কোচবিহারে টানা প্রচন্ড বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা

ওয়েবডেস্কঃ


নজিরবিহীন টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল কোচবিহার।
কৃষক থেকে ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই বিপর্যস্ত।
বৈশাখ থেকে ঝড়,শিলাবৃষ্টি আর জৈষ্ঠ্য মাস জুড়ে টানা বৃষ্টিতে কৃষকের সর্বনাশ হয়েছে।
চলতি বছরে ইতিমধ্যে কোচবিহারে ১৮৬২.৯০ মিলিমিটার,তুফানগঞ্জ মহকুমায় ১৭৭৬ মিলিমিটার,মাথাভাঙ্গা মহকুমায় ১১৯৭. ০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বুধবার অব্দি।বৃহস্পতিবারও অঝোরে বৃষ্টি চলছে।গত ২০ বছরে এই সময়ের মধ্যে অত বৃষ্টি হয় নি।এখনও পুরো বর্ষার মরসুম পরে রয়েছে।
কোচবিহার ১ব্লকের পাটচাষী সত্যেন বর্মন বলছেন,৬ বিঘা জমিতে পাট বুনেছিলাম।শিলাবৃষ্টি আর অতি বর্ষনে পুরো পাটই নষ্ট হয়েছে।ভেবেছিলাম আমন চাষ করে পুষিয়ে নেব।কিন্তু ফের বর্ষার কোপে পড়ে আমনের বীজতলা জলের তলায় চলে গেছে।আষাঢ়ের ৪/৫ তারিখের মধ্যে আমনের চারা বীজতলা থেকে তুলে জমিতে লাগানো হয়।

এবারে সেটাও পারলাম না।কি হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।
শিতলকুচির সুনীল রায় বর্ষার জন্য পাটে মার খেয়েছেন।দেরি লাগানো দেড় বিঘা জমির বোরো ধান তুলতেই পারেন নি।সে ধান এখন জলের তলায়।ওনার আমনের বীজতলা নষ্ট হতে বসেছে।ঋনে জর্জরিত সুনীল রায় বলছেন,এমন সংকটে আগে কখনও পরি নি।
কৃষকসভার হলদিবাড়ি ব্লক কমিটির সম্পাদক দেবরাজ রায় পাটোয়ারি নিজেও কৃষক।বৃহস্পতিবার তিনি জানালেন,শিলাবৃষ্টি,কালবৈশাখি আর অতি বর্ষনে পাট,বোরো, ভুট্টার পাশাপাশি আমন আর সবজির বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।যার রেশ পড়বে জেলার গ্রামীন অর্থনীতিতে।
তিনিই জানালেন সাধারনত জৈষ্ঠ্যে আমনের বীজতলা তৈরি হয়।আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহে আমনের চারা বপনের কাজ শেষ হয়ে যায়।এবারে বীজতলা এখনও জলের তলায়।

এরকম বর্ষা চললে আমন চাষ করা যাবে না।
অতিবৃষ্টিতে সারা জেলার সাথে হলদিবাড়ির সব্জি চাষীরাও বিপাকে পড়েছেন।বেগুন, কাঁচালংকা থেকে ঝিঙে,পটল ক্ষেত জলের ডুবে গেছে।বৃষ্টি কমে জমি থেকে জল নেমে গেলেও সব্জি গাছ বাঁচবে না।সব মরে যাবে।
মাথাভাঙ্গা মহকুমা কৃষি আধিকারিক শ্যামল সাহাও মানছেন অতি বর্ষনে সব্জি চাষীদের সমস্যা বাড়বে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ হয়েছে।কোচবিহারের ব্যবসার বড় ক্রেতা নিম অসম।ভারী বর্ষনের কারনে অসমের ক্রেতারা আসছে না।হোটেল ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতির বক্তব্য গত ৮/৯ দিনে জেলায় ১৬ কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে।মাথাভাঙ্গায় গত ৭ দিনে ২ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।মেখলিগঞ্জে ক্ষতির পরিমান ৫০ লক্ষ টাকা।তুফানগঞ্জে ৭০% ব্যবসা মার খেয়েছে।দিনহাটায় ৫০% ক্ষতি হয়েছে ব্যবসার।
জয়ন্ত সাহা-মাথাভাঙ্গা,১৬/৬/২২
ছবি-জয়ন্ত সাহা
টানা বৃষ্টিতে আমন ধানের বীজতলা জলের নিচে কোচবিহারে

29