কুলিক রোববার : গল্প : একমাত্রিক

অঞ্জন রক্ষিত

১.

-অ্যাই কি রে বাবু কি হল? এমন চিৎকার করছিস কেন?
মৈনাক শুনতে পাচ্ছে সবই বাবা মা খাটের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু হাত-পা যেন অসাড়, জিভ নড়ছে না। কিছু বলার ক্ষমতাও নেই।
-একটু ধাক্কা দাও তো।বাবা বলছে।
মৈনাক বুঝতে পারছে, তবুও কিছু করার নেই। নীরা একবার ধাক্কা দিতেই সব যেন ঠিক হয়ে গেল। যে জগদ্দল পাথরটা বুকের ওপর চেপে বসেছিল সেটা সরে গেল। এতক্ষণে মৈনাক ঘেমে নেয়ে একসা।ঘরের লাইটটাও জ্বলে উঠেছে কিন্তু সেদিকে তাকানো যাচ্ছে না।
-লাইটটা নিভিয়ে দাও।
-এখন ঠিক আছিস তো? কি রে বোবায় ধরেছিল নাকি?
-ঠিক আছে যাও তোমরা শুয়ে পড়ো।
-হাত-মুখটা মুছে নিয়ে ঘুমো, নে। ঘেমে গেছিস তো।বরুণ বলল।
মৈনাক বাবার কাছ থেকে তোয়ালাটা নিয়ে মুখটা মুছে নিল।
-ঠিক আছে যাও। লাইটটা অফ করো, চোখে লাগছে।
নীরা লাইটটা অফ করে দিল। বরুন বলল,
-কাল ওর বালিশের তলায় গুরুজির প্রসাদী ফুল রেখে দিও তো। কি যে হয় ছেলেটার ঘুমের মধ্যে…….
তিনটে সতেরো, মৈনাক মোবাইলের স্ক্রিনে দেখল। এ সি টাকে একটু বাড়িয়ে একুশে নিয়ে এলো। কিছুদিন ধরে এরকমটা মাঝে মাঝেই হচ্ছে ,রাত আড়াই থেকে তিনটের মধ্যে। বুকের মধ্যে কি যেন একটা চেপে বসে। হ্যালুসিনেসনের মতো হয়। হ্যালুসিনেসনের বেশিরভাগই ঘটে পিয়ালিকে নিয়ে।

