Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি : ২৮

সাধন দাস

তুমি হয়েছো 

২৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯। মণীশ ঘটক মারা গেলেন। চরাচর ডুবলো অন্ধকারে। একমাত্র আলোর শিখা, চিতার লেলিহান। শেয়াল ডেকে উঠলো খুব কাছে। ইউক্যালিপটাসের মোহিনী অরণ্যে উই দ্য রৌরবিয়ানস- গ্যাঁজা, কেউ খেয়ে, কেউ না খেয়ে টঙ। গঙ্গার কালো কাল প্রবাহিনী স্রোত ও আমরা কুয়াশাময় জ্যোৎস্নায় ভিজে চলেছি। চাঁদুর কোলে আমি, আমার কোলে শান্তিময়, শান্তিময়ের- পর পর কোলে কোলে শুয়ে শুয়ে কাজল, কমল, নাসের গোল হয়ে। মাঝখানে সমীরণ, বসে, মেরুদণ্ড উলম্ব, মাথা উঁচু। এক হাত কানে আর এক হাত টানটান দীর্ঘ শশ্মান-ভেদী। উদাত্ত গলায় গাইছে- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু বিরহ দহন লাগে। /  তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে …।   

আমি ইকনোমিক্স অনার্স, ম্যাথমেটিক্স। চাঁদু স্কুল ফাইনাল থার্ড ডিভিশন, রাত আর জ্যোৎস্না তছনছ করে বোঝালো, মিলিটারিয়াইজেশন অফ দ্য ইকোনোমি; বস্তুনিষ্ঠ আলোর মতো স্বচ্ছ ভোরের দ্বান্দ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। শোকের ঘোর কেটে আমাদের তখন দৃষ্টি পলক খুলে যাচ্ছে। 

গঙ্গার স্রোতে স্নান করা চোখে অনেকক্ষণ তোমার ছবি দেখলাম। সরল নিষ্পাপ বুদ্ধীদীপ্ত কিশোরী। চিঠি লিখলাম, কেনো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে, কেনো রাস্তার ধারের, কেনো তোমাদের ছোটো ছোটো দোকান ধুলিস্যাৎ করতে হয়। কেনো আশি ফুটের রাস্তা বানাতে হয়?  কেনো তোমাকে অন্নহীন আমানির পানি খেয়ে রাত জেগে বই পড়তে হয়। বইয়ের লুকানো পাতা থেকে কেনো কান্না, কেনো প্রেম নেমে আসে ছাদহীন পথে, কেনো নেমে আসে শিল্পে সাহিত্যে রাজনীতিতে। 

রূপা লিখে পাঠালো, আমানি খেয়ে যদি আজ বাঁচি, কাল দেখা হবে! হবে কিনা জানি না! এবারে খামের মধ্যে অনেকগুলো ইনল্যাণ্ড লেটার পাঠিও। 

তাহলে অঙ্ক কষার জন্য চিঠির মাপে সাদা কাগজ বাঁচাতে পারবে। তোমাকে কুড়িয়ে আনা ওয়েস্ট পেপারে পেনসিলে লিখতে হয়, মুছে আবার লিখতে হয়, মুছে মুছে যখন আর পেন্সিলে লেখা যায় না, তখন পেনের কালিতে অঙ্ক কষে নিয়ে যাও স্কুলে। তারপরও  নির্মম আমি চাই, চাইই, তুমি ফার্স্ট হও। হয়েছো। 

46

Leave a Reply