হিংসায় সরকারি চাকুরে স্ত্রীর হাত কাটল বেকার স্বামী!

ওয়েবডেস্কঃ

স্ত্রী সরকারি চাকরি করায় হিংসায় স্ত্রীর হাত কেটে দিল বেকার স্বামী। বর্তমানে ওই যুবতী আশঙ্কাজনকভাবে ভর্তি স্থানীয় হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে।

কেতুগ্রামের কোজলসা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি রেণু খাতুনের। তার বাপেরবাড়ি কেতুগ্রামের চিনিসপুর গ্রামে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে রেনুর বিয়ে হয় শের মহম্মদ শেখ ওরফে শরিফুলের সঙ্গে।

জানা গেছে, রেণু নিজে নার্সিংয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স পদে চাকরি করছিলেন। এরপর সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। কয়েকদিন আগেই চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়ে প্যানেলভুক্ত হয়ে যান। আর এরপরই হিংসায় জ্বলে ওঠে তার স্বামী। অভিযোগ, শনিবার রাতে তার জামাই শরিফুল শেখ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করে। রাত এগারোটা নাগাদ রেণু যখন শুয়ে পড়েছিলেন সে সময় দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রেণুর ওপর চড়াও হয় শরিফুল। ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে। রেণুর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রেনুর বাবা,আজিজুল হক বলেন,”ওদের ধারণা ছিল আমার মেয়ে চাকরি করতে গেলে আর বোধহয় স্বামীর ঘর করবে না।” পাশাপাশি দাদা রিপন শেখ বলেন, “আমার বোন সরকারি চাকরি পাকা হয়ে গিয়েছে বলে দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিতে গিয়েছিল। শনিবার বাড়ি ফিরে প্রথমে আমাদের বাড়িতে আসে। তারপর রাতে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। রাতেই খবর পাই বোনের হাত কেটে নেওয়া হয়েছে।”

রেণুর চিৎকারে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে এবং রাতেই তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেই আপাতত ভরতি তিনি।

33