পিয়ালি বছর আটেক আগে উঠতি মডেল হিসেবে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখে তখনই সে বিক্কি ওয়াদিয়ার নজরে পরে। বিক্কি ওয়াদিয়া, জাতিতে পারসি কিন্তু চার পুরুষ ধরে তাদের কোলকাতায় বাস। বিদেশি মদ থেকে শুরু করে মোট আটাশটি ব্র্যান্ডের পানীয়ের সুবিশাল ব্যাবসার সাম্রাজ্য, যা ছড়িয়ে রয়েছে ভারতসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সবকটি দেশে। পিয়ালি তখন দুএকটি মেগা সিরিয়ালে কাজও শুরু করেছে। এইসময়ই পিয়ালির কাছে অফার আসে ওয়াদিয়া এন্ড ওয়াদিয়া কোম্পানির ব্র্যান্ড এম্বাসাডার হবার। পিয়ালি যেন হাতে চাঁদ পেল। এই অফার লুফে নিতে পিয়ালি একফোঁটাও দেরি করেনি। মৈনাক তখন মিউজিকের ছোটখাট কাজ করে। কয়েকটি এড এজেন্সিতে ভালো কাজ করেছে। কয়েকটি মেগাতে ভাল মিউজিক দিয়েছে। ব্র্যান্ড এম্বাসাডার হবার পর পিয়ালির সাথে বিক্কির ঘনিষ্ঠতাও বাড়ে, যা ক্রমশ গড়ায় প্রেম থেকে পরিণয়ে। মৈনাক তখন একটি ছবিতে এসিস্টেন্ট মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছিলো, সেই সূত্রেই পরিচয় হয় পিয়ালির সাথে। অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে পিয়ালির। বিক্কির মনে সন্দেহও বাড়ে বিভিন্ন অভিনেতাদের সাথে পিয়ালির সম্পর্ক নিয়ে। একটা সময় বিরক্ত হয়ে পিয়ালি বিক্কির বাড়ি ছেড়ে চলে আসে, নিজের বাড়িতেই থাকতে শুরু করে। এসব তখন রীতিমত টলি পাড়ার রসালো গল্প হয়ে উঠেছে। কিছুদিন পর অবশ্য কাজের সুবিধার জন্য গড়িয়ায় একটি ফ্ল্যাট নিয়ে নেয় পিয়ালি। পিয়ালি এবার পাকাপাকিভাবে বিক্কির সাথে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। কিন্তু দুটি ভিন্ন ধর্মের বিয়ে হওয়ায় আইনগত সমস্যা দেখা যায় বিবাহ নিবন্ধিকরন এবং বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায়। এদিকে একসাথে যাতায়াতের সূত্রে মৈনাকের সাথে পিয়ালির সখ্যতা বাড়ে। পিয়ালি মুক্ত পাখির মতো মৈনাকের সঙ্গে একসাথে ঘুরে বেড়িয়েছে, একাত্ম সময় কাটিয়েছে। মৈনাক অসুস্থ হলে বা বেশি রাত হয়ে গেলে পিয়ালি আর মৈনাককে ছাড়ত না । রাতে পিয়ালির ফ্ল্যাটেই থেকে গেছে। দুজনের মাঝে যেন আইনি বিচ্ছেদটাই হয়ে উঠেছিল একমাত্র কাঁটা। সেসব দিনের কতো কথা। মনে করতে করতে মৈনাক আর দুচোখের পাতা এক করতে পারে না। গত তিনবছর ধরে প্রতিটি রাত একটাই কারণ খুঁজতে খুঁজতে কাটিয়েছে-পিয়ালি কেন এমন করলো এটা কি ওর প্ল্যানিং,ভয় নাকি শুধুই পাগলামো।

-বিক্কির সঙ্গে থাকলে আমি কোনদিনই মা হতে পারবো না। ও আমাকে পছন্দই করে না, ঘেন্না করে,সবসময় সন্দেহ করে।
মৈনাকের ভীষণ কষ্ট হয়েছিলো পিয়ালির কথাটা শুনে। সে আর কি বা করতে পারে,তার যে হাত,পা বাঁধা কারণ পিয়ালি তখনও আইনত বিক্কির স্ত্রী। আবার পিয়ালিই নিজের মুখে বলেছে,
-আমি শুধু মা হতে পারলে তোমাকে আর দরকার হত না।
মৈনাক পিয়ালির কথায় একরকম স্তম্ভিত হয়েছে। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলো। পিয়ালির অনেক জিজ্ঞাসার পর বলেছে,
-তুমি মা হতে চাও, আমার প্রয়োজন কি শুধু এটুকুই?
-এ মা তা কেন?

