কুলিক রোববার গল্প : চাল ডাল তরকারি একাডেমি মস্তক

বিনোদ ঘোষাল

আমাদের পাড়ার শিবুদা দীর্ঘবছর কাব্যসাধনার পরেও কোনও স্বীকৃতি পেল না। পাড়ার পুজোর সুভেনিরেও তার কবিতা বাদ পড়ল, লাইব্রেরির বার্ষিক সাহিত্যানুষ্ঠানেও তাকে কখনও কবিতা পাঠ করতে দেওয়া হত না। এই শোকে তাপে অকৃতদার শিবুদা একটু আউলা হয়ে গেল। সারাক্ষণ বিড়বিড় করত চাল ডাল তরকারি একাডেমি মস্তক।
আর আমাদের মত ছেলে ছোকরা যারা একটু আধটু শিল্প সংস্কৃতি ভালবাসতাম তাদের সঙ্গে দেখা হলেই পাঞ্জাবির পকেট থেকে পাঁচটা তিনভাঁজ করা কাগজের টুকরো বার করে আমাদের সামনে মেলে দিয়ে বলত, একটা তোল।
আমরা কোনও একটা কাগজ তুলতাম। কখনও চাল, কখনও ডাল কখনও তরকারি কখনও মস্তক জুটত কিন্তু একাডেমি কখনও জুটত না।
শিবুদা খিকখিক করে হেসে বলত তোদের কপালে একাডেমি নেই।
ব্যাপারটা বেশ রহস্যজনক মনে হওয়ায় একদিন বন্ধুরা মিলে ওকে চেপে ধরলাম। সবকটা ভাঁজকরা কাগজ খুলে দেখি একাডেমি নামে কোনও কাগজই নেই, শুধু মস্তক লেখা দুটো কাগজ।
আমরা গর্জে উঠলাম, এটা চিটিং। তোমার তো একাডেমিই নেই।
শিবুদাও পালটা গর্জে উঠে বলল, কে বলল নেই! এতদিন কাব্যচর্চা করছি কেউ আমাকে দেখেনি, তারপর বুক পকেট থেকে একটা তিনভাঁজ করা কাগজ বার করে আমাদের সামনে খুলে মেলে ধরে বলল এই দেখ।
দেখলাম ওতে লেখা রয়েছে একাডেমি।
শিবুদা বলল, আমার একাডেমি আমি অন্য কাউকে কেন দেব? আমিই নেব। রোজ নেব।
শিবুদার কথা শুনে বন্ধুদের কেউ রাগ করল, কেউ হেসে উঠল, কেউ বিদ্রুপ করল, কেউ চুপ থাকল, কেউ বলল, আমি চাল ডাল তরকারি, মস্তকই চাই, অমন একাডেমিতে কাজ নেই। কেউ আবার বলে উঠল ‘ঠিক, ঠিইইক’।
শিবুদা একাডেমি লেখা কাগজের টুকরোটা সযত্নে পকেটে ভাঁজ করে রেখে বাকি কাগজের টুকরোগুলো দুই মুঠিতে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে চলে গেল, আমরা শুনতে থাকলাম চাল ডাল তরকারি একাডেমি মস্তক।

55