সন্দীপ কুমার ঝা
ইদানিং অনেক কিছুই মনে রাখতে পারি না।ভুলে যাই।মানুষের নাম ও সংখ্যা মনে রাখা নিয়ে,আমার এক সমস্যা আগে থেকেই ছিল।এখন এক নতুন সংযোজন।
ধরুন বাইক চালাচ্ছি।সন্ধ্যার পরবর্তী সময়।হেড লাইটের আলোটাকে একটুখানি সম্মান দিয়ে,অন্ধকার দুপাশে একটু সরে দাঁড়িয়েছে মাত্র।চলন্ত বাইকের আলোর সাথে পাল্লা দিয়ে সরীসৃপের মত,নিঃশব্দে দুদিকে সরে সরে যাচ্ছে গাছ-জঙ্গলের সারি।
হঠাৎ,কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব যেন নতুন হয়ে যায়।নতুন রাস্তা।নতুন চারপাশ।নতুন বাঁক। অচেনা কুয়াশাময় নতুন মাঠ,দুপাশে ছড়ানো মনখারাপ এর মত জ্যোৎস্না।বাইকের একটানা মৃদু শব্দ,মাথার ভেতরে একটা ঘোর লাগা অনুভূতি।শুধু নিশিতে পাওয়া মানুষের মত বাইক ছোটে।
হঠাৎ করে নিজেই চমকে উঠি।নিজেকেই জিজ্ঞেস করি- কোথায় যাচ্ছি আমি?বাড়ি থেকে কী জন্য বেড়িয়েছি?এটা কোন রাস্তা?কিছুই মনে আসে না। উত্তর নেই।একা একা বাইক চলে।আমিও চলি একা।
অভ্যাস হয়ে গেছে বলে,ইদানিং এমন পরিস্থিতিতে ভয় পাই না। জোর করে নিজেকে সব মনে করবার চেষ্টাও করি না।শুধু চলতে থাকি। এই যে হঠাৎ করে কিছুক্ষণ এর জন্য সব সব ভুলে যাওয়া,বরং এটাকে উপভোগ করি। চেনা পৃথিবীর পরিচিত মুখের ভিতরে,আচমকা একটা অচেনা চেহারা।একে দেখার সুযোগটাকে দু’চোখ দিয়ে ছেনে নিই। ষ্ট্রিট লাইটের আলো গিলতে গিলতে এগিয়ে যাই। উড়ে আসা,বেয়াদপ কুয়াশা মাখি।দু’পাশের জ্যোৎস্না তছনছ করতে করতে চলি।
এই মানুষটা যেন পৃথিবীতে নতুন ট্যুরিষ্ট।
নতুন চারপাশ।আমি তখন পাখি ।উত্তরের কোনো অরণ্যভূমির অথবা ইথিওপিয়া অথবা…অথবা..
সে মুহূর্তে কিছু মনে পড়ে না,ভয়ও পাই না।কারন আমি জানি,এক মুহূর্ত পরেই সব ঠিকঠিক মনে এসে যাবে,আসেও।লোডশেডিং এর পরে,হঠাৎ বিদ্যুৎ আসার মত,এক মুহূর্তেই সব মনে পড়ে।
কী আশ্চর্য-মনে পড়া !সব ছিঁড়েখুঁড়ে পুরাতন করে দিয়ে যায়।চারপাশের রাস্তা ,গাছপালা,সমস্ত বাঁক- সে এক ঝটকায় বিরক্তিকর করে দিয়ে যায়।আলো হয়ে ঢেলে দেয়,এক ঝাঁক মন খারাপের অন্ধকার-
ভুলে যাওয়া ভালো বোধ হয় কখনো কখনো
ভুলে যাওয়া ভালো
সব ভুলে যাওয়া তো অন্ধকার নয়
এইসব ভুলে যাওয়া,তার কাছে আসা যাওয়া
কত ঘর আগুনের স্বর,
তার হাতে শ্লেটের অক্ষর,
মুছে দিলে কাছাকাছি আসি…
