দ্রৌপদী নিয়ে মমতার মন্তব্যের জের।দিদি, মোদীর দালাল! তোপ অধীর-সুজনের

ওয়েবডেস্কঃ

১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ৷ তাঁর আগে সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বাছাই না-করতে পারায় বিজেপিকে দায়ী করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আগে জানালে ভেবে দেখতাম।” বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই বক্তব্য শোনার পরেই ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। কড়া সমালোচনা করল বাম-কংগ্রেস।

শুক্রবার ইসকনের জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মুর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। আগে থেকে যদি বিজেপি জানাত যে, একজন তফশিলি, আদিবাসী মহিলাকে তাঁরা প্রার্থী করছে, তাহলে আমরাও চেষ্টা করতাম। বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধী ১৬-১৭টা দল বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। সর্বসম্মতিতে একজন প্রার্থী হলে, তা দেশের পক্ষে ভাল হতো।”

এ দিন তাঁর কথায় সিদ্ধান্ত বদলের বিষয়টিও উঠে এসেছে ৷ সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি যখন আমাদের কাছে ফোন করেছিল, শুধু আমাদের সাজেশনটা জানতে চেয়েছে ৷ ওদের সাজেশনটা আমাদের জানায়নি ৷ এই মুহূর্তে সর্বসম্মতভাবে অবস্থান বদল না-করলে, আমার একার পক্ষে সরে আসা সম্ভব নয় ৷” আর সবশেষে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি চাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক ৷ সব জাতি, সব ধর্ম, সব বর্ণের প্রতি আমাদের সমান সম্মান থাকবে ৷”

এরপরই তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “মোদীর নির্দেশে দিদি এটা করছেন। মোদীর সঙ্গে দিদির যে গোপন সমঝোতা রয়েছে, এটা আরও একবার প্রকাশ্যে। উনি বিরোধী নেত্রী হয়ে প্রার্থী ঠিক করলেন। আমরা বললাম ঠিক আছে। কারণ আমরা বিজেপির বিরোধিতা করতে চাই। সেটা দিদি থাকলেও করব, না থাকলেও করব। কিন্তু বিরোধী দলে থেকে বিজেপির দালালি করতে পারব না। অস্থিরমতির দিদি, মোদীর দালালি করছেন। কারণ দ্রৌপদী মুর্মু যে জিতবে, সেই সংখ্যা হাতে নিয়েই বিজেপি নেমেছিল। এটায় নতুন কোনও আবিষ্কার নেই।”

পাশাপাশি, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন , “মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান তো এসব ক্ষেত্রেই ঘোলাটে, অস্পষ্ট, দ্বিচারিতা। ওঁর দলের লোক যশবন্ত সিনহা। উনি যশবন্ত সিনহার সঙ্গেও রয়েছেন। আবার বিজেপি যদি চটে যায়, তাই বিজেপিতেও ইট পেতে রাখলেন।”

26