অভিনব ভোট প্রক্রিয়া বর্ধমানে! ভোট দিচ্ছেন ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী

ওয়েবডেস্কঃ

পূর্ব বর্ধমানের গলসির কুড়মুনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়েছে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র। ব্যালট বাক্স নিয়ে বসেছেন প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং পার্সোনেলরা। রয়েছেন পোলিং এজেন্টরাও। সচিত্র পরিচয় পত্র নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন ১৪৩ জন ভোটদাতা। ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণ।

একইসাথে এদিনই ভোট গণনার পর প্রার্থীদের মধ্যে যে বেশি ভোট পাবে সে প্রধানমন্ত্রী, তারপর শিক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রী, তারপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তারপর খাদ্যমন্ত্রী এবং শেষে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হবে। এদিন ভোটগণনা শেষে নির্বাচিতদের শংসাপত্র দেওয়া হয়। শপথবাক্যও পাঠ করানো হয়। মন্ত্রীর কার্ড ও সাদা টুপি পরিয়ে বরণ করা হয় নির্বাচিতদের। আর এই এত শত প্রক্রিয়া চলল নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে। কারণ ভোটদাতা থেকে শুরু করে প্রার্থী সকলেরই বয়স ৬ থেকে ১১। এমনই এক অভিনব ভোট গ্রহণের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী থাকলো বর্ধমানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলেই শিশু সংসদ রাখা হত আগে । তবে, সাম্প্রতিককালে এই প্রথম জেলার কোনও প্রাথমিক স্কুলে নির্বাচন হল বলে দাবি করেছেন কুড়মুনা প্রাথমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ। মূলত পড়ুয়াদের নেতৃত্বদান, দায়িত্ব পালন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মূল্যবোধ গড়তে, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক দেশে ভোটদানের গুরুত্ব বোঝাতেই এমন আয়োজন।

স্কুলের শিক্ষক রাজীব কুমার হুই জানান, ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মনোনয়নপত্র দাখিল করা, পোলিং এজেন্ট, ব্যালট পেপার, ভোটগণনা, সার্টিফিকেট প্রদান, শপথ নেওয়া- সবটাই করা হয়েছে। যেভাবে সাধারণ নির্বাচনে হয়, ঠিক সেইভাবে। তিনি জানান, এই স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী ২০৬ জন। প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর ৪০ জন পড়ুয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছিল। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ১৬৬ জন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। তার মধ্যে ১৪৩ জন ছাত্রছাত্রী ভোট দিয়েছে।

এদিন খুদে পড়ুয়াদের ভোটপর্ব দেখতে অনেক অভিভাবক হাজির‌ হয়েছিলেন স্কুলে। বিদ্যালয় পরিদর্শক জয়ন্ত ঢালিও হাজির ছিলেন। সকলেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

31