রায়গঞ্জ কবিকথার সাহিত্যবাসর ও আলোচনা সভা

যাদব চৌধুরী

রবীন্দ্রজয়ন্তী নয়, তবু তার প্রাক্কালে ৮ই মে রবিবার রায়গঞ্জ কবিকথা উত্তর দিনাজপুর আয়োজিত মাসিক সাহিত্যবাসর ও আলোচনাসভায় ঘুরে ফিরে এলো রবীন্দ্র প্রসঙ্গ।রায়গঞ্জ সুদর্শনপুর এলাকায় সেবিকপল্লিতে শিক্ষক অমল বিশ্বাস এর বাসভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুরেলা কণ্ঠে উদ্বোধনী রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে শিল্পী সায়নী চৌধুরী যেন গোটা অনুষ্ঠানের সুর বেঁধে দিলেন। নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে আজকের বিষয় ছিল – সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক যাদব চৌধুরী স্বাগত ভাষণে বিষয়টি ছুঁয়ে গিয়ে বললেন সাহিত্য মানুষকে অনুভবের দর্শনে আলোর পথ দেখায় এবং সংস্কৃতি মানুষকে পরিশুদ্ধ করে। হৃদয় সংবেদী আত্মপ্রকাশের তাগিদ থেকেই শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জন্ম। ধাপে ধাপে পরবর্তী বক্তা অধ্যাপক দীপক বর্মণ, কবি খুশী সরকার, প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ কুমার দত্ত, অধ্যাপক সুকুমার বাড়ই, বিশিষ্ট শিল্পী অঞ্জন রায় প্রমুখের কথায় সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার বিভিন্ন অভিমুখ স্পষ্ট হয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি নৈর্ব্যক্তিক রূপ পেয়ে সাহিত্য, শিল্পের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়, সমাজে শুভবোধ এর বিকাশ ঘটায় ও মানুষের মধ্যে অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। বিষয়ভিত্তিক আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল কবিতাপাঠ এর আয়োজন, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন। রবীন্দ্র সঙ্গীতের তালে পা মেলান ক্ষুদে শিল্পী সময়িতা বাড়ই। লোকসঙ্গীত পরিবেশন করে সকলের মনোরঞ্জন করেন সঙ্গীতশিল্পী প্রবীর সাহা। কবিতাবাসরে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি দেবাশীষ মজুমদার, অঞ্জন রায়, শুভব্রত লাহিড়ী, মাধবী বিশ্বাস, আভা সরকার মন্ডল, বিজয় সরকার, সুদেব কুমার রায়, রাখী সাহা সরকার, শিপ্রা দেবনাথ, প্রতিমা বিশ্বাস সাহা, মেহবুব আলম প্রমুখ। কবি বিজয় সরকারের সুন্দর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। সঞ্চালনার কাজে তাঁকে যথাযোগ্য সহায়তা দেন কবি গোলাপ সিংহ। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গৃহকর্তা অমল বিশ্বাস।

63