বেতের ডালি বেঁধে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৬২ চাঁচলের জিতুর

বছরের বেশিরভাগ দিন তাদের আধপেটা খেয়ে দিন কাটে। বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। মা দিনমজুরি করে।বাড়িতে বাঁশের ডালি তৈরি করে দিন গুজরান করেন। পেট চালাতে জিতুকেও মায়ের সঙ্গে ডালি-ঝুড়ি তৈরি করতে হয়। সারাদিন বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকার পরেও এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৬২ নম্বর পেয়েছে চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুরের জিতু চৌধুরী।

বড় হয়ে ভূগোলে গবেষণা করতে চায়। কিন্তু ইচ্ছেপূরণ হবে কিনা তা নিয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ, অভাব।দরিয়াপুর আইবি হাইস্কুল থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল জিতু। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে স্কুল।


উচ্চমাধ্যমিকে এমন ফল করায় শুধু বাবা-মা নয়, গ্রামবাসীরাও খুব খুশি। কিন্তু এরপর পড়াশোনা চলবে কী করে, সেই ভাবনাই ছেয়ে রয়েছে এই ছাত্রীর মাথায়। একই ভাবনা তার মায়ের মনেও। অভাবের সংসারে একবার বাবা বিগন চৌধুরি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের প্রবল আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।
ভূগোল নিয়ে গবেষণার স্বপ্ন দেখছে জিতু। এখন প্রশ্ন একটাই আর্থিক অভাব তার পড়াশোনায় বাধ সাধবে নাতো???

37