চুজি গান পাগল মানুষ।
‎ হুমায়ুন ভাই সুরকল্লোলে ঢুকলেন। অথচ হাসনাত আব্দুল হাই তাঁকে চিনলেন না, আমি অবাক হলাম। গোটা দেশ যার সিরিয়াল দেখার জন্যে উন্মুখ, হাসনাত আব্দুল হাই তাকে এড়িয়ে গেলেন। বাইরে এসে আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, হাসনাত আব্দুল হাইকে আপনি দেখেন নি? অবাক চোখে চে তিনি বললেন, উনি আবার কে? বুঝলাম, দুজনই দুজনকে চিনেছেন। আপন অহং জন্যে কথা হয় নি। যদি হুমায়ুন আহমেদ কে নিয়ে বাইরে সাধারণ মানুষ কথা বলে, তো সে হিসেবে হাসনাত আব্দুলভাই কে তার পাঠকও চেনে না। আমলারা সাধারণ মানুষের ছুঁয়ে যেতে পারে না। তাদের লিখাও পারে না। যে কারণে লাল শালু ক্লাসে পাঠ্য হবার কারণে ছাত্ররা পড়তো। লেখককে দেখার ইচ্ছে হয় নি। সে হিসেবে টেলিভিশন সিরিয়াল লিখে হুমায়ুন আহমেদ সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের মন জয় করছিলো তখন।
‎ কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ হাজার কিশোরী ও নব্য যুবতীদের প্রিয় হয়ে উঠলেন তাঁর ছোট উপন্যাস “আমার আছে জল” এর মাধ্যমে।
‎ সেদিন আমি তাঁর সাথে আমার দাদার ঢাকার ভিটের যাচ্ছে একটা বাসায় গেলাম। যার বাড়ি গেলাম তিনি হুমায়ুন আহমেদের বন্ধু। তার উঠতি বয়সের সুন্দরী দুই মেয়ে। হুমায়ুন ভাই ছোট বোনের হাতে একটা খাম দিলেন। তারপর তাঁর বন্ধুর সাথে আমাকে ছেড়ে কোথাও বেরিয়ে গেলেন।
‎ এভাবে বেশ কিছুদিন এই খাম বেয়া দেয়া চললো। কখনো বড়টির হাতে, কখনো ছোটটির হাতে তিনি খাম দিতেন। ওই বয়েসের বড়ো মেয়ে তাঁর ছিলো।
‎ তারপর বাজারে দুইটি বই ও গুজব বের হলো। একটি হলো, তাঁর নতুন ভাইরাল উপন্যাস “আমার আছে জল” আর দ্বিতীয়টি গুজব যে ,বন্ধুর দুই মেয়েকেই তিনি মানসিক ব্ল্যাকমেইল করেছেন।
‎ কারণ বইটি বের হবার পর উঠতি তরুণী মেয়েটি পরিবারে ব্যাপক হেয় হয়ে যায়। ভার্সিটিতেও । ফলে চাকুরীর খোঁজে সে প্রকাশক ও অনিন্দ্য পত্রিকার শিবলীর কাছেও গিয়েছিল।
‎ উল্লেখ্য যে “আমার আছে জল” উপন্যাসও দুই বোনের মারাত্মক কিশোরী প্রেমের গল্প ছিলো।
‎ মেয়েটি পরে বাস্তবে পত্রিকায় হুমায়ুন আহমেদ কে বিয়ে করবে বলে বিবৃতি দিয়েছিলো।

18