কুলিক রোববার : গল্প : আনবাটনড

তৃষ্ণা বসাক

অক্ষয়কে আমার ভালো লাগে। অক-খয় বা অক-শয় –দুভাবেই বলা যায়। আমি প্রথমটা বেছে নিয়েছি, কুমার বাদ দিয়ে। কুমার, কুমারী আনন্দময়ী পাঠশালার নড়বড়ে বেঞ্চি মনে করিয়ে দেয়। সেই যে-

আনন্দময়ী পাঠশালা
(যেখানে) বিদ্যে হবে কাঁচকলা
বেঞ্চিগুলো সরু সরু
মাস্টারগুলো আস্ত গোরু’

সেইসব গোপণ্ডিতদের ল্যাজের ঝাপ্টানি খেতে খেতে ঘ্যানঘ্যানে মশার মতো এত দূর চলে এসেছি। অনেক দূর। এখন আমার অফিসের জানলা দিয়ে তাকালে আমি আর অক্ষয় মুখোমুখি। খিলাড়িয়ো কা খিলাড়ি অক্ষয়, প্যাডম্যান অক্ষয়। পাঁচতলা সমান উঁচু বিলবোর্ডে অক্ষয় আনবাটন্ড। দেখতে দেখতে আশ্চর্য হাল্কা লাগে। অনেকক্ষণ চেপে থাকার পর হিসি করলে যেমন হয়।


ব্রতীন তখন গান শোনে। কিংবা ম্যাগাজিন পড়ে কিংবা স্রেফ চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে। ওর শুয়ে থাকাটা অপেক্ষার মতো মনে হয়। কারণ রত্না আসে। এসেই ও পটাপট নাইটির বোতাম খোলে। মাথা দিয়ে টেনে বার করে ফেলে নাইটিটা, যেন ডিরেইল্ড কোন ট্রেনের জানলা দিয়ে টেনে ছেঁচড়ে লাশ বার করে আনছে। শায়ার দড়ি খোলে জাদুকরীর মতো, গিঁট ধরে কখন টান মারে বোঝাই যায় না, এমন হাতসাফাইয়ের কৌশল। এরপর ব্রা খুলতে তার একটু কষ্ট হয়। কাঁধের বরফ জমে পাথর হয়ে গেছে। ফ্রোজেন শল্ডার। দুটো হাত অনেক কষ্টে পেছনে এনে হুক খোলে। অন্ধকারে ব্রতীন কিছু দেখতে পায় না। কিন্তু কাজগুলোর ১,২,৩ জানা হয়ে গেছে, তাই বুঝে নেয় মোটামুটি। ব্রা যে খোলা হয়ে গেছে তা টের পায় খসখস চুলকনোর আওয়াজে। রত্নার দাদ নেই, তবু প্রতিদিন সমস্ত পোশাক খোলার পর সে নৃশংস উল্লাসে খাঁজ ও ভাঁজগুলো চুলকোয়। বিশেষ করে স্তনদুটির নিচে যে গাড়িবারান্দার মতো ছায়াচ্ছন্ন জায়গা তৈরি হয়েছে, সেখানে সে গভীর অভিনিবেশে চুলকোয়। চুলকোতে চুলকোতে তার বুঝি খেয়াল থাকে না, সে কী জন্যে ব্রতীনের কাছে এসেছিল। তারপর, অবাধ্য বালকবালিকারা যেমন স্নান করতে করতে, স্নান করতে করতে নিজেরাই শ্রান্ত হয়ে উঠে আসে জল থেকে, তেমনি রত্না নিজেই একসময় চুলকোনো থামিয় উঠে আসে বিছানায়, ব্রতীনের শরীরে। এতক্ষণ চুলকনোর আরাম সে এবার ব্রতীনকে ঢেলে দেয়। ব্রতীন অনেকক্ষণ শুয়ে শুয়ে সে আরাম নেয়, তারপর তার কর্তব্যবোধ জেগে ওঠে। সে নিজেকে উপুড় করে সময়মত। রত্না তখন একটা মরা টিকটিকির মতো পড়ে থাকে, অন্ধকারে।

শ্রেয়র হ্যাপি বার্থডে ছিল। বাবলগাম দিয়েছে। এই দ্যাখ ট্যাটু। এই যে গালে। স্নেক। কামড়াবে কিন্তু। সরে যা। ড্রয়িং আন্টি? আজ নয় তো। নাচের ক্লাস? তাকাদিমি তাকাঝিনু? মাকে ফোন করি দাঁড়া।
-আজ কি নাচ মা?
-হ্যাঁ সোনা, টুম্পাকে দাও। টুম্পা, মাইনে দিয়ে কার্ডটা সই করিয়ে আনবি।
-আজ সত্যি কি নাচ মা?

  • সরি সোনা, আজ গান, টুম্পাকে দাও। টুম্পা মাইনে দিয়ে কার্ডটা সই করিয়ে আনবি।
    -সেই খ্যাড়োবায়ু বয় বিগি?
    -ছিঃ সোনা, ওভাবে ভেঙ্গাতে নেই, টেগোর, গ্রেট পোয়েট, কী হল, টুম্পাকে দাও। টুম্পা মাইনে দিয়ে
    কার্ডটা সই করিয়ে আনবি
    -টুম্পা, সরি টুম্পাদি, এই দ্যাখ দেবার্ঘ্য কী লিখেছে। আই লাভ ইউ। সোহিনীকেও লিখেছে, অন্তরিকাকেও। আচ্ছা। দেবার্ঘ্য কি সান্টা ক্লজ? সব্বাইকে গিফট দেয়?
    -মা কি মোটা, না রে টুম্পা? মনে হয় ঋষভের মা আন্টির মতো পেটে একটা বেবি আছে মার। হলে হোক, তাই না রে? তুই দেশে গেলে মাকে টেনশন করতে হবে না। আমিই তো আছি। বেবি হলে আমিই টেক কেয়ার করব। খাওয়াব, পটি করাব, মা ফিরলে মাকে চা-ও করে দেব। বাবাকেও করে দেব। বাবাকে কিন্তু টুম্পা মার ঘরে একদম অ্যালাও করবি না। শিঞ্জিনী আমাকে সব বলেছে। আবার একটা বেবি হলে কে টেক কেয়ার করবে বল? আমার ওয়ার্কশিট আছে, তারপর এই খ্যাড়োবায়ু।
    -টুম্পা, একটা কথা শুনবি? আমাদের ইস্কুলের টয়লেটের দেওয়ালে কী লেখা জানিস? ইউ এস এ। আরে জিওগ্রাফি-র দেশ টেশ নয় রে! হি হি! মাকে বলবি না বল, আন্ডার স্কার্ট অ্যাডভেঞ্চার! বলবি না কিন্তু গড প্রমিস!

একখণ্ড মেঘের এপাশে আমি আর ওপাশে অক্ষয়। নিচে আনন্দময়ী পাঠশালা আর ব্যাংককের হোটেল। আমি আর অক্ষয় ওখান থেকে এত উঁচুতে উঠে এসেছি। মেঘটা একটা পোলো মিন্টের মতো, ওর ফোকর দিয়ে হাত বাড়িয়ে আমি অক্ষয়কে ছুঁলাম। ওর বোতামবিহীন জিন্সের নিচে গরম ফ্যানের দাগ, কর্নফ্লাওয়ার, টম্যাটোর টুকরো, চিকন লংকা। আমার কানে বেজে উঠল ‘বিদ্যে হবে কাঁচকলা/ বিদ্যে হবে কাঁচকলা’। আমি জিনসটা টেনে নামিয়ে দিলাম।

203