  • তুমিই তো বললে মা হতে পারলে আমাকে আর দরকার হত না।
    এবার পিয়ালি নিজের ভুলটা বুঝতে পারে,দুচোখ জলে ভরে আসে।
    -তুমি জান না আমি কি জীবন কাটাচ্ছি? তোমার কি মনে হয় যে আমার এতবড় একটা স্বপ্নপুরণ করবে তাকে আমি দূরে ঠেলে দেব? এটুকু বিশ্বাস নেই আমার ওপর তাহলে এলে কেন?
    -তোমার ওপর বিশ্বাস আছে কি নেই তার প্রমাণ কি তুমি পাওনি?
    -নাহয় কথাটা মুখ ফস্কে বলে ফেলেছি,সেজন্য একমুহূর্তে এভাবে দূরে চলে গেলে?
    -কি আশ্চর্য! দূরে কোথায় চলে গেলাম। এ অভিজ্ঞতা আমার জীবনে একদমই নতুন।
    -তাহলে নতুন মানুষের সাথে সম্পর্ক করলেই পারতে, পুরনো মানুষের সঙ্গে জড়ালে কেন?
    -মানুষের আবার নতুন পুরনো হয় নাকি পিয়ালি? তুমি যে কতটা ভুল তা সময় হলেই বুঝতে পারবে।
    -মৈনাক,আমার খুব ভয় হয়। কবে আইনের জাঁতাকল থেকে মুক্ত হব জানিনা। বয়স চলে গেলে আমি যে আর মা হতে পারব না। তাই এরকম বলি,তুমি বোঝ না কেন?
    বলতে বলতে পিয়ালি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। মৈনাক অসহায়ের মতো জড়িয়ে ধরল। কিছুতেই পিয়ালিকে বোঝাতে পারেনা যে সে পিয়ালিকে ঠকাবে না বা ছেড়ে যাবে না। শুধু একটা জটিলতার কারণে সে সম্পর্কটা নিয়ে এগোতে পারছে না। এসময় সন্তান এলে সে কি পরিচয় নিয়ে বড় হবে? ওর জীবনটাকে দুর্বিষহ করে ফেলার কি কোন মানে হয়? মৈনাক আরও বলে যে এসময় মেডিক্যাল সায়েন্স অনেক উন্নত হয়ে গেছে। পিয়ালির চেয়ে বেশি বয়সের মেয়েরাও মা হয়েছে। মৈনাককে শুধু শুধুই দোষারোপ করছে। মৈনাকের মধ্যেও একটা সুপ্ত বাবা লুকিয়ে আছে। তার প্রাণ ও যে কাঁদে পিয়ালি সেটা দেখতে পায় না। পিয়ালির সন্দেহ আরও যেন দিন দিন ঘনীভূত হয়। পিয়ালি নিজের মনে এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে যে মৈনাক শুধু তাকে নিয়ে খেলেছে,তাকে ব্যবহার করেছে। পিয়ালি বলে দেয়,
    -শুধু পিয়ালি কেন তুমি কোন মেয়ের সাথেই থাকতে পারবে না।
    চারিদিকটা কেমন যেন অন্ধকার হয়ে গেছিলো। বিভিন্ন কারণে দুজনের জটিলতাগুলো বাড়তেই থাকে। কিন্তু এসময়ে আইনি জটিলতা গুলো কেটে যায়। এমনকি পিয়ালির সাথে বিক্কির ডিভোর্স টা হয়েই যায় শেষমেশ। তবে মৈনাক আর পিয়ালি স্বাভাবিক হতে পারে না। ডিভোর্সের পরই বিয়ে করা যায় না। অন্তত ছয়মাস অপেক্ষা করতে হয়। আইন এরকমই কথা বলে।মৈনাক এই কথা বললে পিয়ালি ভাবে যে মৈনাক একটা প্রতারক। পিয়ালির বাড়িতে একথা বলতে গেলে পিয়ালির দিদি বলে,
    -কর্তব্য দেখাতে এসেছ?
    তারপর মৈনাকের আর কিছু বলার বা বোঝাবার ইচ্ছে করেনি। পিয়ালির মানসিক অবস্থা হয়তো ভালো নেই ।সে খুব আশা করেছিল যে ওদের বাড়ির লোক হয়তো তাকে বুঝতে পারবে। পিয়ালি বলে,
    -যেটুকু সম্মান আছে সেটুকু নিয়েই বিদায় হও। আর এরকম দুমদাম করে একদম বাড়ি চলে আসবে না। নিজের সম্মান নিজের কাছে রাখ।
    তারপর মৈনাক একরকম চুপচাপই হয়ে গেছিল। বুঝতে পারছিল না কি করা ঠিক হবে।পিয়ালীর প্রতি একটা ভয় জন্ম নিয়েছে, সেটা যেন পানের পিকের মত বারবার গায়ে এসে পরে। সবটাই তাই পিয়ালির ওপর ছেড়ে দেয়। যদি মৈনাককে বুঝে সে ফিরে আসে তো আসবে। বলে বলে ,বুঝিয়ে বুঝিয়ে কারও কাছ থেকে কততুকুই বা ভালবাসা পাওয়া যায়, পেলেও কতক্ষণই বা তা থাকে। অনেকদিন হল পিয়ালির সাথে দেখা হয়নি। এদিকে ডিভোর্সেরও ছয়মাস পার হয়ে গেছে, পিয়ালির সাথে বিয়েতে আর কোন আইনি বাঁধা রইল না। কিন্তু পিয়ালিও যেন পরে পরে শুকিয়ে গেছে,আর প্রাণ নেই। মৈনাকের ওপর বিশ্বাস নেই। কয়েক মাসের দুরত্ব আরও যেন সব বিষিয়ে দিয়েছে ।মুখে যাই বলুক না কেন পিয়ালি চেয়েছিল মৈনাক তার কাছেই থাকবে।মৈনাক যে দূরে গিয়েও আরও কাছে থেকেছে পিয়ালি তা খেয়ালই করেনি। উল্টে আরও বলেছে,
    -তুমি আমার মানসিক সমস্যা আর বাড়াতে এসো না তো। একটা সময় তবুও তোমার প্রতি শ্রদ্ধা ছিল………. ।আমাকে একদম দয়া দেখাতে এসো না।
    এ কি! এত প্রিয়,এত প্রাণের ,এত কাছের পিয়ালি!! আমার প্রতি আর শ্রদ্ধা নেই!!মৈনাক ভাবতে থাকে। বরুণ একদিন জিজ্ঞাসা করে,
    -কি রে পিয়ালি কিছু বলল
    -আরেকটু অপেক্ষা করো না, ওর শক টা কেটে যাক সব ঠিক হয়ে যাবে।

