পুকুরেই ফলবে রুপোলী শস্য! নতুন উদ্যোগ নবান্নর

ওয়েবডেস্কঃ কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। ইলিশ হলো মাছের রাজা। ইলিশের মোহে আপ্লুত এই বাঙালি যদিও সারা বছর পায়না ইলিশ। বছরের নির্দিষ্ট সময় সাগরের নোনা জলে হয় এই দুই বাংলার অতি প্রিয় রূপালি শস্য।

কিন্তু এই ইলিশ মাছ এবার ফলবে পুকুরে !! অবাক হলেও এটাই সত্যি। এবার যাতে ইলিশ পুকুরে চাষ হয় তার জন্য নতুন উদ্যোগ নিল নবান্ন।

এই বিষয়ে মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে স্যামন চাষে সাফল্য পাওয়া ‘নরওয়েন ইনস্টিটিউট অফ ফুড, ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার রিসার্চ’।

বিখ্যাত এই মৎস্য গবেষণা সংস্থার সঙ্গে চলতি মাসেই মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করবেন। এরপর রূপরেখা তৈরি করে তারা সরেজমিনে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে তদারকি করবেন। মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইলিশের চারা পোনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রতিপালন সমস্তটাই দেখভালের জন্য নোফিমা প্রযুক্তিগত ভাবে সাহায্য করবে।এমনটাই জানালেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি।

মৎস্য মন্ত্রীর বক্তব্য“ইলিশ নিছক মাছ নয়, বাঙালির আবেগ। কিন্তু আবহাওয়া ও নদীর ভূ-বৈচিত্র্য বদলে যাওয়ায় গঙ্গায় এখন ইলিশ সেভাবে পাওয়া যায় না। ভাল ইলিশের জন্যে সেই বাংলাদেশের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয়। তাই এবার পুকুরে ইলিশ চাষের চেষ্টা শুরু হল।” অখিলবাবু আরও জানিয়েছেন, প্রকল্পের‌ জন্য প্রাথমিকভাবে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কাছে গঙ্গাপাড়ের কয়েকটি পুকুরকে বাছাই করা হয়েছে।মিষ্টি জলের পুকুরে লবণাক্ত জলের কৃত্রিম স্রোত তৈরির চেষ্টা হবে। ইলিশ চাষ বাবদ পুকুরপিছু ৫০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হবে।

দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন,নোফিমার বিশেষজ্ঞরা বাংলায় এসে ইলিশ মাছের প্রজনন সংক্রান্ত যাবতীয় আচরণ, ইলিশের খাদ্য, ইলিশ পরিযানের পথ-সবই পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রয়োজনে সমুদ্র এবং গঙ্গার মধ্যে বড়ো বড়ো খাঁচাও পরীক্ষামূলক ইলিশ চাষের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, “কাজটা কঠিন। কিন্তু সফল হলে ইতিহাস তৈরি হবে। তাই খুঁজে খুঁজে নরওয়ের সংস্থার সঙ্গে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।” স্রোতহীন বদ্ধ জলাশয়ে স্যামন মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছে নোফিমা। ইলিশের মতো স্যামন মাছও সমুদ্রে বাস করে। কিন্তু ডিম পাড়তে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে বড় করতে নদীতে যায়। স্যামনের জীবনবৃত্তের সঙ্গে ইলিশের বিস্তর মিল। তাই নোফিমার সঙ্গে বন্ধুত্ব ।

43