শিক্ষা দপ্তরের ছুটির পর ছুটি ঘোষনায় বিরক্ত শিক্ষকেরা এবার রাস্তায় নেমে স্কুল খোলার দাবিতে সোচ্চার

ওয়েবডেস্কঃ


শিক্ষা দপ্তরের ছুটির পর ছুটি ঘোষনায় বিরক্ত শিক্ষকেরা এবার রাস্তায় নেমে স্কুল খোলার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন।
এবিটিএ এবং এবিপিটিএর সদস্য শিক্ষকরা শুক্রবার কোচবিহার জেলা জুড়ে আন্দোলনে শামিল হবেন।
এবিটিএর জেলা সম্পাদক সুজিত দাস বলেন,গরমের ছুটি বেড়েই চলেছে।এদিকে উত্তরবঙ্গে বন্যা হবার পরিস্থিতি চলছে।
শিক্ষাবর্ষের ৬ মাস শেষ হতে চললো।এখনও প্রথম পর্যাযায়ক্রমিক মূল্যায়ন নেওয়া সম্ভব হল না।বাকি ৬ মাসের মধ্যে পুজোর ছুটি ও অন্যান্য ছুটির ধাক্কা সামলে বড় জোর ক্লাস নেওয়ার সময় থাকবে ৫ মাস।তারমানে ৫ মাসে তিনটে মূল্যায়ন! আদৌ পাঠ্যক্রম শেষ করা সম্ভব নয়।
এবিটিএ এবং এবিপিটিএ এই দুই বামপন্থী সংগঠন চাইছে রাজ্য সরকার পুজোর ছুটি কমিয়ে পাঠদানের সময়কাল বাড়ানোর ঘোষনা করুক।


টানা গরমের ছুটি চলতে থাকায় আগামী বছরে যারা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে তাদের পাঠ্যক্রম স্কুলের ক্লাসে শেষ করা যাবে না।আর প্রথম থেকে দশম শ্রেনীর ক্ষেত্রেও পুরো কোর্স পড়ানো হবে না।যার সোজা অর্থ হল,এই ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষৎ অনিশ্চিত হতে চলেছে।
জেলার অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলছেন,মার্চের শেষে শিক্ষা দপ্তর রুটিন ঘোষনা করে জানিয়েছিল,৭ ই মে-র মধ্যে প্রথম পর্যায়ক্রম মূল্যায়ন, ২০ শে আগষ্টের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ২৫ শে নভেম্বরের মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন শেষ করতে হবে।আগামী বছর যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে তাদের ১৭ ই নভেম্বরের আগে পর্যায়ক্রম মূল্যায়ন শুরু করা যাবে না আবার ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন শেষ করতে হবে।


এবিপিটিএর জেলা সম্পাদক দীপক কুমার সরকার বলেন, গরমের ছুটি দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে রুটিন মেনে প্রথম মূল্যায়ন করাই গেল না।এখন বিজ্ঞান সম্মত ভাবে অবশিষ্ট ৬ মাসে তিনটি মূল্যায়ন আদৌ সম্ভব নয়।জানি না রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর কোন যাদুদন্ড ছুঁইয়ে এটা সম্ভব করবেন।শিক্ষা দপ্তরের এই তুঘলুকি সিদ্ধান্তে শিক্ষা ব্যবস্তাটাই ধ্বংস হতে বসেছে।
জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিমত জানার চেষ্টা করে বোঝা গেছে,অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকাই চাইছেন পুজোর ছুটি কমানো হোক।পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন,জুলাইয়ের প্রথমে,আগষ্টের শেষে ও ডিসেম্বরের প্রথমে করা হোক।এই মর্মে দ্রুত শিক্ষা দপ্তর নির্দেশিকা জারি করুক।
এবিটিএর জেলা সম্পাদক সুজিত দাস বলেন,করোনার সময় থেকে স্কুলের ওপরের দিকের ক্লাসের অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীদের কাছে শিক্ষকদের মোবাইল নম্বর রয়েছে।ছাত্ররা প্রতিদিনই ফোন করে জানতে চাইছে,”স্যার কবে থেকে পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন হবে?”ছাত্রদের এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছেও নেই।
জয়ন্ত সাহা-মাথাভাঙ্গা,১৫
১৬/৬/২২

42