বিদেশের সম্মানিত ‘দোস্তোজি’-র সেরা অভিনেতার পুরস্কার বাংলার দুই খুদের

ওয়েবডেস্কঃ

প্রসূন চট্টোপাধ‌্যায় পরিচালিত ছবি ‘দোস্তোজি’। মূলত, ১৯৯২-৯৩ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আঁচ গিয়ে পৌঁছেছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দূরবর্তী গ্রামেও। সেই গ্রামেই পলাশ এবং সফিকুলের বন্ধুত্বের গল্পই বলে ‘দোস্তোজি’।

ইতিমধ্যেই বিশ্ব সিনেমা মঞ্চে সাড়া ফেলেছে। লন্ডন-এর ‘বিএফআই’ ফিল্ম ফেস্টিভ‌্যালে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর আঠারোটি দেশ ঘুরে সাতটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘ইউনেস্কো’র ‘সিফেজ’ পুরস্কারও। মালয়েশিয়ায় ছয়টি নমিনেশন পেয়েছিল ‘দোস্তোজি’। এবারে মালয়েশিয়াতে পুরস্কার জিতে নিল ‘দোস্তোজি’ চলচ্চিত্রের দুই নায়ক। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের অন্তর্ভুক্ত ভগীরথপুরের দুই খুদে আশিক শেখ এবং আরিফ শেখ । এখনো পর্যন্ত তাদের গ্রামের বাইরে পা রাখেনি তারা কিন্তু আট বছরের দুই খুদের অভিনয় মন জয় করেছে সকলের।

আশিকের বাবা ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক,করোনা মহামারীর কারণে কাজ চলে যায়, এখন কাঠের কাজ করেন। এবং আরিফের বাবা ইটভাটায় মাটি কাটার কাজ করেন। আশিক বলে, ‘জীবনেও অভিনয় করব না আর’। তবে ভবিষ্যতে আরিফের অভিনয় করার ইচ্ছে আছে বলেই জানালেন পরিচালক।

পরিচালক প্রসূন চট্টোপাধ‌্যায় বলেন, “আমি ওদের জন‌্য খুব খুশি। ওরা তো ভাল করে বোঝেও না অ‌্যাওয়ার্ড-এর বিষয়টা। এই সব নিয়ে কোনও মাথাব‌্যথাও নেই। খবর দিতে অন‌্য একজনের ফোনে কল করেছিলাম। স্পিকারে দু’জনেই হইহই করছে। ওদের বক্তব‌্য, প্রসূনদা যখন বলছে মালয়েশিয়া নিশ্চয়ই কোনও ভাল দেশ হবে”।আশিক, আরিফকে গোটা গ্রাম চষে খুঁজে বের করেছিলেন প্রসূন। বাবা-মায়ের আপত্তি কাটিয়ে প্রায় এক বছর ওদের সঙ্গে সময় দেওয়ার পর, তবে শুটিং-এর জন‌্য প্রস্তুত করেন। এর আগে স্টিল ক‌্যামেরা পর্যন্ত চোখে দেখেনি দুই বন্ধু। সিনেমার মতোই সত্যি জীবনেও দুই বন্ধু আশিক এবং আরিফ।

30