বিদ্যুতে ইউনিট প্রতি ৭৪ পয়সা বাড়তি তুলছে রাজ্যই, সামনে এলো তথ্য

ওয়েবডেস্কঃ কোনও বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি নয়, খোদ রাজ্য সরকার গত আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে রাজ্যবাসীর কাছ থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বিপুল টাকা। বিদ্যুতের দাম কমানো তো পরের কথা। প্রতি তিন মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে হয় বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির গ্রাহকদের। গোটা রাজ্যে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির গ্রাহকের সংখ্যা ২কোটি ১৫লক্ষ। গত আড়াই বছর ধরে তাঁদের বিদ্যুৎ বিলে বাড়তি টাকা নিয়ে কোষাগারে ভরতি করছে সরকার।

বিদ্যুৎ কেনার দাম ৫১ পয়সা কমলেও , জনগণের ওপর বোঝা চাপল ২৩ পয়সা। প্রতি ইউনিটে ৭৪ পয়সার বাড়তি বোঝা কেন বইতে হচ্ছে গ্রাহকদের? জবাব নেই সরকারের। পিডিসিএল-এর কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের কাছে সররবরাহ করে ডব্লিউবিএসইডিসিএল। ২০১৯সালে এই দুই সরকারি কোম্পানি নিজেদের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় নিয়ে চুক্তি করে। সেই চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল, এসইডিসিএল সংস্থা পিডিসিএল’কে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৪ টাকা করে দাম দেবে। তিন বছরের জন্য চুক্তি করে এই দাম ঠিক হয়েছিল।

কিন্তু ২০২০সালে পরিস্থিতির বদল ঘটে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনার খরচ এক ধাক্কায় ৫১ পয়সা কমে যায়। কেনার খরচ কম হলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির ২কোটির ওপর গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে। বরং কেনার খরচ কম হলেও, গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপালো রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। সব মিলিয়ে ৭৪পয়সা প্রতি ইউনিটে বাড়তি বোঝা নিয়ে ফি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে রাজ্যের সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির গ্রাহকদের।

রাজ্যের সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির এহেন অবৈধ কার্যকলাপকে প্রকাশ্যে আসার পর মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা। কিন্তু রাজ্যবাসীর পকেট কেটে সংগ্রহ করা বিপুল এই টাকা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কোথায়? তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সন্দেহ। জনস্বার্থে কেন বিদ্যুতের দাম কমানো হবে না, এই প্রশ্ন তুলে গত তিন মাস আগে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ ওয়ার্কমেন্স ইউনিয়ন। বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফ থেকে তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি।

বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মচারীদের অভিযোগ, “আমাদের প্রাপ্য টাকা দেওয়া হচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ কেনার খরচ কমে যাওয়ার পরেও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি মাশুল চাপানো হচ্ছে। তাহলে, টাকা যাচ্ছে কোথায়?”

54