“পরীক্ষা দে।ঐ কদিনের মজুরি পুষিয়ে দেব।” পড়ুয়াদের পরীক্ষামুখী করতে মরিয়া স্কুলের শিক্ষকরা

ওয়েব ডেস্ক: স্কুলছুট পড়ুয়াদের কাছে মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় বসার আর্জি এইভাবে অনুরোধ করে গ্রামে গ্রামে ঘুরলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের কয়রাপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার থেকে কয়রাপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে আউশগ্রামের কয়রাপুর, ভাদা, করুঞ্জি ও ভাতারের আমবোনা-সহ বিভিন্ন গ্রাম মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচশো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। তাদের মধ্যে ৮৩ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক দেবে। টেস্ট পরীক্ষার প্রথমদিনেই দেখা যায় ১৫ -১৬ জন পড়ুয়া পরীক্ষায় বসেনি।

শিক্ষকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই পড়ুয়াদের কেউ মাঠে ধানকাটার কাজে লেগে গিয়েছে, কেউ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে রুজি-রোজগারের সন্ধানে। প্রধান শিক্ষক সতীনাথ গোস্বামী বলেন, “মূলত তিনটি কারণে কিছু পড়ুয়া পরীক্ষায় বসতে যায়নি। প্রথমত, আর্থ-সামাজিক কারণ, দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা নিয়ে মনের মধ্যে ভয় এবং তৃতীয়ত, দু’একজন অসুস্থ থাকার কারণে পরীক্ষায় বসতে যায়নি। আমরা ওদের রাজি করিয়েছি। ওদের জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হবে।” 

সতীনাথবাবুর জানান তাঁরা ওই পড়ুয়াদের বলেছেন যে ওদের বই, খাতা সব তাঁরাই দেবেন। পরীক্ষার ফি নেওয়া হবে না। এমনকী প্রয়োজনে চারদিনের মজুরির টাকাও দিয়ে দেবন। যাতে পড়ুয়ারা পরীক্ষার চারদিন পরীক্ষা দিতে যায়।

256