নাগর ও কুলিক নদীর মিলনস্থল সংলগ্ন গ্রামগুলো আধুনিক সভ্যতার স্পর্শের অপেক্ষায়

kulikinfoline exclusive প্রতিবেদনঃ রায়গঞ্জের অন্যতম দুই নদী “নাগর” এবং “কুলিক”। নদী দুটি বাংলাদেশ থেকে উৎপত্তি হয়ে সুদীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে মিলিত হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের ৯নং গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশাহার এলাকায়। নাগর নদী ও কুলিক নদীর মিলনস্থলের মধ্যবর্তী গ্রামটির নাম রহমতপুর বা দ্বীপনগর। বহুকাল পূর্বে রহমত মিঞা নামে এক ব্যক্তি এই এলাকায় প্রথম বসবাস শুরু করেন বলে তাঁর নামানুসারে এই এলাকাটির নাম হয় রহমতপুর। অপরদিকে এলাকাটি একটি দ্বীপের আকৃতির তাই এই গ্রামটি দ্বীপনগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রয়াত রহমত মিঞার ঠাকুরদা জুগিয়ামের -এর নামানুসারে এই মৌজার নাম হয় জুগিয়ামের। রহমতপুর বা দ্বীপনগরে যোগাযোগের একমাত্র পথ নদীপথ। দীর্ঘ সময়কালে নদীর এপারে অনেকটাই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও নদীর ওপারে গোয়ালদহ, রহমতপুর, জুগিয়ামের এলাকা গুলোতে নদী পার হয়ে উন্নয়নের যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।

তাই আজও রহমতপুরের কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা-কে জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতলে আনতে গেলে একমাত্র ভরসা ডিঙ্গি নৌকা। বর্ষাকালে নদীভাঙ্গনে রহমতপুরের পথঘাট, ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। যোগাযোগের অভাবে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ন্যূনতম একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেনি এই এলাকায়। প্রশাসনের কাছে গ্রাম বাসীদের কাতর আবেদনেও কোনো লাভ হয়নি। নাগর নদীর ওপারে বিহার সংলগ্ন গোয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা হেদলুচরন রায় এলাকার সমস্যার কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভের সাথে বলেন, এই এলাকা গুলোতে উন্নয়নের প্রচুর অভাব রয়েছে। প্রয়োজন পরিকাঠামোগত উন্নয়নের। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দুয়ারে সরকার অনুষ্ঠিত হলেও রহমতপুর, গোয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী, হেদলু চরন রায় -রা প্রত্যহ তাকিয়ে থাকে আধুনিক সভ্যতার স্পর্শের অপেক্ষায়।

34