
উত্তম দত্ত
যে কবিকে কোনও সম্মেলনে দেখেনি মানুষ
যে কবি কোনও কাগজে লেখা পাঠিয়ে প্রত্যাশার ভিক্ষাপাত্র নিয়ে তিনমাস বসে থাকেনি
যে কবি কোনও সাজানো মাচায় উঠে
ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় ঝলসে যায়নি
যে কবি কোনও বিখ্যাত কবির পেটের মধ্যে বসে ক্যাঙারুর বাচ্চার মতো হাসিমুখে ছবি তোলেনি
যে কবি সমস্ত রাত ধরে লেখে
আর ভোরবেলা ভাসিয়ে দেয় জলে…
তার ভবিষ্যৎ জানে প্রথম কৌন্তেয়।
নামহীন গোত্রহীন ভালোবাসাহীন এই রক্তেভেজা চরাচরে
সমস্ত কবচকুণ্ডল হারিয়ে মাটিতে রথের চাকা বসে গিয়ে নিরস্ত্র মুহূর্তের মৃত্যুই তার নিয়তি।
পরশুরাম তাকে অভিশাপ দেবে
দ্রৌপদী তাকে অপমান করবে প্রকাশ্য সভায়
গুরু দ্রোণ তাকে উপেক্ষা করবে
ছোটোভাই অর্জুন তাকে হত্যার জন্য ফন্দি আঁটবে মনে মনে
আর মায়ের দুহাত তাকে চিরদিন গোপনে ভাসিয়ে দেবে জলে…
তার চরিত্রেও আছে নানা ত্রুটি
পায়ে পায়ে ছন্দের ভুল, অস্পষ্ট চিত্রকল্প, দুর্বোধ্য উপমা…
ক্রমাগত উপেক্ষা আর ভালোবাসাহীন অন্ধকারে তার বুক
মরুপাহাড়ের মতো রুক্ষ হয়ে গেছে
তবু সম্মুখযুদ্ধে পরাজয় ও মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সেই কবি
কখনও মেছোহাটে বিক্রি করবে না তার আত্মা।
