Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি : ২৯

সাধন দাস

নাটাতলার মোড়

যে সমস্ত সন্ধ্যেয় পেটরোগা বুড়োদের পুরণো ঢেকুর চাগিয়ে ওঠে আর নাটাতলার তেলেভাজার ফুটন্ত ঘ্রাণ জিভে সপসপায়, যদি ফুলুরির লঙ্কা অচিন কামড়ে জিভে পড়ে, আহ! প্রেমিকার চিমটির মতো জ্বলে উঠে দেহে নেশার ঝিম ধরায় তখন প্রেমিকাহীন যুবকেরা নাটাতলার মোড়ে ছুকছুক করে। পরকীয়ার মতো নজ্জুলের তেলেভাজার ঢপের আগুন ঢাকা অন্ধকারে জগার বাংলুর ঠেক। এ তল্লাটে কামড় ও চুমুকের এটাই একমাত্র সঙ্গম। 

চুমুকের জ্বালা মিটিয়ে সমীরণ বেরিয়ে আসার আগেই আমি সাঁই দু’ঠোঙা পেঁয়াজি, ফুলুরি আর আলুরচপ সাজিয়ে মোহন হাউসের মাঠে হাত পা চিতিয়ে শুয়ে থাকি। ও চুমুকের আমি রূপার বিরোহী প্রেমিক। পাশাপাশি আমাদের জোড়া বুকের উপর নেমে আসা তারা ভর্তি আকাশ যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করে, সন্ধ্যে নাগাদ আপনারা গেলে আজও শুনতে পাবেন, মোহন হাউসের মাঠে প্রেমের গল্প ম ম করে।

দুই চিৎপটাং প্রেমিকের রোমান্টিক প্রেরণা পেয়ে রৌরবিয়ানরা যখন মোহন হাউসের মাঠে, দু’ একজন বাদে, উঁচু সম্পাদক, মোটা সাংবাদিক, প্যাংলা, কালো, খিস্তিবাজ হরেক কবি, বকাটে গল্পকার সবাই চুমু চুমুকে টলটলায়মান হয়ে রেগুলার গোল মিটিংয়ে বসছে, সেদিন সাংবাদিকের কাছেও খবর ছিলো না, নাটাতলা রেইড হবে। হল্লাগাড়ির হর্ণ, জগার কলসি ভাঙার আর্তনাদ, নজ্জুলের তেলেভাজার কান্না তখনও আমাদের বিচলিত করতে পারেনি। 

পিছনে হঠাৎ দুপদাপ, হৈ হৈ মাতাল তাড়ানো আওয়াজ- তোল তোল যাকে পাবি হল্লাগাড়িতে তোল। 

বোতল লুকোতে পারলেও মুখে টর্চের আলো ঠেকাতে পারিনি। রুমাল, পাঞ্জাবির খুঁট, হাতের তালু লজ্জার মাপে খুব ছোটো মনে হচ্ছিলো। জড়ানো গলায় সাংবাদিক একবার হুঙ্কার পেড়েছিলো- ক্কে বে? 

– তোর ব্বাপ, বলেই এক হাত জিভ কেটে তরুণ এস আই কাচুমাচু- স্যর আপনারা! ছিঃ ছিঃ! আপনাদের শ্রদ্ধা করতাম।

বলে, আমাদের ফেলে প্রায় পালিয়ে গেলো। 

51

Leave a Reply Cancel reply