কাঁটাতারের ওপারে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছে গোসাইপাড়া আর ডাক্তারপাড়ার ভারতীয়রা

জয়ন্ত সাহা


বিশেষ প্রতিবেদন: রাজ্যে দিনবদলের স্বপ্ন দেখে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখন্ডে রয়ে যাওয়া জনপদের ভারতীয় নাগরিকেরাও।
শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতগ্রাম-মানাবাড়ি এলাকার “গোসাইপাড়া” আর “ডাক্তারপাড়ার”প্রায় ৪৫ ঘর পরিবার কাঁটাতারের বেড়া হয়ে যাওয়ার পর রয়ে গেছে বেড়ার ওপারেই।স্রেফ গরিব হবার কারনেই তাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে বেড়ার এপাশে চলে আসা সম্ভব হয় নি।চাষআবাদই মূলত এই মানুষগুলোর ভরসা।এদের জীবনযাত্রা সব চলে বিএসএফের মর্জিতে।মূল ভূখন্ডে আসতে গেটে জমা দিতে হয় আধার কার্ড,ভোটের কার্ড।

এই দুই এলাকায় শনিবার জনসংযোগ ও অর্থসংগ্রহ অভিযানে বিএসএফের অনুমতি নিয়েই গিয়েছিলেন সিপিআইএম জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রসেঞ্জিৎ সরকার, অরুন সরকার,হজরত আলি ও সুধাংশু প্রামানিক।
ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা, শান্ত বর্মন জানালেন,গেট যতক্ষন খোলা থাকে ততক্ষন মূল ভূখন্ডে যাতায়াত করা যায়।সন্ধ্যা ৬ টায় গেট বন্ধ করে বিএসএফ।শহরে কাজ সেরে ফিরতে দেরি হলে আর বাড়ি ফেরা হয় না।তখন এপারেই অন্য কারুর বাড়িতে রাত কাটাতে হয়।ফসল ফলানোর সার,বীজ নিয়ে যেতেও বিএসএফকে হাজার কৈফিয়ত দিতে হয়।আবার ফসল বিক্রির সময় গেট পেরিয়ে বাজারে নিয়ে যেতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

শান্ত বর্মনের মেয়ে পম্পি বর্মন এখান থেকেই অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এমএ পড়ছে।পম্পির প্রশ্ন,নিরাপত্তার জন্য বেড়া হল আমাদের জমির ওপর দিয়ে।এখন আমরাই নিরাপত্তার নামে বিএসএফের মর্জির শিকার হচ্ছি।এই অবস্থার বদল চাই।বন্দীজীবন থেকে মুক্তি চাই।
ডাক্তারপাড়ার আরেক বাসিন্দা পুলিন বর্মন বলেন,বেড়ার এপারে আমরা চাষের ওপর নির্ভরশীল।এদিকে জমি কেনার ক্রেতা নেই।বেড়ার এপারে জমির দাম বিঘা প্রতি মাত্র এক লাখ টাকা মেলে।অথচ বেড়ার ওপারে সেই জমির দাম অন্তত ৫/৬ লক্ষ টাকা।আমরা চাই দেশের নিরাপত্তার জন্য কাঁটাতারের বেড়া হল,আমাদের এসব জমি সরকার অধিগ্রহন করে উপযুক্ত দাম দিক। আমরা অন্যত্র সরে যাব।

গোসাইপাড়া থেকে কাঁটাতারের বেড়া প্রায় দেড় কিমি।এখানকার বাসিন্দা নারায়ন বসুনিয়া বলেন,রাতে পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে আমাদের ডাক্তারের কাছে নয়, আগে ছুটতে হয় বিএসএফের কাছে।তারা সদয় হলে তবেই গেট খুলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।এই জীবন থেকে মুক্তি চাই।বাঘা বসুনীয়া, ভবেন বসুনিয়ার মত ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দারা হাজারও প্রতিকূলতার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।
সিপিআই(এম)দলের প্রতিনিধিদের কাঁটাতারের বেড়ার গেট অব্দি এগিয়ে দিতে এসে শান্ত বর্মন বলেন,আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতায় বন্ধু-শত্রু চিনেছি।আগে এমএলএ থেকে পঞ্চায়েত সদস্য বিপদে পড়লেই সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়াতেন।এখন এমএলএর দেখা মেলে না।আর বিপদে পড়লে আমাদেরকেই পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়িতে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে হয়।কারন সার, বীজ কেনা থেকে ফসল বিক্রি সবেতেই পঞ্চায়েত সদস্যর সার্টিফিকেট চাই।
পঞ্চায়েত ভোটের এখনও অনেকটা দেরি।গত পঞ্চায়েত ভোটে এই এলাকার কেউই ভোট দিতে পারে নি।বেশ বোঝা গেল কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের গোসাইপাড়া,ডাক্তারপাড়ার মানুষজন আগামী পঞ্চায়েত ভোটে বন্ধুকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে।
কাঁটাতারের বেড়ার গেট পেরিয়ে আসার আগে ওপারের দুই পাড়ার বাসিন্দাদের সিপিআইএম দলের নেতারা বলে এলেন ফের আসবো আপনাদের কাছে।

38