‘আমারই মত তুমি পাগলিনী হইও….’পিয়ালি এরকম কিছু চেয়েছিল কিনা জানা নেই কিন্তু এতদিন যে অস্থিরতায় পিয়ালি ভুগেছে তা যেন ক্রমশ মৈনাককে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলেছে। এরমধ্যে পিয়ালি দু একবার ফিরে আসতে চাইলেও মৈনাক বুঝতে পারেনা পিয়ালি তাকে নিয়ে সুখী হতে চায় নাকি সবটাই শুধুই হুজুগের বশে। পিয়ালির বাড়ির মানুষগুলোর নীরবতা এই অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। বাবা মা, বন্ধুবান্ধব, ইন্ডাস্ট্রির সকল শুভানুধ্যায়িরা বারবার চেষ্টা করেও দুজনের মধ্যেকার অন্ধকার ঘোচাতে পারলো না। টলি পাড়ার গুঞ্জন মৈনাকেরও কানে আসে পিয়ালির নাকি বিয়ে, এক ডাক্তার পাত্রের সঙ্গে । হয়ত পিয়ালির বিয়েটা হতেও পারতো। কিন্তু তারপর কোন উচ্চবাচ্য আর মৈনাকের কানে আসে না। বরুন আর নীরা মৈনাকের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা অজরা আশা নিয়ে বসে আছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে সকাল হয়ে গেল। ঘুমের সমস্যাটা ইদানিং মৈনাকের প্রচণ্ড বেড়েছে। একটা পিলে কাজ না হলে মাঝরাতে উঠে আবার খায় আরেকটা। একটু ঘুম এলেও এরকম স্বপ্ন আসে আকছারই। পিয়ালির অবসেশনটা যেন কিছুতেই কাটে না। মাঝে মাঝেই রাতে এরকম স্লিপিং পারালাইসিসে চলে যায়। হাত পা বেঁধে যেন গুন্ডারা পিয়ালিকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে,কিংবা পিয়ালির দাদা মারতে মারতে মৈনাককে মাটিতে ফেলে দিয়েছে।এছাড়াও পিয়ালি তাকে জড়িয়ে ধরেছে কিন্তু তারপরই পিয়ালি যেন শক্ত পাথরের মত হয়ে গেছে,মৈনাক কিছুতেই যেন আর নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারছে না।তারপর গোঙাতে শুরু করে। পাশের ঘর থেকে তখন বরুন আর নীরা ছুটে আসে। তাই এখন আর দরজায় ছিটকিনি দেয় না। মৈনাক বিছানা ছেড়ে ব্যাল্কনিতে এসে দাঁড়িয়ে আছে। ভাবছে পিয়ালিকে একটা ফোন করবে কিনা, অনেকদিন তো কোন যোগাযোগ নেই। কিন্তু আবার সংকোচ করছে কি প্রতিক্রিয়া যে দেবে। এরকম দোটানায় ভুগতে ভুগতেই ফ্রেশ হল। মৈনাকের এখন আর বেশি কথা বলতে বা শুনতেও ইচ্ছে করে না। কেউ বললে যতটুকু শোনার শোনে তারপর মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে আওয়াজে,তখন উঠে চলে যায় বা নিতান্তই ওঠার উপায় না থাকলে আর কানে ঢোকায় না কোনকিছু। অনেকটা শীর্ণকায়,ধীর,স্থির।এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা চার্জ থেকে খুলে পিয়ালিকে ডায়াল করলো।
-হ্যালো।
-গুড মর্নিং। মৈনাক বলছি।
-কি বলবে।
-নতুন কিছুই না, তুমি কি আমাকে নিয়ে আরেকবার ভাববে?
-উফ! আবার? যা বলার তো বলেই দিয়েছি অনেকদিন আগেই। শোন আমি এখন আর কোন স্বপ্ন দেখি না। তুমি আর যোগাযোগ কোরো না। এবার নাহলে ব্লকই করে দেব।
-আমি তোমাকে বেঁধে রাখিনি পিয়ালি। আমি হয়তো আর কিছু বলবোও না।
-আমাকে মুক্তি দাও।

