
সাধন দাস
লালগোলা প্যাসেঞ্জার
বহরমপুরে চাকরি পেয়ে লালগোলা প্যাসেঞ্জারের সাথে প্রথম দেখা হলো রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশনে। তক্ষুণি ছেড়ে যাবে। টিকিট কাটা হলো না। ছুটে উঠলাম। নবাবের দেশে যাচ্ছি, একা। দুরুদুরু বুক। কম্পার্টমেন্ট ফাঁকা। দাঁড়িয়ে আছি বিনি টিকিটের অপরাধে।
কালীনারায়নপুর স্টেশন। ঐ যে, কালোকোট, টিকিট চেকার! কী হবে? ভয়ে মুখ শুকনো। ঘামছি। দেওয়ালে মিশে যাচ্ছি। যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়।
– টিকিট?
– স্যর। কাটতে পারিনি।
– কাটতে পারেননি? তাই বলুন। আসুন আমার সঙ্গে।
পিছনে ছুটছি। নির্ঘাত জেলের ঘানিতে যাচ্ছি। পালাবো? এদিক ওদিক চান্স নিচ্ছি। ব্যাগে এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, টেস্টিমোনিয়ালস, কড়া হাতে বুকে চেপে আছি। যাই হোক এসব ছাড়ছি না। একটা কম্পার্টমেন্টে উঠিয়ে একটা সিট দেখিয়ে বললেন- এইখানে বসুন। একদম নড়বেন না।
নেমে গেলেন। নিশ্চিন্তের বাঁশি বাজিয়ে ট্রেন ছাড়লো। বীরনগর এলো। চেকারবাবু এলেন না। বিনি টিকিটে বসে আছি। চারপাশে কালো কোট, ঘুর ঘুর করছে। পেলেই ধরবে। সেই ভয়, আবার শুরু হলো। উৎকণ্ঠা বাড়ছে। থাকতে না পেরে ‘তাহেরপুরে’ নেমে আর একজন চেকারকে বললাম- কাকু, টিকিট… ।
মুখের কথা পুরো খসেনি। – কাটতে পারোনি, তাই তো! চলে এসো।
এবার ওনার পিছু পিছু। আরএক কম্পার্টমেন্টে। সিটে বসিয়ে বললেন- এইখানে বসো। কোত্থাও যাবে না।
ইনিও নেমে গেলেন। একই উদ্বেগ। বাদকুল্লা পার হলো। চেকারদের পাত্তা নেই। শরীর ভারী হয়ে আসছে। কৃষ্ণনগর বড়ো স্টেশন। ওখানে নিশ্চয়ই ফাটকে ভরে দেবে। প্লাটফর্মে ঢুকতেই। লাফ মেরে কৃষ্ণনগর নেমে পড়লাম। টিকিট কাউন্টার ফাঁকা। দৌড়ে টিকিট কেটে ফিরে আসছি। বুকে জোর বেড়ে গেছে। ট্রেনে উঠবো, দেখা প্রথম চেকারের সংগে। – আপনি এখানে?
– আসছেন না দেখে, টিকিট কেটে নিলাম।
– এ্যাই এ্যাই, এই জন্যে কলির ভালো করতে নেই। নিলেন তো টিকিটটা কেটে। চেকারকে দুটো টাকা দেবেন, সহ্য হলো না।
সাধন দাস।
