টানা বৃষ্টিতে মৃত্যুপুরী অসম, বন্যাকবলিত প্রায় ২ লাখ ঘরছাড়া ৩৩ হাজার

ওয়েবডেস্কঃ লাগাতার বৃষ্টির জেরে অসমের ২০ টি জেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ বন্যার কবলে। প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি চাষের জমি বন্যার জলে তলিয়ে গিয়েছে।

অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাছাড় এলাকা। ওই জেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কাছাড়ের সাড়ে ছ’শোরও বেশি গ্রাম বন্যার কবলে। অন্যদিকে, ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি পরিমাণ জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। মৃত্য হয়েছে দু’জনের। নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। অসমের জোরহাট, নওগাঁ জেলার পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগের।

আরও জানা গেছে, অসমের ২২২টি গ্রামে ৫৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১০৩২১.৪৪ হেক্টর জমি জলের তলায়। সে রাজ্যে প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নগাঁও জেলায় কপিলি নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। টানা বৃষ্টির জেরে চলতি বছরে প্রথমবার বন্যা প্লাবন পরিস্থিতির মুখোমুখি হল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। নগাঁওয়ে বাড়িতে আটকে পড়া ৭০-৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

টানা বৃষ্টিতে ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইনও। এই পরিস্থিতিতে ২৫ জোড়া ট্রেন বাতিল করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। অসমের ডিমা হাসাও এলাকায় ভূমিধসের কারণে ত্রিপুরা, মিজোরাম ও দক্ষিণ অসমের এলাকায় চলাচলকারী ওই ট্রেনগুলিকে বাতিল করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। যে সমস্ত ট্রেন বাতিল ও আংশিক বাতিল করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে আছে আগরতলা-আনন্দ বিহার তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস, ব্যাঙ্গালোর ক্যান্ট -আগরতলা এক্সপ্রেস, আগরতলা – সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-আগরতলা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসও।

44