‘বাঁশি থেকে তীর’- শ্রদ্ধায় স্মরণে বিপ্লবী বিরসা মুন্ডা

গৌতম দাস

ইংরেজ ও তার দোসর জোতদার জমিদারদের দীর্ঘকালের লাগামহীন শোষণ অত্যাচার থেকে আদিবাসী মুন্ডাদের মুক্তির জন্য ভারতবর্ষের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডা। ১৮৭৫ সালের ১৫ই নভেম্বর এই মহান আদিবাসী নেতার জন্ম বিহার তথা বর্তমান ঝাড়খন্ড রাজ্যের খুঁটি জেলার উলিহাতু গ্রামে। আজ সেই মহান বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার ১৪৬ তম জন্ম জয়ন্তী। আদিবাসীদের জমি দখলের বিরুদ্ধে এবং মুন্ডাদের নিরক্ষরতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন অলৌকিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন মুক্তির পথ প্রদর্শক। তিনি প্রথমেই তীর ধনুক হাতে তুলে নেন নি। কৈশোরে তার হাতে থাকতো একতারা আর কোমরে গোঁজা থাকতো বাঁশি কিন্তু অধিকারের লড়াইয়ে তিনি হাতে তুলে নিলেন তীর ধনুক। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুন্ডাদের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি সিং বোঙ্গা পূজার প্রচলন করেন। তিনি গঠন করেছিলেন একেশ্বরবাদী মুন্ডা ধর্ম। লোকের মুখে বিরসা হয়ে উঠেছিলেন “ধরতি আবা” অর্থাৎ “জগৎ পিতা”। তার নেতৃত্বেই মুন্ডারা শোষণমুক্ত নতুন সকালের স্বপ্ন দেখার সাহস করে। ছোটনাগপুর, রাচি, সোনপুর, জঙ্গলমহল জুড়ে আদিবাসীদের জমি দখলকারী অত্যাচারী ইংরেজদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ উত্থান শুরু হয়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুন্ডাদের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি সিং বোঙ্গা পূজার প্রচলন করেন। ইংরেজদের মোকাবিলা করার জন্য বন্দুক, গোলাবারুদের বিরুদ্ধে তীর ধনুক নিয়ে সম্মিলিত হয়। শুরু হয় বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহকে মুন্ডারী ভাষায় বলা হয় ‘উলগুলান’ যার অর্থ ‘প্রবল বিক্ষোভ’। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে বিদ্রোহীরা পরাজিত হলে বিরসা মুন্ডা গা ঢাকা দেন। অনেক খোঁজ করার পর ১৯০০ সালের ৩রা মার্চ ইংরেজদের হাতে গ্রেপ্তার হন বিরসা মুন্ডা। ৯ জুন রাঁচিতে কারাগারেই শহীদের মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জেল কর্তৃপক্ষের তরফে কলেরায় মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। আজও বিরসা মুন্ডার স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াইয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।

381