জেলার ইতিহাস -ঐতিহ্য নিয়ে প্রদর্শনী রায়গঞ্জে

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইতিহাস -ঐতিহ্য নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল উত্তর দিনাজপুর ইতিহাস সমিতি।এই উপলক্ষে রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন বহু ইতিহাস প্রেমী পড়ুয়া, গবেষক ও অভিভাবক -অভিভাবিকা। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক

ড. দুর্লভ সরকার ও ইটাহারের ড. মেঘনাদ সাহা কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক, উত্তর দিনাজপুর হেরিটেজ সোসাইটির মুখ্য উপদেষ্টা, হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অফ নর্থ বেঙ্গলের সভাপতি সুকুমার বাড়ই। সাথে ছিলেন রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালিচরণ সাহা। প্রদর্শনীতে দেখা গেল উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছবি ও কাহিনী। বিভিন্ন স্কুল- কলেজের পড়ুয়ারা কেউ ইটাহারের মারনাই প্রমথেশ্বর মহাদেব জিউ নিয়ে কথা বলছে,কেউ রায়গঞ্জের বিন্দোলের ভৈরবী মন্দির নিয়ে আবার কেউ বাহিন জমিদার বাড়ি নিয়ে কেউবা স্বামীনাথের মন্দির নিয়ে কথা বলছে। কেউ বলছে ইসলামপুরের জমিদার বাড়ি নিয়ে আবার কেউ বলছে হেমতাবাদের তারাসুন্দরী মন্দির নিয়ে। কেউ বা আবার বলছে উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী পাথরের দুর্গা নিয়ে,আবার কেউ বলছে কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালি মন্দির নিয়ে। জেলার এরূপ আরও ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান নিয়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে উঠে এল জেলার অতিত ঐতিহ্য।

আয়োজক সংস্থার সভাপতি সোমনাথ সিংহের কথায়, আমাদের জেলার বেশ কিছু ইতিহাস প্রেমী ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকদের একান্ত অনুরোধে আমরা এই আয়োজন করেছি। অধ্যাপক সুকুমার বাড়ই জানান এ ধরনের আয়োজন খুবই প্রাসঙ্গিক। এর ফলে পড়ুয়াদের মনে নিজের জেলার ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক ধারনা জন্মাবে। জেলার ছাত্রী- ছাত্রী ও ইতিহাস প্রেমী মানুষদের নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, প্রদর্শনী, শিক্ষা মূলক ভ্রমণ ও কর্মশালার আয়োজন করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।


উদ্বোধক দুর্লভ সরকার বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রথম দেখলাম। এই প্রজন্মের পড়ুয়ারা খুব সুন্দর ভাবে বিষয়গুলিকে উপস্থাপন করেছে। আমি এর মাধ্যমে নিজেও জেলার অনেক অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারলাম। রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালিচরণ সাহা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উত্তর দিনাজপুর ইতিহাস সমিতির সম্পাদক মহ: হাবিব আলম, সহ সভাপতি নাহিদ আঞ্জুম রহমান এবং সহ সম্পাদক খুশবু কুন্ডুরা জানান এ ধরনের আয়োজন আমরা প্রথম করলাম। অনেক কিছু জানলাম ও শিখলাম। আগামীতে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কাজ করতে চাই। আর চাই সকলের আন্তরিক সহযোগিতা। জানা গেল সমিতির সদস্যদের মধ্যে থেকে এই বছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ইতিহাস বিষয়ে নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়।

36