Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি ৩০

সাধন দাস

তিনি গোপালের মাথায় হাত রেখেছিলেন।

দুর্দান্ত সূর্যের বৈশাখ এলেই আমরা পড়িমরি রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অধ্যাপক, এক কবি শ্রীশঙ্খ ঘোষ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ক বিশেষ বিশেষজ্ঞ ছিলেন, এখন থেকে মনে পড়বে। 

আমার মনে পড়বে, ঈশ্বরচন্দ্র ফ্ল্যাটবাড়ির এক দরজায় গোপাল (রৌরবের সহ সম্পাদক, স্থান কাল পাত্র মানামানি নেই ফণা আর ফেণা তোলা তার্কিক। সেজন্যে আড্ডায় বদর বদর) আর আমি দাঁড়িয়ে। রৌরবের জন্য কবিতা চাই। কিন্তু অসময়। তিনি নেই। আমাদের আর তাঁর সময় কিছুতেই মিলছে না। আসি আর ফিরে যাই। অপূর্ব অভিজ্ঞতা, ক্লান্ত হই না, বিরক্ত লাগে না। বরং আসার পথে টগবগ করি। তাঁর মার্চিং সং গাই। “ নেই কোন সন্ত্রাস / ত্রাস যদি কেউ বলিস তাদের / ঘটবে সর্বনাশ/ ঘাস বিচালি ঘাস / ঘাস বিচালি ঘাস!…  

উল্টোডাঙা রেলস্টেশন থেকে তাঁর দরজা পর্যন্ত কবিতায় কবিতায় জলবৎ তরলং করে ফেলি। ইচ্ছা, মানুষটিকে দু’চোখ ভরে দেখবো, প্রাণভরে শুনবো। তর্কগ্রস্থ গোপাল উল্টোপাল্টা কিছু করবেই। এমন মানুষের কাছে সবার কিছু না কিছু মানসিক থাকেই। আমারটা না ভণ্ডুল করে দেয়। পথময় ওকে হুমকি দিয়ে রেখেছি।  

মনের মতো আলাদা করে দেখা হলো না। হলো, এক রোববার সকালে, বৈঠকখানার আড্ডায়। যা ভেবেছি! চেনা নেই, শোনা নেই, সামনে আকাদেমী পাওয়া মানুষ, গোপাল শুরু করে দিলো। – শঙ্খদা, স্প্রাং রিদম মানে স্প্রাং ছন্দ সম্পর্কে কিছু জানেন? 

‘ছন্দের বারান্দা’র লেখক মিটিমিটি হাসছেন। পিছন থেকে চিমটি কাটছি। বদর থামতে জানে না।  

মৃদু গলায় কবি জিজ্ঞেস করলেন- স্প্রাং রিদমের বাংলা কী? 

গোপাল গলা বাজিয়ে বললো- এর বাংলা হয় না। 

আর পারলাম না। এবার রাম চিমটি। 

কবি বললেন- না, এ রকম ছন্দের নাম শুনিনি।

আমার দিকে ফিরে বললেন- রৌরবের ‘বার বছর’ বেরিয়েছে। ‘স্ট্যালিন সংখ্যা হলো, রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কিছু ভাবছেন? রৌরবের রবীন্দ্র ভাবনা জানতে খুব ইচ্ছে করে। কানমাথা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠলো। গোপাল কী বলেছিলো, জানি না। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আমাদের কোনো ভাবনাই ছিলো না। মাথা নিচু করে নিয়েছিলাম। তিনি গোপালের মাথায় হাত রেখেছিলেন। 

সাধন দাস               

25

Leave a Reply