মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবাণী তোয়াক্কা না করেই নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালি

প্রতীকী ছবি

জয়ন্ত সাহা

বিশেষ প্রতিবেদন : মুখ্যমন্ত্রী থেকে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সবার হম্বিতম্বিই সার।বালি মাফিয়াদের দাপট জেলা জুড়ে অব্যাহত।
শুধু মাত্র তোর্ষা নদীই নয়,মানসাই,ধরলা,সুটুঙ্গা নদী থেকে প্রতিদিন ট্রলি করে দিনে-দুপুরে ট্রলি, ট্রলি বালি তুলে নিচ্ছে বালি মাফিয়ারা।


এই মুহুর্তে জেলাজুড়ে বালি মাফিয়ারা শাসক দলের ঘনিষ্ট।নদীর বুক থেকে বালি তোলার জন্য যেসব ট্রলি ব্যবহার হয় সেগুলির মালিকও শাসক দলের নেতা কর্মীরা।
কোচবিহার সদর মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর বলছে তাদের বৈধ বেড আছে শুধু মাত্র পুন্ডিবাড়ি এবং হরিনচওড়া এলাকায়।
অথচ কোচবিহারের মধুপুর এলাকায় তোর্ষানদী থেকে, খাগড়াবাড়ির বঞ্চুকামারি এলাকার মরা তোর্ষা নদীর বেড থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে ট্রলি বোঝাই বালি পাচার হচ্ছে।এসবের জন্য সরকারের ঘরে রয়ালিটি না গেলেও,স্থানীয় মাতব্বরদের হাত ঘুরে ট্রলি পিছু বখরা পৌঁছে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের হাতে।

জেলাজুড়ে বৈধ বেডের তুলনায় দশগুন বেশি অবৈধ বেড।সব জেনেও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর “স্পিকটি নট”।
শুধু বালি পাচার নয়, বৈধ বেড থেকেও যেভাবে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে তা নিয়ে বড় সমস্যার কথা মানছেন জেলা প্রসাশনের কর্তারা।রয়ালিটি না দিয়ে ওভার লোড করে এই অতিরিক্ত বালি নিয়ে যাওয়াতে রাজস্বের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে।বিশেষত কোচবিহার শহর লাগোয়া ঘুঘুমারি এলাকায় তোর্ষা নদীর একেবারে সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকেও এভাবে বালি তুলে নিচ্ছে মাফিয়ারা।ফলে সেতুর পক্ষেও এটা বিপজ্জনক।শিলিগুড়ির বালাসন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হবার পরেও জেলা প্রশাসন এখনও সজাগ হয় নি।তোর্ষা সেতুর পাশ থেকে বালি তোলা বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরাও।


বৈধ বেড থেকেও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই বালি চুরিতে অভ্যস্ত বালি মাফিয়ারা।নদী থেকে বালি, পাথর তোলার অনুমতি(রয়ালিটি)মেলার পর তার মেয়াদ থাকে ১২ ঘন্টা।একটা রয়ালিটি দিয়ে একবারই বালি তোলা যাবে।অথচ দেখা যাচ্ছে এক রয়ালিটি দিয়ে ৬/৭ বার বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে বালি মাফিয়ারা।ট্রাক মালিকদের সিন্ডিকেটের তরফে বলা হচ্ছে আমাদের থেকে ট্রলি বা লরি ভাড়া নিলে রয়ালিটি পিছু একবারই বালি নিয়ে যায় ড্রাইভাররা।ফলে বালির কারবারিরা এখন আর আমাদের লরি কিংবা ট্রলি ভাড়া নেয় না।বালি কারবারিদের নিজেদের ট্রলি বা লরি আছে।আর সেই লরি বা ট্রলি দিয়ে লুঠ চলছে অবাধে।
জেলার বালি মাফিয়াদের সাথে যোগ রয়েছে অসমের বালি মাফিয়াদেরও।বিশেষত তুফানগঞ্জ -২ এলাকার রায়ডাক,সংকোশ,গদাধর নদীতে বিশাল চর রয়েছে।বর্ষার ২/৩ মাস বাদ দিলে বাকি সময়ে এইসব নদী থেকে বালি তুলে প্রতিদিন অসমে চলে যাচ্ছে শয়ে শয়ে ট্রলি বা লরি।


ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের সূত্র বলছে, সরকারি ভাবে রায়ডাক নদীর শালডাঙ্গায়,মধুরভাসা,টাকোয়ামারি,এবং সংকোশ নদীর ফলিমারি এলাকায় ৪ জন রয়ালিটি হোল্ডার রয়েছে।ওই চারটি এলাকার নদীর বালি অনলাইনে চালানের মাধ্যমে বালি তোলার বন্দোবস্ত আছে।এই চার এলাকার বাইরে রয়েছে অসংখ্য অবৈধ বেড।যেগুলি
স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদতে।স্থানীয় বাসিন্দারা এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না।এই প্রভাবশালীদের সন্তুষ্ট রেখে বছর কোটি কোটি টাকা আয় করছে বালি মাফিয়ারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের বক্তব্য,”আমাদের অবস্থা তো এখন নিধিরাম সর্দারের মতো।একটা মাত্র গাড়ি নিয়ে লোকবল ছাড়া এই বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম বন্ধ করা কার্যত অসম্ভব।তিনি স্বীকারও করছেন প্রশাসনের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া বালি মাফিয়াদের বাড় বাড়ন্ত সম্ভব হতো না।

51