হাসপাতালের বিশাল ভবন ২ বছর আগে উদ্বোধন হলেও আজও অজ্ঞাত কারনে স্থানান্তরিত হয়নি হলদিবাড়ি গ্রামিন হাসপাতাল

নিজস্ব সংবাদদাতা,হলদিবাড়ি ,১৫ ই জুন ওয়েবডেস্কঃ


পেল্লাই হাসপাতাল ভবন গড়লেও উদ্বোধনের দু বছর পরেও হলদিবাড়ি গ্রামীন হাসপাতাল সেখানে স্থানান্তরিত হয় নি অজ্ঞাত কারনে!পুরোনো ভবনেই চলছে হাসপাতাল!
কেন্দ্রীয় সরকারের ছিটমহল এলাকা উন্নয়নের টাকায় পেল্লাই ঝাঁ চকচকে হলদিবাড়ি গ্রামীন হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে অন্তত দু বছর আগে।মুখ্যমন্ত্রী রিমোট টিপে হাসপাতালের উদ্বোধনও করেছেন।
হাসপাতালের নতুন ভবনে আছে হাসপাতালের অফিস,আছে গোডাউনও।আর আরেক জায়গায় চলছে কোভিড ইঞ্জেকশন দেওয়ার কাজ চলছে।


কেন নতুন ভবনে ৩০ শয্যার হাসপাতাল স্থানান্তরিত হচ্ছে না?এ প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কারুর কাছেই।
প্রশ্ন উঠেছে,যদি পুরোনো ভবনেই গ্রামীন হাসপাতাল চলে তবে কোটি টাকা খরচ করে এতবড় ভবন কেন গড়া হল?
হলদিবাড়ি গ্রামীন হাসপাতালের যতই পেল্লাই পরিকাঠামো গড়ে উঠুক না কেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য কিন্তু অত্যন্ত রুগ্ন।
বিএমওএইচ সহ মাত্র ৪ জন চিকিৎসক আছেন।বিএমওএইচ আবার হলদিবাড়িতে থাকেন না।তিনি যাতায়াত করেন কোচবিহার থেকে।হলদিবাড়ি থেকে কোচবিহারের দূরত্ব ১২০ কিমি!


আউটডোর সামলাতে কোন চিকিৎসক থাকেন না।রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট।তিনিই নিদান দেন।আবার ওষুধও দেন!ডাক্তার না পেয়ে আউটডোরে রোগীর সংখ্যা কমতে কমতে এখন গড়ে প্রতিদিন ২০০ জন আসেন।
তথ্য বলছে, হাসপাতালে কোন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নেই।নেই কোন সাফাই কর্মীও!
খোঁজ নিতেই জানা গেল, চিকিৎসক না থাকায় ইনডোরে গড়ে ১০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হয় না।রোগীরা বাধ্য হয়ে চলে যায় ১৪ কিমি দূরের মেখলিগঞ্জে কিংবা ২৭ কিমি দূরের জলপাইগুড়িতে।হাসপাতাল প্রসঙ্গে হলদিবাড়িবাসীর বক্তব্য,”এটাতো শুধু ডায়রিয়ার জন্য কাজে লাগে।বাকি সব রোগের জন্য ছুটতে হয় মেখলিগঞ্জ কিংবা জলপাইগুড়িতে!””
হলদিবাড়ি গ্রামীন হাসপাতালের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে অনিয়মের হরেক কিসসা।হাসপাতালের বাউন্ডারী ওয়ালে ভেতরে এলাকার ঠিকাদারেরা বালু,বজরি সহ নির্মান সামগ্রী রাখছেন।হাসপাতাল চত্বরে ফিসফাস আলোচনা চলে,”এসব রাখার জন্য ভাড়া টাকা গোনে প্রভাবশালী কেউ।”


হাসপাতালের রাস্তার অবস্থা বেহাল ছিল।তৃনমুল পরিচালিত হলদিবাড়ি পুরসভা ১০০ মিটারের কিছু বেশি রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছিল ৩১ লক্ষ টাকা! নির্মান কাজ নিম্নমানের অভিযোগ তুলে দিন ১৫ হয় সেকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এখানেও সেই “ফিসফাস”আলোচনা ঠিকাদার নাকি ১১ নং ওয়ার্ডের তৃনমুল কাউন্সিলার ঘনিষ্ট!
জয়ন্ত সাহা-হলদিবাড়ি,১৫/৬/২২
ছবি-জয়ন্ত সাহা
” হলদিবাড়ি গ্রামীন হাসপাতালের এই ভবন দু বছর ধরে পড়ে আছে।কোন কাজেই লাগছে না।

30