বাংলার পাখি : কাঠ শালিক (Chestnut tailed Starling)

লেখা ও ছবি : শুভময় ব্যানার্জি

আজ যে পাখিটির সম্পর্কে জানবো তাদের সচরাচর লোকালয়ে দেখা যায় না বলে ,এদের সম্পর্কে অনেকেরই অজানা । এদের প্রথম দেখাতেই চিরপরিচিত ছাতার পাখি বলে মনে হলেও ,এরা কিন্তু অনেকটাই আলাদা এবং অনেক বেশি সুদর্শন।

আমি প্রথম আমার দাদুর গ্রামের বাড়ি তে গিয়ে এদের দেখতে পেয়েছিলাম। এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খেয়াল করে, বেশ কিছু অজানা তথ্য এদের সম্পর্কে আমি জানতে পারি । এই প্রজাতির পাখিরা আমাদের আশেপাশে থাকলেও ,খুব সহজে নজরে পরে না । এদের বাংলা নাম:-কাঠ শালিক’ ,ইংরেজি নাম: ‘চেস্টনাটটেইলড স্টার্লিং’(Chestnut-tailed Starling), বৈজ্ঞানিক নাম:‘স্টুরনাসদ মালাবারিকাস’ (Sturnus malabaricus), গোত্রের নাম:ৃ ‘স্টুরনিদি’।

কাঠশালিক শালিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি পাখি। এদের মানুষকে এড়িয়ে থাকার প্রবণতা অন্য শালিক প্রজাতির থেকে একটু বেশি ।আর সেই জন্যই সর্বসাধারণের চোখে এই পাখি কম পরে।

এই পাখিদের আমাদের দেশ ভারতবর্ষ, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু বনাঞ্চল এবং পাহাড়ি দুর্গম স্থানে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।

এই পাখির দেহের গঠন ও রং এর মিশ্রণ বেশ আকর্ষণীয় ।এই পাখির বুক ,পেট ও লেজের পালকের রং উজ্জ্বল বাদামী রঙের হয়। এরা লম্বায় 19 থেকে 21 সেন্টিমিটার এর মত হয় । এদের ঠোঁটের গোরা নীল বর্ণের ও ডগাটা হলুদ বর্ণের । মাথা ঘাড় ধূসর রুপালি । চোখ ও পা লালচে রঙের হয় । গলার কাছে ধূসর বর্ণের পালকের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। ডানার প্রান্তদেশ কালচে বর্ণের হয়।

কালো জামের গাছ , বট গাছের মধ্যে এদের মাঝে মধ্যেই বিচরণ করতে দেখা যায়। এরা সাধারণত দলবদ্ধ বা জোড়াতেই বেশি বিরাজ করে ।
এরা খাদ্য হিসেবে শিমুল তুলো, পলাশ বা কৃষ্ণচূড়া গাছের ফুল – ফল ,মধু গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে সব রকমের ছোট ছোট কীটপতঙ্গ।

এরা সাধারণত গাছের কোটরে গর্ত করে ,নরম লতাপাতা দিয়ে বাসা বানায় । এদের প্রজনন এর সময়কাল বসন্তকাল থেকে গ্রীষ্ম কাল পর্যন্ত হয়। এরা একসাথে তিন থেকে চারটি লম্বা নীল বর্ণের ডিম পাড়ে ।পুরুষ পাখিরা সাধারণত খাবার জোগাড় করা এবং বাসার রক্ষার্থে ব্যস্ত থাকে । অন্যদিকে স্ত্রী পাখিরা সাধারণত ডিমে তা দেয় । ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে 15 থেকে 18 দিন মতো সময় লাগে।

অবাধ বৃক্ষ নিধন এবং জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক এর প্রয়োগ প্রকৃতিকে করে তুলছে ক্রমান্বয়ে দূষিত । যার ফলে এই সমস্ত পরিবেশবান্ধব পাখিদের প্রকৃতিতে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে পাখি শিকারিদের অবাধ দৌরাত্ম্য যা এই সমস্ত সুন্দর পাখি গুলির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে দায়ী। তাই আমাদের অতি দ্রুত এই পাখিদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে এই প্রজাতির পাখিরা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে গ্রামের অনাবিল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে।

353