প্রথম বাতানুকূল ট্রেন

ওয়েবডেস্ক: একটু আরাম ও স্বাচ্ছ্যন্দের জন্য অনেক ট্রেন যাত্রীই এসি কোচের টিকিট কাটেন। প্যাচপ্যাচে গরমে দীর্ঘ পথ ট্রেন যাত্রা ক্লান্তিকর। থাহলে ভাবুন তো শীতের দেশের মানুষ প্রচন্ড গরমে ট্রেন যাত্রা করতে কেমন অনুভব করবেন! ভারতে পরিবহনের নেটওয়ার্ক যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে তা হলো রেল পরিবহন। আর ভারতীয় রেলের গোড়াপত্তন ও প্রসার যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে হয়েছিল এ কথা চরম বৃটিশ বিদ্বেষীও অস্বীকার করবেন না।

প্রথম যে বাতানুকূলিত কামরা সহ ট্রেনটি দেশের মাটিতে চলেছিল তা ব্রিটিশ শাসনেই। অবাক লাগলেও সত্যি!অবিভক্ত ভারতে, প্রথম বাতানুকূল সুবিধাযুক্ত ফ্রন্টিয়ার মেলের যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৩৪ সালে।কোচগুলিতে হালফিলের বাতানুকূল ব্যবস্থা না থাকলেও, রেলের প্রথম শ্রেণীর কোচগুলিকে ঠান্ডা করার জন্য আয়তাকার বরফের টুকরো ব্যবহার করা হতো, যা স্বাধীনতার আগে শুধুমাত্র ইংরেজরাই ব্যবহার করতে পারত। আয়তাকার বরফের টুকরোগুলি ট্রেনের মেঝেতে তৈরি সিল করা আধারে বহন করা হতো। রেল লাইন বরাবর বেশ কয়েকটি স্টপেজে এগুলি পূরণ করার ব্যবস্থা ছিল। একটি ব্যাটারি-চালিত হাপরের সাহায্যে আধারগুলিতে ক্রমাগত বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত রাখা হতো এবং ঠান্ডা বাতাস কয়েকটি রন্ধ্রের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে উচ্চ তাপমাত্রাযুক্ত কামরাগুলিতে প্রবেশ করানো হতো। একেবারেই সাদামাটা প্রযুক্তি হলেও এর প্রভাব বেশ আরামদায়ক ছিল।

গোল্ডেন টেম্পল মেল নামে পরিচিত ট্রেনটি ১৯২৮ সাল থেকে মুম্বাইয়ের ব্যালার্ড পিয়ের স্টেশন থেকে দিল্লি, ভাটিন্ডা, ফিরোজপুর এবং লাহোর হয়ে পেশোয়ার পর্যন্ত যাত্রা করতো। ১৯৩০ সাল থেকে ট্রেনটিকে সাহারানপুর, আম্বালা, অমৃতসর এবং লাহোরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৩৪ সালে তাতে জুড়ে দেওয়া হয় বাতানুকুলিত কামরা। হালফিলের এসি কামরার মত তা সফিস্টিকেটেড না হতে পারে। তাতে কি! আরাম তো সেই একই।

186