  • বাষ্পের উষ্ণতা আর রোদের তাপের পার্থক্যটা বুঝলে না পিয়ালি।
    মৈনাক ফোনটা কেটে দিলো।

এখন রাত দুটো বিয়াল্লিশ। মৈনাকের শরীরটা কেমন গরম হয়ে উঠছে। ও একটা সবুজ মাঠে শুয়ে আছে,মৃতের মতো।কোন উত্তেজনা নেই। একটা গোল পৃথিবী নাক দিয়ে শরীরের ভেতরে ঢুকে গেল। ভেতরে গিয়ে আর বড় হচ্ছে পৃথিবীটা। হাত, পা আর মাথা বাদে গোটা শরীরটাই কেমন গোল বেলুনের মত ফুলে উঠছে। মৈনাকও আরও হালকা হয়ে গেছে। তুলোর মতো ভাসছে। তার পাশে এসেছে দুটো কিম্ভুত শিশু, কিছুটা মানুষের মত আবার মানুষও নয়। একটা লেজ,নাকটা লম্বা, হাতদুটো পাখির পায়ের মত, ভাষা অস্পষ্ট। কিন্তু চোখ দুটো সুন্দর, চোখ দেখে সব ভাষা পড়ে ফেলা যায়। ওরা একটা সাইনবোর্ড এনেছে। কি লেখা বোঝা যাচ্ছে না। ওদের চোখ দেখে মৈনাক বুঝতে পারছে ওরা বলছে সাইনবোর্ডটা ঝোলানোর জায়গা পাচ্ছে না,ওরা একটু দেরী করে ফেলেছে। ওরা শেষে মৈনাকের গলায় সাইনবোর্ডটা ঝুলিয়ে দিল। ওরা দুজন মৈনাকের দুটো হাত ধরতেই মৈনাক যেন একটা প্রশান্তি অনুভব করল যা বিগত কবছর সে পায়নি। ধীরে ধীরে এবার ওদের ভাষাও মৈনাক বুঝতে পারছে। সাইনবোর্ডটিতে লেখা। ” প্রবেশ নিষিদ্ধ “।

278