আনিসকাণ্ডে চাই সিবিআই তদন্ত, পথে নামছেন মীনাক্ষীরা

ওয়েবডেস্কঃ গত ১৮ ই ফেব্রুয়ারী রাতে আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনার পর উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। আলিয়া বিশ্বিদ্যালয়ের ছাত্র আনিস খানের মৃত্যুর তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত চায় তারা। সোমবার সিটের প্রথম চার্জশিট জমা দেওয়ার পর আরও একবার আনিসের পরিবার যাতে বিচার পায় সেই দাবি নিয়ে এবার রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ ও সই সংগ্রহ অভিযানে নামছেন ডি ওয়াই এফ আই। তাঁদের দাবি, আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ আনিসের মৃত্যুর জন্য দায়ী। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।

এদিনের পেশ করা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, খুন নয়, দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েই মৃত্যু হয় আনিস খানের। চার্জশিটে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা এসএফএল ও সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা সিএফএসএল যে রিপোর্ট পেশ করেছিল, তারও উল্লেখ করা হয়। চার্জশিটে নাম রয়েছে আমতা থানার তৎকালীন ওসির।

এ প্রসঙ্গে ডিওয়াইএফআই বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছে। সেগুলি হল,

১) কেন পুলিশ সেদিন অত রাতে কোনও অভিযোগ ছাড়াই আনিসের বাড়ি গিয়েছিল?

২) যে পুলিশ খুন করল, সেই পুলিশের নেতৃত্বেই শেষ পর্যন্ত সিট গঠন করে দোষীদের কেন আড়াল করা হচ্ছে?

৩) আনিস মারা যাওয়ার পর পুলিশ চলে গেল কেন?

৪) কেনই বা আনিসের ডেডবডির খবর আনিসের বাবার কাছ থেকে পাওয়ার পরও পুলিশের ১৯ ঘণ্টা লাগল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে?

এই সকল প্রশ্নকে সামনে রেখেই আনিসের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যজুড়ে সই সংগ্রহে নেমেছে মীনাক্ষীর দল।

ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদিক মীনাক্ষী মুখার্জী জানান, “মুখ্যমন্ত্রী আনিসের খুনের পরেই বলে দিয়েছিলেন যে কেউ কী ইচ্ছে করে খুন করে? দেখা গেল রাজ্যের বিভিন্ন ঘটনার মত আনিস খানের খুনেও এই ‘অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু’ কথাটি চার্জশিটে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী আবারও একটা খুনকে ‘অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু’ বা ‘ছোট ঘটনা’ বলে প্রতিফলিত করতে চাইল রাজ্যের বুকে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “ডিওয়াইএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে আমরা এটা পরিষ্কার বলতে চাই, আনিসের বাবা দাবি করেছেন আনিসের খুন যে পুলিশ করেছে সেই পুলিশকে দিয়ে সিট গঠন করে সেই পুলিশ দিয়ে দোষীদের শাস্তি হতে পারে না। তাই, বিচার বিভাগীয় নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।”

28