Categories
crime

হোস্টেলের বরাদ্দের ১৮ লক্ষ টাকা মেরে উধাও শিক্ষক

ওয়েবডেস্ক:  দুঃস্থ ছাত্রীদের হোস্টেলের  বরাদ্দের লক্ষ লক্ষ টাকা জাল সই করে ব্যাঙ্ক থেকে তুলে উধাও স্কুলের এক সহ শিক্ষক।উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর (১) ব্লকের শোলপাড়া হাই স্কুলের  অভিযুক্ত সহশিক্ষক সুদীপ্ত গুইঁ-এর বিরুদ্ধে গোয়ালপোখর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যসুন্দর রায়। দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

 স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর,অসহায় পরিবারের বালিকাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে সীমান্তবর্তী শোলপাড়া হাই স্কুল ক্যাম্পাস সংলগ্ন ‘কস্তরবাই গান্ধী’ বালিকা(কেজিবিভি)হস্টেল চালু হয় ২০০৮ এ। একশোজন আবাসিক ছাত্রীর থাকার পরিকাঠামো রয়েছে। গত বছর করোনা মহামারিতে আবাসিক বালিকাদের বাড়ি পাঠিয়ে হস্টেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দু’ বছর পঠনপাঠন বন্ধের শেষে মঙ্গলবার স্কুল খুলতেই হস্টেলের প্রায় সাড়ে আঠারো লক্ষ টাকা তছরূপের ঘটনা নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।এরপরই সমস্ত নথিসহ অভিযুক্ত সহশিক্ষকের বিরুদ্ধে পুলিশে দ্বারস্থ হন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।  হস্টেলের ১৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৮৮ টাকা স্থানীয় সাহাপুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে তুলেছেন বলে সহকারী শিক্ষক সুদীপ্ত গুইঁ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ। 

ওই স্কুলে প্রায় আট নয় বছর ধরে  গণিত বিভাগে কর্মরত তিনি। বর্ধমানের স্থায়ী বাসিন্দা। সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরির সুবাদে ওই স্কুল সংলগ্ন সাহাপুর এলাকার একটি  ভাড়াবাড়িতে থাকতেন।    

এদিন তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানানো হয়,সাহাপুরের ভাড়াবাড়িতে অভিযুক্ত শিক্ষকের খোঁজ মেলেনি। তবে  অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ্ত গুইঁ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সোমবার শোকজ করা হবে বলে এদিন জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) নিতাইচন্দ্র দাস জানান। তিনি আরও বলেন শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে বেতন বন্ধ করা হতে পারে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ্ত গুইন ওই স্কুলের বিভিন্ন খরচের চেকবই,পাসবই,চেক ইস্যু,চেক রেজিস্ট্রার সহ ব্যাঙ্ক লেনদেন সহ হস্টেল কর্মীদের পেমেন্টের কাজও করতেন। ব্যাপারে এদিন ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যসুন্দর রায় বলেন,” 

হস্টেল কর্মীদের মাসের সাম্মানিক টাকা প্রদানের জন্য ৫০হাজার ৬০০টাকার চেক এবং পরবর্তীতে  ৩লক্ষ ৬০০টাকার চেক সই  (চেক নম্বর ০০২৩২৯ এবং ০০২৩৮০) করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই দু’টি চেকে আমার সই জাল করে টাকার অঙ্কের নির্দিষ্ট পরিমাণ বদলে ৫০ হাজার ৬০০ টাকার বদলে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়। দ্বিতীয় চেকে ৩ লক্ষের বদলে ৮ লক্ষ টাকা করে একইভাবে সই জাল করে টাকা তোলা হয়।” 

 ইসলামপুর পুলিশ সুপার সচিন মক্কার বলেন,” অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।”

554

Leave a Reply